আমরা সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা দেখে মহান আল্লাহ সম্পর্কে জানতে পারি যে. বিশ্বজগতের নিয়ন্ত্রক একজনই। আর তির্নি হলেন মহান আল্লাহ। তিনি সকল কিছুর স্রষ্টা, নিয়ন্ত্রক ও পালনকর্তা। তার হুকুম ও নিয়মেই সবকিছু পরিচালিত হয়। তিনি এক ও অদ্বিতীয়।
শিরক (الفزك) আরবি শব্দ। এর তার্থ অংশীদার করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহর সঙ্গে তার ইবাদতে কাউকে শরিক করা বা তার গুণাবলিতে কাউকে অংশীদার করা হলো শিরক। যেকোনো দিক থেকে কাউকে তার সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলে। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে মুশরিক (مُشْرِنٌ)বলা হয়।
পাঁচটি ইবাদতের নাম হলো- ১. সালাত, ২. সাওম, ৩. জাকাত, ৪. হজ ও ৫. কুরবানি।
তাজবিদ শিখতে হয় যাতে পবিত্র কুরআনের হরফগুলো সঠিকভাবে ও সুন্দরভাবে পড়া যায়। তাজবিদের নিয়ম অনুযায়ী কুরআন পড়া আবশ্যক। পবিত্র কুরআনকে ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করার জন্য মহান আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াত না করলে কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তাজবিদ শিখতে হয়।
হজের দুইটি ফরজের নাম হলো-
১. ইহরাম বাঁধা এবং
২. জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা।
আরবি ২৯টি হরফ সর্বমোট ১৭টি মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হয়। এ ১৭টি মাখরাজ মুখের ৫টি স্থান থেকে উচ্চারিত হয়।
জিহ্বার গোড়া তার বরাবর উপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে পড়তে হয়। ক্বাফ (ق)।
দিনের পরে রাত আসে।
ঋতু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গ্রীষ্মের পরে বর্ষা, তারপর আসে শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত আসে।
যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ (উপাস্য) থাকত তবে উভয়ে (আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী) ধ্বংস হয়ে যেত। (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২২)
মহান আল্লাহ নিজ সত্তা, গুণাবলি ও কর্মে এক ও অদ্বিতীয় এই বিশ্বাসকে তাওহিদ বলে। তাওহিদ (ترْجِيدٌ) আরবি শব্দ। এর অর্থ একত্ববাদ। তাওহিদ ইমানের মূলভিত্তি। এর তাৎপর্য হলো এরূপ বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহই একমাত্র উপাস্য।
আমরা অবশ্যই শিরক থেকে বেঁচে থাকব। ইচ্ছাকৃতভাবে শিরক হয় এমন কোনো কাজ করব না। ভুলক্রমে শিরক হয়ে গেলে তওবা করে তা থেকে ফিরে আসব এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব।
শিরক( الشيزك) আরবি শব্দ। এর অর্থ অংশীদার করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহর সঙ্গে তার ইবাদতে কাউকে শরিক করা বা তার গুণাবলিতে কাউকে অংশীদার করা হলো শিরক। যেকোনো দিক থেকে কাউকে তার সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলে।
হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে আপনার সঙ্গে শিরক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং মনের অজান্তে যদি (শিরক) হয়ে যায়, তার থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাই। (মুসনাদে আহমাদ)
১. প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা।
২. ফরজ ও ওয়াজিবসমূহের মধ্যে ধারাবাহিকতা (তারতিব) রক্ষা করা।
৩. রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
তাশাহহুদ (র্তা) আরবি শব্দ। এর অর্থ সাক্ষ্য। এটি আত্তাহিয়্যাতু (التَّحِيَّاتُ)নামেও পরিচিত, যার অর্থ শুভেচ্ছা বা অভিবাদন। একজন সালাত আদায়কারী যখন দ্বিতীয় ও শেষ রাকাতে বেঠকে বসেন তখন তাশাহহুদ পাঠ করে থাকেন। তাশাহহুদ পাঠ করার মাধ্যমে সালাত আদায়কারী মহান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেন।
সালাত আদায়ের সময় বিভিন্ন দু'আ পাঠ করতে হয়। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো দু'আ কুনুত। এই দু'আটি বিতরের নামাজে পাঠ করতে হয়। ইশার সালাতের পর থেকে শেষ রাতের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময়ে বিতর নামাজ আদায় করা যায়। এ সালাতের তৃতীয় রাকাতে কিরাত পড়ার পর দু'আ কুনুত পড়তে হয়।
মুনাজাত المناجاة আরবি শব্দ। এর অর্থ গোপনে কথা বলা, চাওয়া, প্রার্থনা করা, মহান আল্লাহর নিকট নিজের চাহিদা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ইত্যাদি। মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা,' পালনকর্তা, রিজিকদাতা ও রক্ষাকারী। আমাদের উচিত তার নিকট নিজের চাহিদা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তার নিকট কিছু চাওয়ার উত্তম মাধ্যম হলো মুনাজাত।
