উদ্দীপকে A, C ও D হলো যথাক্রমে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ। নিচে শর্করা, আমিষ ও স্নেহের কাজ আলোচনা করা হলো-
শর্করার কাজ:
১. শর্করা সহজে হজম হয়।
২. দেহে কাজ করার শক্তি যোগায় ও তাপ উৎপন্ন করে।
৩. শর্করায় বিদ্যমান সেলুলোজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। সেলুলোজ
প্রোটিনের কাজ :
১. প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা।
২. দেহে শক্তি উৎপন্ন করা।
৩. দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়।
স্নেহের কাজ:
১. দেহের তাপ ও কর্মশক্তি বাড়ায়।
২. দেহের প্রোটিনকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
৩. দেহে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-এর যোগান দেয়।
আমরা পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যবস্তু দেখতে পাই। এই খাদ্য বস্তুগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-অজৈব ও জৈববস্তু। শর্করা, প্রোটিন, চর্বি বা স্নেহ ইত্যাদি আমরা জীব থেকে পাই। এগুলো জৈববস্তু। এ বস্তুগুলো আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। খাদ্য ও পুষ্টির সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুষ্টি হচ্ছে প্রতিদিনের একটি প্রক্রিয়া, যা জটিল খাদ্যকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী হয়। এ অধ্যায়ে আমরা খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে বিশদ জানতে পারব।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
- খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের কাজ বর্ণনা করতে পারব।
- সুষম খাদ্যের তালিকা প্রস্তুত করতে পারব।
Related Question
View Allদেহের কাজকর্ম সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত করে দেহকে সুস্থ ও কাজের উপযোগী রাখার জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, সেসব উপাদান বিশিষ্ট বস্তুকে খাদ্য বলে।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত খাদ্য উপাদানটি পেয়ারা, যা ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন 'সি' সুস্থ-সবল হাড়, দাঁত, দাঁতের মাড়ি ও মুখের ক্ষত সারাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই দেহের হাড়, দাঁত, দাঁতের মাড়ি ও মুখের ক্ষত দূর করতে পেয়ারা খাওয়া প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'D' চিহ্নিত খাদ্যটি ভাত, যা শর্করাজাতীয় খাদ্য। সব ধরনের শর্করাই কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এ তিনটি 'মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এ উপাদানগুলো স্নেহ জাতীয় পদার্থের দহনে সহায়তা করে; দেহে অন্যান্য খাদ্য উপাদান আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ গ্রহণে সহায়তা করে। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত থেকে দেহে কর্মশক্তি যোগায় এবং তাপ উৎপন্ন করে। মোটকথা এ খাদ্যটি অন্যান্য খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। আর কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই দেহের আকার ও ওজন বৃদ্ধি। এভাবেই D চিহ্নিত খাদ্যটি দেহের ওজন বাড়ায়।
সুষম খাদ্য বলতে আমরা সেসব খাবারকে বুঝি, যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সকল খাদ্য উপাদান থাকে। অর্থাৎ সুষম খাদ্যে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন, লবণ ও পানি দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে থাকে। উদ্দীপকের চিত্রে পেয়ারা, মাছ, সবজি ও ভাতের ছবি দেওয়া আছে। এসব খাদ্যে নিম্নলিখিতব উপাদানগুলো রয়েছে-
১. ভাতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা বা শ্বেতসার রয়েছে।
২. মাছ প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও এতে তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানও রয়েছে।
৩. পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।
৪. টাটকা শাকসবজিতে ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের খাদ্যগুলো পানি ব্যতীত সুষম খাদ্যের সবগুলো উপাদানের চাহিদাই পূরণ করতে পারবে। তাই চিত্রের খাদ্যগুলোকে সুষম খাদ্যের উপযোগী বলা যায়।
দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবই অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা।
মরিয়ম শাকসবজি না খাওয়ায় তার ভিটামিন 'এ'-এর অভাব দেখা দিয়েছে। আমরা জানি, ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। রাতকানা রোগ হলে রাতে ভালোভাবে দেখা সম্ভব হয় না। উদ্দীপক অনুসারে কয়েক দিন ধরে মরিয়মও রাতের বেলা ভালো দেখতে পায় না। অতএব বলা যায়, মরিয়মের রাতকানা রোগ হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!