কযে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
পানিতে কোনো রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকলে, তা অবশ্যই দূর করতে হয় এবং তা করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂)। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)CI] এবং ক্লোরিন যুক্ত আরও কিছু পদার্থ জীবাণুমুক্ত করণে ব্যবহার করা হয়। জীবাণুমুক্ত করণের এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরিনেশন বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত A দ্বারা তরল পদার্থ পানিকে বুঝানো হয়েছে। জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা ইত্যাদি পানি ছাড়া জন্মাতে পারে না। যদিও হেলেঞ্চা, কলমি, কেশরদাম প্রভৃতি পানি ও মাটি দু জায়গাতেই জন্মাতে পারে। তবে বেশিরভাগ জলজ উদ্ভিদ পানি না থাকলে জন্মাতে পারে না, অথবা বেড়ে উঠতে পারে না। পানিতে জন্মানো ও বেড়ে উঠা এসব উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে
অক্সিজেন উৎপন্ন করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে। পানিতে দ্রবীভূত এ অক্সিজেন গ্রহণ করেই পানিতে বসবাসকারী প্রাণীরা শ্বসন কার্য পরিচালনা করে এবং জীবনধারণ করে। অর্থাৎ পানি উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করে। এর ফলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। অর্থাৎ পানি জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহযোগিতা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত A অর্থাৎ পানি পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবদেহের শতকরা ৬০-৭৫ ভাগই পানি। পানির ব্যবহার ছাড়া আমরা একদিনও অতিবাহিত করতে পারি না। নিচে পানির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
১. দ্রাবক হিসেবে: পানিকে সর্বোৎকৃষ্ট দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা
হয়। অধিকাংশ অজৈব যৌগ ও অনেক জৈব যৌগকে পানি দ্রবীভূত করতে পারে। এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবকও বলা হয়।
২. পানীয়রূপে: আমরা তৃষ্ণা নিবারণের সর্বোৎকৃষ্ট পানীয়রূপে পানি পান করি। পানি পান না করে কোনো প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। তাই পানির অপর নাম জীবন।
৩. শিল্পকারখানায় বিকারকরূপে: শিল্পকারখানায় বিকারকরূপে পানির
গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। পানি উভধর্মী পদার্থ হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ কখনো এসিড কখনো ক্ষার হিসেবে কাজ করে। সাধারণত এসিডের উপস্থিতিতে পানি ক্ষার হিসেবে আর ক্ষারের উপস্থিতিতে এসিড হিসেবে কাজ করে।
৪. বিভিন্ন পদার্থের বাহকরূপে: পানি বিভিন্ন পদার্থের বিশেষ করে
বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের বাহকরূপে কাজ করে। পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ, জৈব পদার্থসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপকরণের বাহক হিসেবে পানি ব্যবহার করা হয়।
৫. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে: উদ্ভিদ পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যবহার করে সূর্যের আলো থেকে শক্তি নিয়ে ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে শর্করা ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এ অক্সিজেন প্রাণী শ্বসনকার্যে ব্যবহার করে। এতে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড আবার উদ্ভিদ ব্যবহার করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপিত হয়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়।
এভাবে পানি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে গরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allপৃথিবীতে পানি একই প্রক্রিয়ায় ঘুরে ফিরে ব্যবহার হয়। এটি সূর্যের তাপে বাষ্পীভবন, মেঘে রূপান্তর ও বৃষ্টির মাধ্যমে আবার ভূমি ও সমুদ্রে ফিরে আসে। একে পানির পুনরাবর্তন বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!