তড়িৎ রাসায়নিক কোষের অ্যানোড ও ক্যাথোড ভিন্ন পাত্রে তৈরি করা হলে তাদের পরোক্ষ সংযোগ দেবার জন্য বাঁকা কাঁচনলের লবণের দ্রবণ পূর্ণ যে ব্যবস্থা করা হয় তাকে লবণ সেতু বলে।
| ইলেকট্রনিক পরিবাহী | ইলেকট্রনিক ও তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহীর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ : | তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী |
| i | ইলেকট্রনিক পরিবাহীতে ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। | তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহীতে পরিবাহীর আয়ন দ্বারা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। |
| ii | উদাহরণ: সকল ধাতু ও গ্রাফাইট | উদাহরণ: গলিত লবণ, এসিড ও ক্ষারের দ্রবণ। |
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রিয়াটি হলো ড্রাইসেলে সংঘটিত কোষ বিক্রিয়া। বিক্রিয়াটিতে ধাতব অক্সাইড MnO2 ব্যবহৃত হয়েছে। ড্রাইসেলে ম্যাঙ্গানিজ-ডাই অক্সাইড জিংকের কৌটার ভিতর পূর্ণ থাকে। জিংকের কৌটাটি কাই দ্বারা পূর্ণ করে তার ঠিক মাঝখানে ক্যাথোড দন্ড প্রবেশ করানো হয়। ক্যাথোড হিসেবে ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড এর ভারী আবরণযুক্ত কার্বন দণ্ড ব্যবহার করা হয়। ক্যাথোডে অবস্থিত এ ধাতব অক্সাইডটি অর্থাৎ অ্যানোডে উৎপন্ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে জারিত হয়।
উপরোক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট যে, উল্লিখিত বিক্রিয়াটিতে ধাতব অক্সাইড তথা ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইডের বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রিয়াটি ড্রাই সেলের কোষ বিক্রিয়া নির্দেশ করে।
দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, A মৌলটি হলো জিংক কারণ জিংকের পারমাণবিক সংখ্যা 30.
ড্রাইসেলের অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট জার ব্যবহার করা হয়। উক্ত জারটি ও তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব দ্বারা পূর্ণ করা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রব হিসেবে মিশ্রিত করে পানি দিয়ে কাই তৈরি করা হয়। এরপর জিংকের কৌটাটি কাই দ্বারা পূর্ণ করে তার ঠিক মাঝখানে ক্যাথোড দন্ড প্রবেশ করানো হয়। ক্যাথোড হিসেবে MnO2 এর ভারী আবরনযুক্ত কার্বন দণ্ড ব্যবহার করা হয়।
ড্রাইসেলের অ্যানোডে ইলেকট্রনের উৎপাদন ও ক্যাথোডে গৃহীত হয়।
অ্যানোড বিক্রিয়া:
ক্যাথোড বিক্রিয়া:
অ্যানোডে জিংক দন্ড বিজারিত হয়ে ২টি ইলেকট্রন ও জিংক আয়ন উৎপন্ন করে। উৎপন্ন জিংক আয়ন কাইয়ের সাথে মিশে যাবে। অন্যদিকে, ক্যাথোডে অবস্থিত MnO2 অ্যানোডে উৎপন্ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে জারিত হয়। কার্বন দন্ড অ্যানোডে উৎপন্ন ইলেকট্রন ক্যাথোডে সরবরাহ করে।
আমরা জানি, ইলেকট্রনের প্রবাহ মানেই বিদ্যুতের উৎপাদন, তাহলে যেখানে বিদ্যুৎ প্রয়োজন সেখানে ড্রাইসেল সংযুক্ত করলেই বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়া যাবে।

চিত্র: ড্রাই সেল
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের বিক্রিয়া হতে বিদ্যুৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা সম্ভব।
Related Question
View Allতড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে কোনো সক্রিয় ধাতুর ওপর অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে।
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু ব্যবহার হয় প্রধানত দুটি কারণে।
i. লবণ সেতু অর্ধকোষদ্বয়ের উভয় দ্রবণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কোষের বর্তনী পূর্ণ করে।
ii. জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন (যেমন- Zn2+) বৃদ্ধি পাওয়ায় এতে লবণ সেতু থেকে ঋণাত্মক আয়নের ব্যাপন ঘটে। অনুরূপভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ধনাত্মক (যেমন- Cu2+) আয়ন হ্রাস পাওয়ায় এতে লবণ সেতু থেকে ধনাত্মক আয়নের ব্যাপন ঘটে। ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে চার্জ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
