প্রাণী যখন প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে স্থায়ী বাসভূমি থেকে নতুন কোনো অনুকুল পরিবেশে যাত্রা করে এবং সেখানে সাময়িক বসবাসের পর পুনরায় স্থায়ী বসতিতে প্রত্যাগমন করে তাই হলো পরিযান.।
আচরণের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
১. প্রাণীর আচরণ সহজাত ও শিখন উভয় ধরনেরই হয়ে থাকে।
২. প্রাণীর আচরণ অভিযোজনিক, উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দিয়ে প্রতিটি প্রাণী প্রকৃতিতে টিকে থাকে।
৩. জিন, ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা উভয়ের দ্বারাই প্রাণীর আচরণ প্রভাবিত হয়।
৪. আচরণের দ্বারা প্রাণী দ্রুত ও সুবিধাজনক উপায়ে তার পরিবেশের প্রতি সাড়া প্রদান করে।
৫. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক সম্মিলিতভাবে বিশেষ আচরণকে সক্রিয় করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত A হলো শিখন আচরণ যা এক ধরনের শিখন আচরণ এবং B হলো সামাজিক আচরণ যা জীবের সহজাত আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
| পার্থক্যের বিষয় | শিখন আচরণ. | সামাজিক আচরণ |
| সংজ্ঞা | শিক্ষণ, প্রচেষ্টা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রাণীর যে আচরণ অর্জিত হয় তাকে শিখন আচরণ বলে। | প্রাণীতে অনেকগুলো প্রতিবর্তী ক্রিয়ার সৃষ্ট সরল, পূর্ব অভিজ্ঞতা বর্জিত, শিক্ষাবিহীন ও বংশগত আচরণকে সহজাত আচরণ বলে। |
| প্রজাতি সুনির্দিষ্টতা | সুনির্দিষ্ট নয়। | সুনির্দিষ্ট। |
| স্বভাবজাত | স্বভাবজাত নয়। | স্বভাবজাত। |
| প্রকৃতি ও অর্জন | জটিল প্রকৃতির ও শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হয়। | সরল প্রকৃতির ও বংশগতির ধারা অনুযায়ী জন্মগতভাবে অর্জিত হয়। |
| পরিবর্তনশীলতা | সর্বদা পরিবর্তনশীল। | কখনো পরিবর্তনশীল নয়। |
| আচরণ প্রদর্শনে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন | আছে | নেই। |
| অভিযোজনীয়তা | সর্বদা অভিযোজনীয় | সচরাচর অভিযোজনীয় |
| যেসব প্রাণীতে দেখা যায় | উচ্চশ্রেণির প্রাণীতে। | উচ্চ ও নিম্ন উভয় শ্রেণির প্রাণীতে। |
| বংশপরম্পরায় আচরণের প্রকাশ | ঘটে না। | ঘটে। |
উদ্দীপকের A আচরণটি হলো শিখন বা শিক্ষালব্ধ আচরণ এবং B আচরণটি হলো সামাজিক বা সহজাত আচরণ। দুই ধরনের আচরণই মানবজীবনে পরিলক্ষিত হয়।
সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ শুরু থেকেই নিজেদের প্রয়োজনেই সমাজে বসবাস করে আসছে। সমাজে মানুষ একে অপরের সাথে ভাবে বিনিময় করে। পারস্পরিক সহযোগিতা করে, এমনি প্রয়োজন হলে নিজেদের রক্ষার জন্য মৃত্যু ঝুঁকিও নিয়ে থাকে। মানুষের এই আচরণগুলো জন্মগত বা সহজাত। এছাড়া মানুষ সন্তান ধারণ করা থেকে শুরু করে এদের লালন-পালন এবং রক্ষণাবেক্ষণ মাতা বা পিতা কিংবা উভয়ের সহজাত আচরণ। শিশুর জন্মলাভ ও তাদের স্বনির্ভর হওয়া পর্যন্ত পিতামাতা কর্তৃক পরিচর্যা নেয়াই হলো অপত্য স্নেহ। এসবই সামাজিক বা সহজাত আচরণ। এছাড়া মানুষ সমাজে বসবাস করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জন করেছে।
শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার আলোকে এই বর্তমান সভ্যতা গড়ে তুলেছে। সভ্যতার শুরুতে মানুষ নিজের প্রয়োজনে কৃষিকাজ, পশুপালন শিকার 'করা শিখেছে। ক্রমাগত সভ্যতার বিকাশে মানুষ শহর, নগর গড়ে তুলেছে। কেউ হয়েছে ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ কৃষিবিদ। শিখন আচরণ ছাড়া এসবের কোনো কিছুই সম্ভব নয়। কারণ সহজাত আচরণ বংশ পরম্পরায় প্রকাশিত হলেও শিক্ষালব্ধ আচরণ অর্জন করতে হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের উভয় আচরণই মানবজীবনে পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allপ্রবাহমান পানির প্রতি প্রাণীর সাড়া প্রদানের প্রক্রিয়াই হলো রিওট্যাক্সিস।
যে প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণী নিজেদের জীবন বিপন্ন করে হলেও তার দলের অন্য সদস্যদেরকে সহায়তা করে তাকে পরার্থপরতা বা অ্যালটুইজম বলে। এ ধরনের আচরণ প্রাণীরা নিজ দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ মানুষের ক্ষেত্রে ভাই বা বোনের জীবন বাঁচাতে পানিতে/আগুনে ঝাঁপ দেওয়া, অঙ্গ প্রদান (চোখ, কিডনি) ইত্যাদি।
উদ্দীপকে 'A তে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো পাখি। পাখির বিশেষ স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি হলো পরিযান। নিচে পরিযান প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা
