v) A Tale of Two cities ['আ টেইল অব টু সিটিস'; 1859] এই উপন্যাসটি লিখা হয়েছে যে দুটি শহরের কাহিনী নিয়ে সেগুলোর নাম হচ্ছে লন্ডন এবং প্যারিস; ফরাসি বিপ্লবের প্রেক্ষিতে লেখা।
vi) The Pickwick Papers (1812-1870)
vii A Christmas Carol
viii) Hard Times
ix) The Bleak House
Charles Dickens এর উপন্যাস মনে রাখার কৌশল :
Oliver অনেক বড় প্রত্যাশা নিয়ে Christmas এর দিনে David এর সাথে দেখা করার জন্য দুই শহরে গেল। David সেখানে Bleak house মধ্যে hard time pass করছে।
Oliver = Oliver Twist
বড় প্রত্যাশা = Great Expectation
Christmas = A Christmas Carol
David = David Copperfield
দুই শহর = A Tale of Two Cities(London, Paris City)
Bleak house = Bleak House
Hard Time = Hard Times
আ টেইল অভ টু সিটিজ :
A Tale of Two Cities (1859) চার্লস ডিকেন্সের দ্বিতীয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। প্রথম হলো Barnaby Rudge (১৮৪০-১৮৪১)। ডিকেন্স এই বইটির মূল ঐতিহাসিক দৃশ্য ও ঘটনাগুলো কার্লাইলের ফরাসী বিপ্লবের ওপর লিখিত বই থেকে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে বাস্তিল পতন ও বৃদ্ধ ফাউলনের হত্যাকাণ্ডের আখ্যান কার্লাইলের গ্রন্থ থেকে সরাসরি নেয়া হয়েছে। পুরো উপন্যাসটি জুড়ে ফরাসী বিপ্লবের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ব্যাপ্ত হয়ে আছে যেখানে মূল গল্প ডা: ম্যানেট, লুসি, চার্লস ডারনে ও সিডনি কারটনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। লুসির প্রতি অপ্রতিরোধ্য ও গভীর প্রেম সিডনি কারটনকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করেছে এবং এই আত্মত্যাগ পুরো উপন্যাসটিকে এক অদ্ভুত তাৎপর্যময় দ্যোতনা দিয়েছে। অন্যান্যদের মধ্যে মসিয়ে দেফার্জে যারা দুজনেই ফরাসী বিপ্লবেই শুধু নয়, উপন্যাসের চরিত্রগুলোর জীবনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
গ্রেট এক্সপেকটেশন্স :
মা বাবা হারা অনাথ বালক পিপ। তিন কূলে তার কেউ নেই, শুধু একটি মাত্র বোন ছাড়া। বোনের পরিবারেই সে আশ্রিত। বোনটি আবার খুব মুখরা স্বভাবের। পিপের উপর তার নির্যাতন ছিল একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। পিপের ভগ্নিপতি কিন্তু খুবই ভালো মানুষ। পিপের প্রতি তার ছিল যথেষ্ট সমবেদনা। পিপ একদিন সন্ধ্যাবেলায় তার মা বাবার কবরের কাছে খেলতে গিয়ে জেল পালানো এক কয়েদির মুখোমুখি হয়। কয়েদির জন্য বাধ্য হয়ে সে খাবার চুরি করে বোনের বাড়ি থেকে। এ ঘটনায় একটি বিরুপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার কিছুদিন পরে গ্রামেরই এক চিরকুমারী, কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা পিপকে তার বাড়িতে গিয়ে খেলাধূলার আহ্বান জানায়। সেখানে সে এস্টেলা নামক এক বালিকার সাথে পরিচিত হয়। এ বালিকা পরবর্তীতে পিপের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর