বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো হচ্ছে স্তরভিত্তিক।
রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে ২টি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন। আর দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন। মাঠ প্রশাসনের ধাপগুলো হলো বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন। দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারাদেশে বাস্তবায়িত হয়। এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রের আইনসভা গঠনের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনসভা গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। এটি এক কক্ষবিশিষ্ট। এটির সদস্যসংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে ৩০০ আসনের সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
'A' রাষ্ট্রের সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে, যার তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। এটি এক কক্ষবিশিষ্ট। ৫ বছর পর পর আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আইনসভা যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে। সুতরাং 'A' রাষ্ট্রের আইনসভা গঠনের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনসভা গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে।
'A' রাষ্ট্রের আইনসভার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের আইনসভা বহুবিদ কার্যাবলি সম্পাদন করে।
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। সব জাতীয় কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হলো সংসদ। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সব ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের নিকট দায়ী থাকে। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি ও সংসদে সাধারণ আলোচনার মাধ্যমেও জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না। সংসদ প্রতিবছর জাতীয় বাজেট পাস করে। এছাড়াও সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়। জাতীয় সংসদের বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতাও রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য অসংসদীয় আচরণ করলে স্পিকার তাকে বহিষ্কার করতে পারেন। জাতীয় সংসদের সদস্যরা স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের নির্বাচিত করেন। এছাড়া সংসদ সদস্যরা দেশের রাষ্ট্রপতিকেও নির্বাচন করেন। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আইনসভা বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
Related Question
View Allশাসন বিভাগের অপর নাম নির্বাহী বিভাগ।
মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করে বিভাগীয় প্রশাসন। তবে বিভাগের সব কাজ সম্পন্ন করা হয় বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে। তিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করছে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সব ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও 'মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকে। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না। সংসদ প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাস করে। সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়। সুতরাং বলা যায়, আইন বিভাগের কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত বিভাগটি হলো নির্বাহী বিভাগ এবং 'A' চিহ্নিত বিভাগটি হলো আইন বিভাগ। বাংলাদেশে আইন বিভাগ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হলো- আইনসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ এবং বিচারসংক্রান্ত কাজ। এই তিন প্রকার কাজ সম্পাদন করার জন্য আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। তবে আইন বিভাগের কাজের পরিধি ব্যাপক। এটি শুধু আইন প্রণয়নই করে না, নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণও করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙেযায়। মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি ও সংসদে সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, আইন বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনকে রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রশাসন রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!