রাশিয়া, কিউবা এবং চীনের সংবিধান বিপ্লবের দ্বারা তৈরি হয়েছে।
একটি রাষ্ট্র কীভাবে "পরিচালিত হবে তার মূলনীতিগুলো সংবিধানে উল্লেখ থাকে। তাই সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলা হয়।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সেগুলো সংরক্ষিত হরে তাও সংবিধান কর্তৃক সুনির্দিষ্ট হয়। এসব বিষয়ে সংবিধানের পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। তাই সংবিধান হলো রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি।
উদ্দীপকের 'A' নামক রাষ্ট্রটির নাম বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক এবং প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংবিধানই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
উদ্দীপকে 'A' নামক রাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধানের আরো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন- বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এতে একটি প্রস্তাবনাসহ ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ এবং সাতটি তফসিল রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রদান করা হয়েছে। ১৮ বছর বয়স হলেই যেকোনো নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এতে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট, যার নাম জাতীয় সংসদ। সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। বাংলাদেশের সংবিধানের আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের বিধান রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে যদি কোনো আইনের সংঘাত সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে সংবিধান প্রাধান্য পাবে।
হ্যাঁ, উক্ত রাষ্ট্রটির অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম সংবিধান।
উত্তম সংবিধানের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। উত্তম সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাসঙ্গিক অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে। এর ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল হয়। এ সংবিধান সংক্ষিপ্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। অপ্রয়োজনীয় বিষয় উত্তম সংবিধানে স্থান পায় না। নাগরিকের মৌলিক অধিকার উত্তম সংবিধানে উল্লেখ থাকে। এতে জনমতের প্রতিফলন দেখা যায়। উত্তম - সংবিধান সুষম প্রকৃতির হয়ে থাকে। অর্থাৎ, এটি সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মাঝামাঝি অবস্থান করে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো উত্তম সংবিধানে উল্লেখ থাকে। সর্বোপরি উত্তম সংবিধান জনকল্যাণকামী হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের সংবিধানও বৈশিষ্ট্য বিচারে একটি উত্তম সংবিধান। কেননা, বাংলাদেশের সংবিধানের অধিকাংশ' বিষয় লিখিত। এর ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল। এতে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- জীবনধারণ, চলাফেরা, চিন্তা ও মত প্রকাশ, ধর্মচর্চা ও সম্পত্তির অধিকার প্রভৃতি। বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো- জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। : উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির তথা বাংলাদেশের সংবিধানে উত্তম সংবিধানের প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান।
Related Question
View All১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম 'ম্যাগনাকার্টা'।
একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সুষ্ঠু সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধান নির্দিষ্ট করে। সংবিধান ছাড়া একটি সভ্য রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বিক দিক পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
'ক' সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অলিখিত সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভূত সাধারণ প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না। অলিখিত সংবিধানের পরিবর্তন প্রক্রিয়াও সহজ। অলিখিত সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের 'ক' নামক সামাজিক সংগঠনটি চিরাচরিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর নিয়মগুলো কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এখানে মূলত অলিখিত সংবিধানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা 'ক' নামক সংগঠনের নিয়মগুলোর বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' সংগঠন পরিচালনার নিয়মাবলির সাথে অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলির সাথে লিখিত সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে আমি 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম বলে মনে করি।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে এটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে সাধারণত সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আবার লিখিত সংবিধান স্থিতিশীল বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না। লিখিত সংবিধানের সকল ধারা জনগণ ও শাসক মেনে চলতে বাধ্য হয়। সংবিধান লিখিত থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে অলিখিত সংবিধান অস্পষ্টতা দোষে দুষ্ট। শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয়গুলো এ সংবিধানে লিখিত থাকে না। সে কারণে শাসক ও শাসিত তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসনব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার অধিক পরিবর্তনশীলতার কারণে সংবিধানে স্থায়ী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অলিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' নামক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও স্কুল পরিচালনায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হন। তাই আমি মনে করি 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়মাবলির মধ্যে 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এ ধরনের সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক, চিরাচরিত নিয়ম ও আচার- অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দুলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!