বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো বাঙালি জনগোষ্ঠীর ঐক্য ও সংহতি।
পৃথিবীতে ৬০০০-এর অধিক ভাষা রয়েছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলা অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমাদের পূর্বসূরিগণ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য জীবনদানের এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এজন্য এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
পৃথিবীতে ৬০০০-এর অধিক ভাষা রয়েছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলা অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমাদের পূর্বসূরিগণ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য জীবনদানের এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এজন্য এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দাবিগুলোর সাথে আমার পঠিত ছয় দফা দাবির মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে। শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। তারা এ অঞ্চলের জনগণের ন্যায্য অধিকারের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। অধিকন্তু পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দাবি আদায়ের আন্দোলন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শাসকগোষ্ঠীর নিকট ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবিনামা উপস্থাপন করেন। ৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলনের স্তিমিত করার জন্য শাসকগোষ্ঠী দমনপীড়ন শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে এবং তাকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমরা উপরিউক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার মিল দেখতে পাই। অর্থাৎ উদ্দীপকে A দ্বারা পাকিস্তান, B দ্বারা পূর্ব পাকিস্তান M দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝানো হয়েছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দাবিগুলোর সাথে আমার পঠিত ৬ দফা দাবির মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'M' দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বোঝানো হয়েছে। তার মুক্তির জন্য আন্দোলন অপরিহার্য ছিল- প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটি যথার্থ।
পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন। পাকিস্তান সরকার ৬ দফা দাবি গ্রহণ না করে দমনপীড়ন শুরু করলে পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে আন্দোলন স্তিমিত করার চেষ্টা চালানো হয়। কারণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ছাড়া যেমন ৬ দফা দাবি আদায় অসম্ভব। তেমনি তার নেতৃত্ব ছাড়াও বাঙালি জাতির মুক্তি অসম্ভব। এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন শুরু করে। ছাত্রসমাজের ১১ দফার ভিত্তিতে কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ লাভ করে। গণআন্দোলনের ফলে এক পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
পরিশেষে বলা যায়, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। এ বিবেচনায় ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন সংঘটিত হয়। অতএব, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ, ও তাৎপর্যবহ।
Related Question
View Allপাকিস্তানি শাসন আমলে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলনের নাম ছিল 'ভাষা আন্দোলন'।
৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।
উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।
পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।
১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!