কোনো দেশ বিদেশ থেকে যে সমস্ত দ্রব্য আমদানি করে, সে সমস্ত দ্রব্য নতুন করে আমদানি না করে, নিজস্ব প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের লক্ষ্যে শিল্প স্থাপন করলে ঐ সমস্ত শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে।
যে শিল্পের মূলধন ৫ লাখ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য ১০ জনের অধিক নয় ও সহজলভ্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে উৎপাদন পরিচালিত হয় তাই কুটির শিল্প; পক্ষান্তরে কুটির শিল্প থেকে বড় কিন্তু বৃহৎ শিল্প অপেক্ষা ছোট, জমি-কারখানা ব্যতীত স্থায়ী সম্পদ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে, এ শিল্পকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে। কুটির শিল্পগুলো হলো- তাঁত শিল্প, বাঁশ শিল্প, বেত ও কাঠশিল্প ইত্যাদি; পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র শিল্প হলো- হোসিয়ারি শিল্প, লবণ শিল্প, গাড়ি মেরামত শিল্প ইত্যাদি। কুটির শিল্পের মালিকানা পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ; পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র শিল্পের মালিকানা পরিবারের বাইরেও হতে পারে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অর্জিত আয় হলো পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে অর্জিত আয়। এ আয় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো-
⇒ পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে উৎপাদন খরচ পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মূল্য তেমন বৃদ্ধি পায়নি; এর ফলে পাট চাষিদের হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে।
⇨ পাটের গুণগত মান, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদার উত্থান পতন এবং' উৎপাদন ও এর বণ্টনের অনিশ্চয়তার জন্য পাটের মূল্যে অত্যধিক উত্থান-পতন লক্ষ করা যায়।
⇨ বৃহদায়তন শিল্প হিসেবে পাট শিল্পে ঝুঁকি গ্রহণ করে শিল্পোৎপাদনে পর্যাপ্ত মূলধন যোগান দেওয়ার মতো উদ্যোক্তার অভাব রয়েছে।
⇒ পাটের প্রাথমিক বাজারগুলোতে পাট সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুদামঘরের অভাব রয়েছে।
⇨ পাট পরিবেশ বান্ধব হলেও পাট ও পাটজাত পণ্য বহুমুখীকরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যথেষ্ট উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
⇨ পাটকলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকে, ফলে পাটকল 'লোকসানের সম্মুখীন হয়।
⇒ বর্তমানে বিভিন্ন দেশে পাটের বিকল্প হিসেবে কেনাফ, মেশতা, সিনথেটিক, সিসাল, রোজেল ইত্যাদি উদ্ভাবন হওয়ার ফলে পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে বর্তমানে জটিল সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণে উদ্দীপকে বর্ণিত পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে অর্জিত আয় কাঙ্খিত পর্যায়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবর্তিত শিল্প হলো তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্প হতে বৈদেশিক মুদ্রা আরও যেভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে সম্পর্কে আমার মতামত নিচে ব্যক্ত করা হলো-
◇ প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে তৈরি পোশাকের আইটেম বাড়াতে হবে; তাহলে কোটা না থাকা অনেক আইটেমের রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে।
◇ আমদানিকারক দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাকের মান উন্নত করতে হবে; তাহলে বিশ্ব বাজারে আমাদের এ শিল্পের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
◇ তৈরি পোশাকের মান উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে; বিদেশি প্রযুক্তি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন করতে হবে
◇ বর্তমানে পোশাক শিল্পে ব্যবহার্য মোট কাপড়ের প্রায় ৯০ ভাগ আমদানি করতে হয়; এ আমদানি হ্রাসের জন্য দেশীয় বত্র শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
◇ তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল যেমন সুতা, তুলা, রং, মেশিনের যন্ত্রাংশ প্রভৃতি দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করতে হবে, তাহলে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কম দামে পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব হবে
◇ তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত ঋণের ব্যবস্থা থাকতে হবে; প্রয়োজনে এ শিল্পের জন্য একটি স্বতন্ত্র ঋণ কাঠামো কার্যকর করতে হবে।
◇ পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার; এর ফলে পোশাকের গুণগত মান ও উৎপাদন বাড়বে।
◇ অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো পোশাক শিল্পেও বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে, তাহলে দেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে, আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধির জন্য দেশে ও বিদেশে রপ্তানি মেলার আয়োজন করতে হবে এবং স্বতন্ত্র রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো গঠন করতে হবে।
Related Question
View Allঅল্প শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন সদস্যরা জীবনধারণের তাগিদে পরিবারের স্বল্প মূলধন ও সহজলভ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ঘরে বসে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদন করে তা-ই কুটির শিল্প।
কোনো একটি দেশ যে সব দ্রব্য আমদানি করে থাকে, তা যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করা হয় তাকে আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ইত্যাদি কারণে আমদানি বিকল্পন শিল্প স্থাপন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ সাধারণত গাড়ি আমদানি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরেই গাড়ি তৈরির কলাকৌশল ব্যবহার করে গাড়ি তৈরি করতে পারে তাহলে তা আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে গণ্য হবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিল্পটি হলো চা শিল্প। নিচে চা শিল্পের সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশের চা শিল্প প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কোনো বছর বৃষ্টি কম হলে চা উৎপাদন কম হয়, কারণ চা উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। পাহাড়ি অঞ্চলে চা বাগান হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সাথে চা বাগানে যাওয়ার ভালো সড়ক নেই, এমনকি টেলিফোন লাইন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অনেক স্থানে অপ্রতুল। চা শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের খুব অভাব, যেখানে ঐতিহাসিক কিছু অবাঙালি পরিবার চা উৎপাদনে নিয়োজিত। তারা শুধু দেখে দেখে কাজ শিখেছে। চায়ের বিকল্প হিসেবে কফির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
পুরাতন পদ্ধতিতে চা চাষের ফলে বিশ্বমানের চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। চা বাগানগুলোতে প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যার ফলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাগান এলাকায় বসবাস করতে চান না। ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন এদের চা অপেক্ষাকৃত উন্নত হওয়ায় রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ এদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে। চা বাগান তৈরি, পাতা প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে বড় মূলধন প্রয়োজন, যা সহজে ফেরত আসে না।
তাই এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোক্তা, নতুন মূলধন দেখা যায় না। উল্লিখিত এসব সমস্যা বাংলাদেশের চা শিল্পে বিদ্যমান।
চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিচে উক্ত সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
চা উৎপাদনে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ করে একরপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে হবে। অনাবৃষ্টি ও খরার সময় চা বাগানে পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অদক্ষ, অশিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বাগানের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন বাড়বে। চা বাগান এলাকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। চা বাগানের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত করতে হবে। বিদেশে চা রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাপক প্রচারণা, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রদর্শনী মেলায় অংশগ্রহণ রপ্তানি বাজার বৃদ্ধির সহায়ক। চা বাগানগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধাসহ সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই চায়ের গুণগত মান বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নয়নে নিবিড় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা একান্ত প্রয়োজন। গুণগত মান বজায় রাখার জন্য চায়ের উত্তম গুদামজাতকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্যাকেটিং প্রয়োজন। চা বাগান, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, চা রপ্তানির সাথে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লিখিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চা শিল্পের সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভম্ব বলে আমি মনে করি।
প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা, তা-ই অতি ক্ষুদ্র শিল্প।'
বাংলাদেশে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্প এই দুই চরম বিপরীতধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প।
ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানাভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে।
ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাবান শিল্প, দিয়াশলাই শিল্প, কাঠশিল্প, হোসিয়ারি শিল্প, লবণ শিল্প ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!