মাঝে হঠাৎ করেই এক সময় পিপের সামনে ভবিষৎ সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। সেই জেল পালানো কয়েদি পিপকে ভদ্রলোক বানানোর জন্য সব রকম দায়িত্ব গ্রহণ করে। পিপ চলে আসে শহরে সেখানে সে পরিচিত হয় সমাজের নানা স্তরের মানুষের সাথে। চলতে থাকে এস্টেলার সাথে ভালোবাসার টানাপোড়ন। পিপ তখন ধনাঢ্য হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। হঠাৎ করেই একদিন পিপের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ধরা পড়ে জেল পালানো আসামী। জেলখানায়ই মৃত্যু হয় তার আর পিপের স্বপ্ন উবে যায় কপূরের মতো। উপন্যাসে যেমন আছে হাস্যরস, তেমনি ব্যথা বেদনার সংঘাত আর নাটকীয়তা। বিচিত্র সব মানুষের আনাগোনায় পূর্ণ এ কাহিনী।
নানা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে পিপ যখন শেষে গ্রামে ফিরে আসে তখন এস্টেলার সাথে তার মিস হাভিশামের পরিত্যক্ত বাগানে দেখা হয়। সেখানে আবার তারা একত্রিত হয়। এস্টেলা নিজের ভুল বুঝতে পারে। পিপ ও এস্টেলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
Great Expectations
Philip Pirrip (Pip) – উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ও বর্ণনাকারী (narrator)
Miss Havishan – স্বাস্থ্যবতী খিটখিটে বৃদ্ধ মহিলা। Pip এর গ্রামের কাছেই Satis House এ বাস করেন।
Estella - Miss Havishan এর প্রতিপাল্য (ward) যে মাঝে মাঝে Pip কে বন্ধু বলে বিবেচনা করে।
'অলিভার টুইস্ট' :
এ আছে এক অজ্ঞাতকুলশীল দুর্ভাগা বালকের কথা। অনাথ আশ্রমের অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, ছেলেটি পালাল লন্ডনে। কিন্তু পড়ল চোরদের পাল্লায়। চোরের দল তাকে বাধ্য করল চুরিবিদ্যা শিখতে। চুরি করতে গিয়ে সে আহত হয়। ঐ দলেরই এক মেয়ে ন্যান্সির চেষ্টায় জানা গেল তার প্রকৃত পরিচয়। শেষ পর্যন্ত সে আশ্রয় পেল দয়ালু বার্ডনলোর কাছে। চোরেরা পেল শাস্তি। উপন্যাসে তৎকালীন লন্ডনের সামাজিক জীবন, বিশেষ করে নিচুতলার বাসিন্দাদের বাস্তব জীবন পরিচয় যেমন রয়েছে, সেই সঙ্গে রয়েছে লেখকের গভীর সহানুভূতি। ফলে অলিভারের দুঃখ পাঠককে নাড়াচাড়া দেয় এবং চিত্রগুলিও এই সহানুভূতি লাভে সজীব হয়ে ওঠে।
'অলিভার টুইস্টে'র যেমন রয়েছে অনাথ আশ্রমের অত্যাচারের চিত্র, তেমনি 'নিকোলাস নিক্সবি'তে রয়েছে স্কুলের কথা। এই কাহিনীও ডিকেন্সের জীবন থেকে নেওয়া। ভাগ্যবিড়ম্বিত নিকোলাস পিতার মৃত্যুর পর তার মা ও বোনকে নিয়ে একেবারে অথৈ সমুদ্রে পড়ল। দ্বারস্থ হলো অহংকারী, স্বার্থপর কাকার। কাকা নিকোলাসকে পাঠিয়ে দিল এক অনাথ বিদ্যালয়ে।
সেখানে অমানুষিক অত্যাচারের হাত থেকে উদ্ধার পেতে ওখানকার এক রোখা ছেলে স্পাইক সহ নিকোলাস পালাল। রোগে ও আতঙ্কে স্পাইক মারা গেল। অক্লান্ত অধ্যাবসায়ের মধ্য দিয়ে অবশেষে ভাগ্যের আর্শীবাদ সে লাভ করল এবং দুঃখ ও দুর্দশার হাত থেকে মা বোনকে উদ্ধার করল। ডিকেন্সের শৈশব জীবনের দারিদ্র ও অনাথ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নামে লাঞ্ছনা ও অত্যাচারের চিত্র উপন্যাসটিতে উপস্থিত।
