পৃথিবীর উপরের কঠিন ও পাতলা শিলান্তরকে ভুত্বক বলে।
ভূপৃষ্ঠকে ঘিরে এর চারপাশে বেন্টন করে বাস্তুর যে আবরণ আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
বায়ুমণ্ডল নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত যা পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণে ভূপৃষ্ঠের সাথে লেন্টে আছে। বায়ুমন্ডলের গড় গভীরতা ১০,০০০ কিলোমিটার। তবে বায়ুমন্ডলের প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগই ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বিস্তৃত। ভূপৃষ্ঠকে ঘিরে বায়ুর যে ভর রয়েছে এগুলো ছাদ, বর্ণ ও গন্ধহীন গ্যাসের বলয়। এ গ্যাসগুলো বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান।
চিত্রে 'D' চিহ্নিত স্থানটি জীবমণ্ডলের আওতাভুক্ত। এটি সাম্প্রতিককালে জৈব পরিবেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এর গুরুত্ব অপরিসীম।
জীবমণ্ডল দ্বারা জল, স্থল ও বায়ুমণ্ডলে বসবাসকারী জীবকুলসহ পৃথিবী নামক এ গ্রহকে বোঝানো হয়েছে। জীবমণ্ডল একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ কিমি উচ্চতা এবং ৭ কিমি গভীরতা পর্যন্ত জীবনের সন্ধান পাওয়া যায়। এ (৬+৭) ১৩ কিমি. পুরু স্তরই জীবমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত। এ মণ্ডলে বসবাসকৃত যেসব প্রাণী, উদ্ভিদ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী রয়েছে এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য - রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইড এর ক্রমহ্রাসের ক্ষেত্রে জীবমণ্ডলের উদ্ভিদ বিরাট ভূমিকা পালন করছে। উদ্ভিদ , গ্রহণ করার ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রয়েছে। এছাড়া অশ্মমন্ডলে উদ্ভিদ ও প্রাণী থাকায় মৃত্তিকার বুনট ও গঠন মজবুত হচ্ছে এবং উর্বর মৃত্তিকার সৃষ্টি হচ্ছে।
সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষার্থে 'D' বা জীবমণ্ডল মহাবিশ্বে প্রাণ বিকাশকে অটুট রেখে প্রতিটি স্তরের মধ্যে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে ভূমিকা রাখছে। তাই পৃথিবীতে জীবমণ্ডল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিত্রে উল্লিখিত 'A', 'B', 'C' ও 'D' দ্বারা যথাক্রমে বায়ুমণ্ডল, বারিমন্ডল, অশ্মমণ্ডল ও জীবমন্ডলকে বোঝানো হয়েছে। এ ৪টি স্তরের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে পৃথিবী নামক গ্রহে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডল তিনটি হচ্ছে অজৈব উপাদান। কিন্তু জীবমণ্ডল হচ্ছে জৈব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এ জৈব ও অজৈব উপাদানের সমন্বয়ের মাধ্যমে জীবজগৎ টিকে আছে। অশ্মমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও বারিমণ্ডল তিনটি জীবমণ্ডলের সাথে সরাসরি যুক্ত। কারণ প্রাণের অস্তিত্বের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন তার সাথে উল্লিখিত চারটি মন্ডল বা উপাদানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত জীবমণ্ডলের জীবসমূহ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিদ্রব্যগুলো অজৈব উপাদানের বিভিন্ন পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করে। যেমন- উদ্ভিদ বা প্রাণী প্রয়োজনীয় পানি বারিমন্ডল থেকে গ্রহণ করে। আবার অশ্মমন্ডল থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থসমূহ এবং বায়ুমণ্ডল থেকে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থের চাহিদা মেটায়। আবার জীবমন্ডলের বিভিন্ন উপাদানের কারণে অশ্মমন্ডল, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডলের মধ্যে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে। জীবমণ্ডলের অস্বাভাবিক কার্যক্রমের ফলেই অশ্মমণ্ডল, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডলের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়। সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত ৪টি মণ্ডলই অর্থাৎ 'A', 'B', 'C' ও 'D' প্রত্যেকের সাথে আন্তঃসম্পর্ক বজায় থাকার কারণে পৃথিবী নামক গ্রহের মধ্যে সুন্দর পরিবেশগত একটি ভারসাম্য বিদ্যমান রয়েছে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযে বিষয় পাঠে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূত্বক ও তার উপাদানসমূহ সম্পর্কে জানা যায়, তাকে ভূমিরূপবিদ্যা বলে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুর বর্ণনা।