হলো-
পরিযান বলতে প্রাণীদের একস্থান হতে অন্যস্থানে গমনকে বোঝায়। সাধারণত প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা, খাদ্যপ্রাপ্তি ও প্রজননের জন্য প্রাণীরা পরিযান করে থাকে। পরিযান পাখির একটি সহজাত আচরণ। আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাদ্যাভাব, প্রজননগত সমস্যা ইত্যাদি কারণে পাখিরা পরিযানে উদ্দীপিত হয়। পরিযান সাধারণত দু'রকম হয়ে থাকে যথা- অক্ষাংশিক পরিযান ও উলম্বিক পরিযান। উত্তর থেকে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ থেকে উত্তর গোলার্ধে পরিযানকে অক্ষাংশিক পরিযান বলে। যেমন- শীতকালে সাইবেরিয়ায় প্রচণ্ড তুষারপাত ঘটে তাই সেখানকার পাখিরা বাংলাদেশে পরিযান করে। আবার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পাখিরা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পাহাড়ের চূড়ায় পরিযান ঘটায় যাকে উলম্বিক পরিযান বলে। সাধারণত পরিযায়ী পাখিরা তাদের দিক নির্দেশক হিসেবে পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্র ব্যবহার করে থাকে। প্রায় সকল পরিযায়ী পাখি বছরের পর বছর একই পথ অনুসরণ করে। এসব পাখিরা চেনা যায় এমন স্থান, সূর্য, তারকারাজি, চাঁদ ইত্যাদিকে পথ চেনার কাজে লাগায় এবং পূর্বের বাসস্থানে ফিরে যায়।
উদ্দীপকের B-তে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো তিন কাঁটা স্টিকলব্যাক মাছ। স্টিকলব্যাক মাছের অপত্য লালন নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সাধারণত তিন-কাঁটা স্টিকলব্যাক ছোট ছোট দলে ঝাঁক বেধে ঘোরে। যৌন পরিপক্কতা এলে পুরুষ মাছ দলহীন হয়ে উপকূলবর্তী অগভীর পানির জলাশয়ে নিজস্ব বিচরণ পরিসীমা নির্ধারণ করে সতর্ক পাহারায় নিযুক্ত থাকে। বিচরণ পরিসীমা প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বাসা নির্মাণ শুরু করে। এরপর পুরুষ মাছ জিগ-জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে স্ত্রী মাছকে আকৃষ্ট করে ডিম পাড়তে উদ্বুদ্ধ করে। ডিম পাড়া শেষ হলে পুরুষ মাছ ডিমগুলোকে নিষিক্ত করে এবং ডিমের দেখা শোনা আরম্ভ করে। নীড় ও নীড়ের ভেতর থাকা নিষিক্ত ডিমগুলো থেকে সুস্থ পোনা উৎপাদন, রক্ষা, যত্ন নেওয়া ও সবশেষে নিরাপদে পরিবেশে ফিরে যাওয়া অনুকূলে রাখতে পুরুষ মাছ সদা ব্যস্ত থাকে। এ সময় বাসার কাছে নিজ প্রজাতির সদস্যসহ কোনো মাছ বা ক্ষতিকর প্রাণীর প্রবেশ রোধ করতে মাছ সদা তৎপর থাকে। ডিম ফোটার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য স্টিকলব্যাক এক অদ্ভুত আচরণ করে। বাসায় প্রবেশ পথের সামনে মাথা নিচু করে তির্যকভাবে অবস্থান নিয়ে বক্ষপাখনা সামনের দিকে সঞ্চালিত করে। এভাবে অক্সিজেন চাহিদা নিশ্চিত, করতে পানিস্রোত অব্যাহত রাখে। এ প্রক্রিয়ার নাম ফ্যানিং। ৭-৮ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে পোনা বের হয়ে আসে। তখন পোনাগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য পুরুষ মাছটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। পোনার দল থেকে কিছু পোনা দলছুট হলে পুরুষ মাছটি দ্রুত সেগুলোকে মুখে তুলে এনে আবার মূল দলে ছেড়ে দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর পোনাগুলো ঝাঁক বেধে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে পুরুষ মাছটি তখন নিজ সঙ্গীদের কাছে ফিরে যায়। এভাবে স্টিকলব্যাক মাছ অপত্যের প্রতি যত্ন নেয়।
দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্র থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট-অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করে তাই হলো অ্যান্টিবডি।
রজঃচক্র হলো বয়োঃপ্রাপ্ত মারীর নির্দিষ্ট সময় পর পর জরায়ু থেকে রক্ত, মিউকাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের ভগ্নাংশ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অনিষিক্ত ডিম্বাণুর চক্রীয় নিষ্কাশন। স্ত্রী যৌনচক্রের সময় জরায়ুর প্রাচীরে যেসব ধারাবাহিক ও চক্রাকার পরিবর্তন ঘটে তাকে জরায়ু চক্র বলে। প্রতিবার জরায়ুচক্র শেষে রক্তসহ মিউকাস ও অন্যান্য পদার্থ যোনীপথে বের হয়ে যায়। একে রজঃস্রাব বলে। ২৮ দিন পর পর একটি জরায়ু চক্র শেষে আবার নতুন করে রজঃস্রাব হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!