শক্তি
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মৌলসমূহের (বিক্রিয়কের) পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ায় নতুন পদার্থ (উৎপাদ) গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিক্রিয়কের বন্ধন ভেঙ্গে উৎপাদ গঠিত হওয়ার সময় নতুন বন্ধন গঠিত হয়। এতে তাপের শোষণ বা উদ্দ্গীরণ ঘটে। এ ধরনের বিক্রিয়ার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মৌলসমূহের মধ্যে ইলেকট্রন স্থানান্তরের বা শেয়ারের মাধ্যমে নতুন যৌগের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটিতে একটি ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে দুটি মৌলের সৃষ্টি হয় (Ba ও Kr)। এটি একটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া। কেননা, এতে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন নিউট্রনের আঘাতে একটি নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে দুটো নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। এতে ইলেকট্রনের কোন ভূমিকা থাকে না। যে সব বিক্রিয়ায় কোন মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে এক বা একাধিক অপেক্ষাকৃত হালকা নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়, তাদেরকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। উল্লেখিত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় একটি বড় নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে দুটো ছোট নিউক্লিয়াস তৈরি হয় বলে একে নিউক্লিয়ার ফিসন বিক্রিয়া বলা হয়। নিউক্রিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। তাই (ii) নং বিক্রিয়াটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং (ii) নং বিক্রিয়াটি নিউক্লিয় বিক্রিয়া। রাসায়নিক ও নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ।
| রাসায়নিক বিক্রিয়া | নিউক্লিয় বিক্রিয়া | |
| i | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যোজ্যতা ইলেকট্রনসমূহের পরিবর্তন ঘটে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে। |
| ii | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয় না; শুধু পরমাণুর স্থানান্তর ঘটে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয়। |
| iii | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের পরিমাণ তুলনামূলক খুবই কম। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের পরিমাণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার তুলনায় শত লক্ষ গুণ বেশি। |
| iv | রাসায়নিক বিক্রিয়াকালে মৌলের প্রোটন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় মৌলের প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। |
| v | রাসায়নিক বিক্রিয়া কাচপাত্রে যেমন টেস্ট টিউবে ঘটানো যায়। | নিউক্লিয় বিক্রিয়া নিউক্লিয় চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটানো হয়। |
যে সকল পদার্থের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় কোনোরূপ রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না, সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন দ্বারা তড়িৎ পরিবাহিত হয়, তাদেরকে ধাতব বা ইলেকট্রনীয় পরিবাহী হলে।
যদি পরিবাহীর আয়ন দ্বারা বিদ্যুৎ প্রবাহ সাধিত হয় তবে, এসব পরিবাহীকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। যেমন গলিত লবণ, এসিড, ক্ষার ও লবণের দ্রবণ।
ধাতব প্লাটিনাম (Pt) পাতের অ্যানোড ও ক্যাথোড ব্যবহার করে এসিড মিশ্রিত পানির মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে নিম্নোক্ত বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
অ্যানোড বিক্রিয়ায়:
ক্যাথোড বিক্রিয়া :
অর্থাৎ এসিড মিশ্রিত পানি পরিবহনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে বিধায় এসিড মিশ্রিত পানিকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিক্রিয়ায় সালফিউরিক এসিডের কোনো পরিবর্তন বা ব্যয় হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!