ইসলামের পাঁচটি রোকন বা স্তন্ডের মধ্যে সাওম অন্যতম। আরবি সাওম (اَلصَّوْمُ) শব্দের অর্থ 'বিরত থাকা'। সাওমকে ফারসিতে রোজা বলা হয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গ হয় এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকাই সাওম বা রোজা।
জাকাত আদায় করা প্রত্যেক ধনী মুসলমানের ওপর ফরজ বা বাধ্যতামূলক। এর জন্য নিসাব পরিমাণ ধনসম্পদ তাঁর কাছে থাকতে হবে। নিসাব আরবি শব্দ। এর দ্বারা এমন ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদকে বোঝায়, যা থাকলে একজন মুসলমানের ওপর জাকাত ফরজ হয়।
জাকাত আদায়ের নানা সুফল রয়েছে। নিচে তিনটি সুফল লেখা হলো-
১. জাকাত সম্পদ পরিশুদ্ধ করে এবং
২. জাকাত দারিদ্র্য বিমোচন করে।
৩. জাকাত উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
হজ الحجهশব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করাকে হজ বলে। প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান ও সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
হজের তিনটি ফরজ রয়েছে। যথা-
১. ইহরাম বাঁধা।
২. জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে জিয়ারত (১০ জিলহজ কুরবানি ও মাথা মুণ্ডনের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত পবিত্র কাবা শরিফ, ৭ বার প্রদক্ষিণ করা।)
ইসলামে কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। । আরবি কুরবুন - (قُرْبٌ) বা কুরবান (قُربان)শব্দটি ফারসিতে কুরবানি (قُربان) শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। কুরবানি শব্দের অর্থ 'উৎসর্গ করা'। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যলাভের জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির পশু আল্লাহর নামে জবেহ করাকে কুরবানি বলে।
কুরবানির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে শিখি। এতে করে আমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। কুরবানির মাংস গরিবদের মধ্যে বণ্টন করার মাধ্যমে সমাজে সহানুভূতি, উদারতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। এসব গুণ আমাদেরকে নৈতিক ও সৎ পথে চলতে সাহায্য করে।
হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর ঘটনা থেকে আমরা শিখি আল্লাহর আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ। কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। পিতাপুত্র উভয়েই ত্যাগ ও আনুগত্যের মহান উদাহরণ স্থাপন করেছেন। যা আমাদেরকে 'সাহসী ও ধৈর্যশীল হতে উৎসাহ দেয়।
তাজবিদ( تَجْرِيدٌ) আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ 'সুন্দর করা'। 'অর্থাৎ কুরআনের বর্ণগুলো সঠিকভাবে সুন্দর করে পাঠ করা। তাজবিদ হলো পবিত্র কুরআন সহিহ বা শুদ্ধ করে তিলাওয়াত করার পদ্ধতি। তাজবিদের বিভিন্ন বিষয়বস্তু রয়েছে। যেমন- মাখরাজ, গুন্নাহ, ইখফা, ইদগাম, ইজহার ইত্যাদি।
মাখরাজ(اليَخْرُجُ): আরবি শব্দ। যার অর্থ 'উচ্চারণের - স্থান'। প্রত্যেক ভাষার বর্ণমালার একটি নির্দিষ্ট উচ্চারণরীতি রয়েছে। আরবি হরফেরও উচ্চারণরীতি রয়েছে। আরবি হরফের উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলা হয়। একেকটি হরফ বা বর্ণ মুখের একেক জায়গা থেকে উচ্চারিত হয়। একটি হরফ মুখের যে স্থান থেকে উচ্চারিত হয় সে স্থানকে সে হরফের মাখরাজ বলে।
গুন্নাহ غُنَّة আরবি শব্দ। এর অর্থ নাক ব্যবহার করে উচ্চারিত ধ্বনি। নাকের মূল হতে নির্গত আওয়াজকে গুন্নাহ বলা হয়।
গুন্নাহ তিন প্রকার। যথা-
১. ওয়াজিব গুন্নাহ,
২. মিম সাকিন গুন্নাহ ও
৩. নুন সাকিন গুন্নাহ-বা তানবিন গুন্নাহ।
ইদগাম (إدغام) আরবি শব্দ। ইদগাম এর অর্থ 'মিলিয়ে পড়া'। নুন সাকিন বা তানবিনের পর ইদগামের ছয়টি হরফ (ي - ر - ل - م – و – ن)থেকে কোনো একটি হরফ থাকলে নুন সাকিন বা তানবিনের সঙ্গে ঐ হরফকে সন্ধি করে মিলিয়ে পড়াকে ইদগায় বলা হয়।
ইযহার (إظهار) আরবি শব্দ। এর অর্থ "স্পষ্ট করে পড়া'। পরিভাষায় নুন সাকিন ও তানবিন-এর পর যদি ইযহারের ৬টি হরফ এর যে কোনো একটি হরফ থাকে তখন নুন সাকিন বা তানবিনকে গুন্নাহ ছাড়া নিজ মাখরাজ অনুসারে স্পষ্ট করে পড়াকে ইয়হার বলে।
Related Question
View Allএক ও অদ্বিতীয়া আল্লাহর আদেশেই সৃষ্টিজগৎ সৃশৃঙ্খলভাবে চলে।
সালাতের ফয়জ কাজগুলোকে আহকাম ও আরকান বলে।
জাকাতের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সাওম পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।
কণ্ঠনালির মধ্যভাগ থেকে আইন (ء) উচ্চারণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!