তাঁতের সাহায্যে টানা ও পড়েন সুতার পারস্পরিক সমকৌণিক বন্ধনকেই বুনন বলে।
সুতা হচ্ছে বুনন বা নিটিং প্রক্রিয়ার মূল উপকরণ। সুতার মূল উপাদান হচ্ছে তন্তু। তত্ত্ব সমানভাবে লম্বা করে একত্রে পাক বা মোচড় দিলে সুতা উৎপাদিত হয়। অন্যভাবে বলা যায় যে, বস্ত্র উৎপাদনের জন্য একগুচ্ছ তত্ত্বকে পাঁক বা মোচড় দিয়ে একত্রে সন্নিবেশ করে যা তৈরি করা হয় তাই সুতা।
উদ্দীপকের ১নং চিত্রের বয়ন পদ্ধতিটি সাদাসিধে বুনন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে তৈরি কাপড় ময়লা হলে পরিষ্কার করা অনেক সহজ হয়। দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র উৎপাদনের জন্য বয়ন পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। বাজার থেকে আমরা যেসব লংক্লথ, ভয়েল, পপলিন কাপড় কিনে থাকি সেগুলো মূলত সাদাসিধে বুনন প্রক্রিয়ার উৎপাদিত হয়। এ বুননের মাধ্যমে গামছা, লুঙ্গি, তাঁতের শাড়ি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। বস্ত্র বয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সবচেয়ে সহজ বুনন হচ্ছে এটি। এ বুননে একটি পড়েন সুতা একটি টানা সুতার উপর নিচ দিয়ে অতিক্রম করে। বুননে টানা ও পড়েন সুতাগুলো অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করে, ফলে কাপড় খুব মৃসণ ও টেকসই হয় এবং কাপড়ের উপরিভাগ রং করা ও ছাপার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হয়। এ ধরনের কাপড় ময়লা হলে চোখে পড়ে ফলে সহজেই পরিষ্কার করে নেওয়া যায়।
আমরা জানি, ১নং চিত্রের বয়ন পদ্ধতিটি হলো সাদাসিধে বুনন পদ্ধতির কাপড়। এ পদ্ধতির কাপড় ছাপা নকশার জন্য বেশ উপযোগী। কিন্তু ২নং চিত্রের বয়ন পদ্ধতিটি হলো টুইল বুনন পদ্ধতির কাপড়। এ বুননে পড়েন সুতা টানা সুতার মধ্য দিয়ে এমনভাবে চলাচল করে যে কাপড়ের উপরিভাগে কোনাকুনি একটি ভাব ফুটে ওঠে, যাকে তেরছা বুননও বলে। এ ধরনের বুননের বস্ত্রের কাপড় ছাপা নকশার জন্য উপযোগী নয়। এ বুননের কাপড় বেশ মজবুত হয়। ময়লা পড়লে সহজে বোঝা যায় না। তবে যখন বোঝা যায় তখন ময়লা পরিষ্কার করা সাদাসিধে বুননের মতো সহজসাধ্য হয় না। অন্যদিকে, সাদাসিধে বুননের বস্ত্রের কাপড়ে খুব সহজেই ছাপা নকশার কাজ করা যায়। কারণ এ বুননে একটি পড়েন সুতা একটি টানা সুতার উপর নিচে দিয়ে অতিক্রম করে। বুননে টানা ও পড়েন সুতাগুলো অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করে, ফলে কাপড় খুব মসৃণ ও টেকসই হয় এবং কাপড়ের উপরিভাগ রং করা ও ছাপার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হয়। সাদাসিধে বুনন প্রক্রিয়ায় লংক্লথ, ভয়েল ও পপলিন কাপড় উৎপাদিত হয়। এছাড়া এ বয়ন পদ্ধতিতে গামছা, লুঙ্গি, তাঁতের শাড়ি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়।
Related Question
View Allহেকলিং ফ্ল্যাক্স বা লিনেন সুতার জন্য প্রয়োজন। লিনেন সুতার ক্ষেত্রে কম্বিং প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয় না। এ পরিবর্তে কম্বিং-এর অনুরূপ যে প্রক্রিয়াটি প্রয়োগ করা হয় তাকে বলে হেকলিং। খুব মিহি সূতা পেতে হলে লিনেনের তত্ত্বগুলোকে লম্বা হতে হয় এবং ফ্লাইভারে তত্ত্বর অবস্থান সমান্তরাল হতে হয়। তাই এমন সুতার জন্য লিনেনে অনেক বেশি হেকলিং-এর প্রয়োজন হয়।
ফ্ল্যাক্স বা লিনেন সুতার ক্ষেত্রে কম্বিং-এর অনুরূপ যে প্রক্রিয়াটি প্রয়োগ করা হয় তাকে বলে হেকলিং। খুব মিহি সুতা পেতে হলে লিনেনের তত্ত্বগুলোকে লম্বা হতে হয় এবং স্লাইভারে তন্তুর অবস্থান সমান্তরাল হতে হয়। তাই এমন সুতার জন্য লিনেনে অনেক বেশি হেকলিং-এর প্রয়োজন হয়।
বিভিন্ন তন্তুর মধ্যে সুতা তৈরির পদ্ধতিও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কার্ডিং বলতে বোঝায় তুলা, ফ্ল্যাক্স ও পশম ইত্যাদি তন্তুর ক্ষেত্রে সুতা তৈরির প্রথম পর্যায়কে। এ পর্যায়ে অর্থাৎ কার্ডিং করার সময় তন্তু থেকে ধূলাবালি, আগলা ময়লা ও অতিরিক্ত খাটো তত্ত্বগুলো দূরীভূত হয়।
সাটিন বুননের বস্ত্র নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সাটিন বুননে শির রেখাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে না। এ বুননের সময় পড়েন সুতাটি একটি টানা সুতার উপর এবং চারটি বা তার অধিক টানা সুতার নিচ দিয়ে চলাচল করে। এ বুননের কাপড় দিয়ে সাধারণত সালোয়ার, কামিজ, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফ্রক, পর্দার কাপড় ইত্যাদি পোশাক তৈরি হয়। এছাড়া কোট, স্যুট ও সেরওয়ানির কাপড়ের লাইনিং এর জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। এ বুননে কাপড়ের উপরিভাগে বেশিরভাগ সুতা ভাসমান অবস্থায় থাকে। তাই সচরাচর ব্যবহারের জন্য এ ধরনের কাপড় উপযোগী নয়। অতএব, সাটিন বুননের বস্ত্র উপরিউক্ত এ সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
সুতা তৈরির প্রক্রিয়া একটি জটিল এবং ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া কৌশল। সুতা তৈরির প্রাথমিক উপাদান হলো তত্ত্ব, যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপাদান থেকে তৈরি হতে পারে। সুতা তৈরির ধাপগুলি সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন, কারণ এই প্রক্রিয়া বস্তু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করে সুতা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সুতা তৈরির কয়েকটি ধাপ হলো-
১. কার্ডিং, ২. কম্বিং, ৩. হেকলিং (লিনেন সুতার জন্য), ৪. রিলিং (রেশমের জন্য), ৫. স্পিনিং।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
