ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদে ‘সুন্দর হাতের লেখা’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘সুন্দর হাতের লেখা’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বাংলা লেখার শিল্পরূপ টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এ আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতাটি দু’টি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়: ক-গ্রুপ (১ম-৫ম শ্রেণি) এবং খ-গ্রুপ (৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি)। শিক্ষার্থীদের দেওয়া নির্ধারিত অনুচ্ছেদ দেখে সুন্দর ও শৈল্পিক ভঙ্গিতে তা খাতায় লিখতে বলা হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে।
চারুকলা অনুষদের ডিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল ডিভাইসের যুগে আমাদের শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা হারিয়ে যাচ্ছে। সুন্দর লেখা মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। চারুকলা অনুষদের মতো শৈল্পিক জায়গায় এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের লেখার প্রতি আগ্রহী করবে।”
অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারুকলার কয়েকজন শিক্ষক। তারা লেখার গঠন, মাত্রা, ফাঁকা জায়গা এবং শৈল্পিক দিকগুলো যাচাই করে বিজয়ী নির্ধারণ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানানো হয়।
সড়ক যেন মরণফাঁদ: চরম দুর্ভোগে পাবনাবাসী
মিম, পাবনা জেলা প্রতিনিধি
দৈনিক আমার দেশ
পাবনা: জেলার প্রধান একটি সংযোগ সড়ক এখন স্থানীয় মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু খানাখন্দের কারণে এখন রিকশা বা অটোরিকশাও এই পথে চলতে চায় না। জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ভাঙা সড়ক চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ জায়গারই কোনো অস্তিত্ব নেই। ধুলোবালি আর কাদার কারণে পথচারীদের চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভাঙা সড়কের কারণে তাদের মালামাল পরিবহনে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তবে আশ্বাসের এই বাণী আর শুনতে চান না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা অনতিবিলম্বে এই মরণফাঁদ সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Related Question
View Allবৈশাখী মেলা
বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।
বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।
মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।
এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।
বৈশাখী মেলা
বৈশাখী মেলা নববর্ষের একটি উৎসব । নববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মেলা বসে । এটি বৈশাখের প্রথম দিনে (মাসের) অনুষ্ঠিত হয় । মূলত বৈশাখী মেলার আয়োজন করে স্থানীয় লোকেরা । পহেলা বৈশাখ আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের বিভিন্নজায়গায় ছোট বড় অনেক স্থানে । মেলা শুরু করে স্থানীয় লোকেরা এই মেলাতে বিভিন্ন ধরনের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা গুলো শুরু করে । এই মেলাগুলো এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস ব্যাপী হয়ে থাকে । বৈশাখী মেলা সাধারণত খোলা আকাশের নিচে বসে । প্রতিবছর রমনার বটমূলে বসে এ মেলার প্রভাতি আসর । এছাড়া গ্রামের হাট-বাজার, নদীর তীর, মন্দির প্রাঙ্গণে এ মেলা বসে । মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা যায় । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নানা ধরনের কুটিরশিল্প, খেলনাসহ হরেক রকম পণ্যের সমাহার ঘটে এ মেলায় । এছাড়াও থাকে যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, সার্কাসসহ বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন । বিভিন্ন ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবারও পাওয়া যায় মেলায় । এমেলায় বসে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহি নানা খাবারের পশরা । হরেক রকমের মিষ্টি, বাতাসা, খই, মুড়ি, আচার সহ নানান রকম বাহারী বাঙ্গালী খাবার এ মেলার প্রধান আকর্ষন । এছাড়া রং-বেরঙের বেলুন আর বাঁশের বাঁশির সুর আর কচিকাচাদের কোলাহলে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গন । বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতার তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম । লোহা ও কাঠের তৈরি সামগ্রীর মধ্যে দা, বঁটি, কাস্তে, ছুরি, খুন্তি, কোদাল, শাবল, পিঁড়ি, জলচৌকি, চেয়ার, টেবিল, খাট-পালঙ্ক ইত্যাদি পাওয়া যায় । বৈশাখি মেলা আনন্দের পাশাপাশি আমাদের জীবনের অনেক প্রয়োজন মেটায় ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!