'দ্য ওল্ড কিউরিয়সিটি শপ' :
উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে আর এক দুর্ভাগা জীবনের ইতিকথা। বালিকা নেল ও তার ঠাকুরদার জীবনের করুণ ছবি। নেল তার দাদুর সঙ্গে পুরানো জিনিসের দোকান দেখাশুনা করত। দারিদ্রের জন্য দাদু ডানিয়েল কুইলপ নামে এক দুর্বৃত্ত ধনীর কাছে ঋণ করলেন। দেনার দায়ে দোকান হলো বাজেয়াপ্ত। বৃদ্ধসহ নাতনি আশ্রয় নিল গ্রামের গীর্জায়। শেষ পর্যন্ত অভাবের তাড়নায় মারা গেল। কিছুদিন পর দাদুও তাকে অনুসরণ করলেন। সুখ ও দুঃখ, স্বপ্ন ও কল্পনা নিয়ে বালিকা নেল মনোজ্ঞ হয়ে উঠেছে। নেলের দুঃখ ও মৃত্যু পাঠক হৃদয় ব্যথিত করে। সমাজের শুধু 'কু' নয়, 'সু' ও 'কু' মিলিয়ে সকল মানুষের কথাই তিনি বলেছেন।
'ডেভিড কপারফিল্ড' :
উপন্যাসটি অনেকটা আত্মজীবনীমূলক। অবশ্য ডিকেন্সের বেশীর ভাগ উপন্যাসের মধ্যেই তিনি নিজেকে ভেঙ্গে দেখিয়েছেন। আপন জীবনের অতীত অধ্যায়সমূহ থেকেই নিয়েছেন উপন্যাসের ঘটনা ও চরিত্র। পিতার মৃত্যুর পরই ডেভিড কপারফিল্ডের জন্ম। দুঃখ ও কষ্ট নিত্যসঙ্গী। মা দ্বিতীয়বার বিবাহ করলেন এক দুষ্ট লোককে, নাম মার্ডস্টোন। ডেভিড ও তার মা দুজনেই এর লাঞ্ছনার শিকার হলেন। অল্পদিন পরেই মা মারা গেলেন। ডেভিডকে পাঠানো হলো এক বেতমারা স্কুলে। শিক্ষার নামে সেই অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে ডেভিড পালাল লন্ডনে। দীর্ঘ সংগ্রামের শেষে এল প্রতিষ্ঠা। স্বীকৃতি এল লেখকরূপে। জীবনে এই দুঃখের চিত্রের পাশাপাশি স্নেহময়ী ধাত্রী পেগটি, সদাপ্রফুল্ল, মিকবার মধুরস্বভাব আগ্নিস ডেভিডের জীবনে যেন স্বর্গীয় সান্ত্বনা।
'ব্লিক হাউস' :
উপন্যাসটিতে সেকালের (সম্ভবত সর্বকালের) আদালতের বিচিত্র-বিচার-ব্যবস্থার প্রতি রয়েছে তীক্ষ্ণ বিদ্রূপ। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচার-প্রত্যাশী বাদী-বিবাদীর সাধ্যাতিরিক্ত অর্থব্যয় যে বিচার-প্রত্যাশীর জীবনে কষ্ট ও হতাশাই নিয়ে আসে, দীর্ঘসূত্র বিচার যে অবিচারেরই সামিল সেই কথাই লেখক বলেছেন। ভালমন্দ নানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমাজের বাস্তব চিত্র এই উপন্যাসটিতেও ফুটে উঠেছে। রিচার্ড কারসটোন নামে এক সাধারণ যুবক ও তার মধুর স্বভাব জ্ঞাতিবোন ক্লেয়ার এই দুজনে 'জান্ডাইস এন্ড জারনডাইস' প্রতিষ্ঠানের এক সম্পত্তির বিলি-ব্যবস্থা নিয়ে মামলায় বিবাদী পক্ষ। এই মামলা এত দীর্ঘদিন ধরে চলছিল যে তা এদের কাছে ভাগ্যের নিষ্ঠুর কৌতুকের ব্যাপারে হয়ে উঠল। লাভ হলো এর সঙ্গে জড়িত পেশাদারী মানুষগুলোর- উকিল, মুহুরীদের। মামলা মিটলে এই সম্পত্তি পাবে একথা ভাবতে ভাবতেই রিচার্ড অসুস্থ হয়ে পড়ল, মারা গেল। আকস্মিকভাবে যখন মামলা একদিন শেষ হলো, জানা গেল সেই মামলার খরচ মেটাতেই ঐ বিতর্কিত সম্পত্তি বিকিয়ে গেছে।