বিশ্বায়ন হলো বিশ্বের সব দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
পূর্বে যেসব দ্রব্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি করা হতো না, কিন্তু সাম্প্রতিককালে রপ্তানি করা হয় তা-ই অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য। তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, টাটকা ফল ইত্যাদি বাংলাদেশের অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য। কারণ এসব পণ্য পূর্বে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতো না, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের সিংহভাগকে প্রতিনিধিত্ব করছে। সাম্প্রতিক হিসাবে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত পণ্যের অবদান প্রায় ৮৭%।
উদ্দীপকের 'A' দেশের বাণিজ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং 'B' দেশের বাণিজ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
একটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে দ্রব্য ও সেবার বিনিময়কে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে। পক্ষান্তরে দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের উপাদানসমূহ গতিশীল হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জলবায়ু, সামাজিক রীতিনীতি, আইন-কানুন, ভাষা প্রভৃতির কারণে উৎপাদনের উপাদানসমূহ তেমন গতিশীল নয়।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নীতি ও উদ্দেশ্যের কোনো পার্থক্য থাকে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা দেশের সরকারের নানা রকম নীতি ও উদ্দেশ্য বাণিজ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে অভিন্ন বাণিজ্য নীতির কারণে মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থায় কোনো পার্থক্য সৃষ্টি হয় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায়। তাই বিভিন্ন মুদ্রার মধ্যে বিনিময় হার নিরূপণের প্রয়োজন হয়।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করলেও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে খুব বেশি গতিশীল করে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ পণ্যের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে বাজার সম্প্রসারণ করতে পারে; ফলে শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, আয়, রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের A ও B দেশের বাণিজ্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
উদ্দীপকে '৪' দেশের বাণিজ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব যতটুকু বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্যরত দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার বহিঃপ্রকাশ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একটি দেশের সম্পদ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি তথা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। কোনো দেশই সব ভোগ্যপণ্য উৎপাদন করতে পারে না। এ অবস্থায় বৈদেশিক বাণিজ্য এসব পণ্যের ঘাটতিপূরণে সহায়তা করে মানুষের rangoise its ruly allere resiya o was বাণিজ্যের ফলে উপকরণের গতিশীলতা বাড়ে এবং বিশ্বের মোট উৎপাদন বাড়ে। এ বাণিজ্যের ফলে প্রতিটি দেশেই বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন দুই-ই বাড়ে। এ বাণিজ্যের ফলে যেহেতু বিনিয়োগ বাড়ে সেহেতু প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হয়। প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন ও মাথাপিছু আয় বাড়ে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ফলে দেশে-দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ কমে যায় এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবাদে পারস্পরিক স্থায়ী বন্ধুত্ব সৃষ্টি হলে বড় রকমের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হয়। বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি সংকটের সময় এক 'দেশ অপর দেশকে সাহায্য করে।
এছাড়াও বাজার সম্প্রসারণ, উপকরণের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, কৃষি ও শিল্পোন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের 'B' দেশের বাণিজ্য অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!