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি পুনঃপুন পরিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীর পরিবেশ যেসব জড় উপাদান ও সজীব উপাদান দ্বারা গঠিত তার অবস্থান, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। অর্থাৎ প্রাকৃতিক পরিবেশের বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ ও এর পরিবর্তন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু ও জীবমণ্ডলের গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করাই হলো প্রাকৃতিক ভূগোল।
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাটি হলো ভূমিরূপবিদ্যা। নিচে ভূমিরূপবিদ্যা শাখাটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো।
ভূমিরূপবিদ্যায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণির ভূত্বক কীভাবে নানারকম পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে তা আলোচনা করা হয়। পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, জলাশয় কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, পৃথিবীর ভূমিকম্প, ভূ-আলোড়ন ও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টির কারণ, পরিমাপ, অবস্থান ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও মহাদেশীয় সঞ্চালন, প্লেট টেকটোনিক, মৃক্তিকার সৃষ্টি, শিলার গঠন, বিন্যাস ও পর্বতের গঠন, অবস্থান এবং প্রকারভেদ সম্বন্দ্বে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সময় ও অঞ্চলের স্কেল বা পরিসরের ভিন্নতা ভূমিরূপের বিশ্লেষণের লক্ষ্য, সামর্থ্য ও সমস্যা বর্ণনা করে।পরিশেষে বলা যায় ভূমিরূপবিদ্যা ভূত্বক ভূঅভ্যন্তরীণ শক্তি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারে মানুষকে নির্দেশনা দেয়।
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাদ্বয় হলো ভূমিরূপবিদ্যা ও সমুদ্র বিদ্যা। ভূমিরূপবিদ্যায় পৃথিবীর সৃষ্টি, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূআলোড়ন, পাহাড়, পর্বত, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, বায়ুর কার্য, হিমবাহের কার্য প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে। এ শাখা থেকে আরও জানা যায়, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত নানাপ্রকার মতবাদ, সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় পৃথিবীর আকার ও আয়তন কেমন ছিল তার বিবরণ, ভূমিকম্প ও ভূআলোড়নের ফলে পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে যে নানাপ্রকার ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জ্ঞান লাভ করা যায়। অন্যদিকে সমুদ্রবিদ্যা শাখায় যাবতীয় সমুদ্র বিষয়ক উপাদান বর্ণনা করা হয়। এ শাখা সমুদ্রের উৎপত্তি, 'আকার, আয়তন, পৃথিবীর সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, সাগরতলের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রস্রোতের কারণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তরঙ্গ ও এর কার্য, সমুদ্রে বসবাসকারী প্রাণি ও উদ্ভিন্ডদের বিন্যাস, জোয়ারভাটা, জোয়ারভাটার প্রভাব, স্থলভাগের উপর সমুদ্রের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
ভূগোলশাস্ত্রের যে শাখায় পৃথিবীর জন্ম, পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ এবং এর পরিবর্তন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জীবমণ্ডল প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করে, তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
জোয়ারভাটা প্রাকৃতিক ভূগোলের সমুদ্রবিদ্যা শাখায় আলোচিত হয়।
প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, সমুদ্রস্রোত, জোয়ারভাটা, শৈলশিরা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই সমুদ্রবিদ্যা। জোয়ারভাটা সমুদ্র বিদ্যা শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ জোয়ারভাটা একটি বিশেষ সামুদ্রিক আচরণ এবং এর উৎপত্তি, কারণ, সময় সবকিছু সমুদ্রের সাথে সম্পর্কিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!