কোনো অবাধ সহজলভ্য দ্রব্য ছাড়া অন্য সব দ্রব্য ভোগ করার জন্যে যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তাকে ভোক্তা বলা হয়।
হ্যাঁ, শুধু উপযোগ নিঃশেষকেই অর্থনীতিতে ভোগ বলা যায়।
মানুষ বিভিন্ন দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপযোগ গ্রহণ করে। এটি আমাদের বিভিন্ন ধরনের অভাবকে পূরণ করে। অভাব পূরণের ক্ষমতাই হলো উপযোগ। উদাহরণস্বরূপ, রুটি বা ভাত পঁচে নিঃশেষিত হলে এর কোনো উপযোগ নেই। কেননা তা কারো ক্ষুধার অভাবকে পূরণ করতে পারেনি। অপরপক্ষে, ভাত খাওয়ার মাধ্যমে এর উপযোগ শেষ হয় অর্থাৎ আমাদের ক্ষুধাজনিত অভাব পূরণ হয়। তাই কোন দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপযোগ নিঃশেষিত হলেই তাকে ভোগ বলা যাবে।
উদ্দীপকের B ছকে? এর স্থলে যথাযথ মোট উপযোগের
পরিমাণ নির্ণয় করে বসানো হলো-
A | B | C |
দ্রব্যের একক | মোট উপযোগ (টাকায়) | প্রান্তিক উপযোগ (টাকায়) |
১ম | ৩ | ৩ |
২য় | ৫ | ২ |
৩য় | ৬ | ১ |
৪র্থ | ৬ | ০ |
৫ম | ৫ | -১ |
উদ্দীপকে বর্ণিত সূচিটি ভোগের পরিমাণের সঙ্গে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধির সম্পর্ক প্রকাশ করে।
ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলতে আমরা বুঝি, ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করে তার কাছে ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত হ্রাস পায়। কোনো একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যের ভোগের একক বৃদ্ধির ফলে উপযোগ হ্রাসের এ প্রবণতাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে। ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধির কিছু অনুমিত শর্ত রয়েছে। যেমন- ভোক্তার আয়, রুচি, পছন্দ ও অভ্যাস অপরিবর্তিত থাকবে; ভোক্তার আচরণ যুক্তিসঙ্গত হবে; দ্রব্যের প্রতিটি একক সমজাতীয় হবে; কোনো নির্দিষ্ট সময় বিবেচ্য হবে; সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের পরিপূরক ও পরিবর্তক দ্রব্যের দাম স্থির থাকবে ইত্যাদি। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রথম একক ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ ৩ টাকা। ২য় একক ভোগের ক্ষেত্রে প্রান্তিক উপযোগ ২ টাকা। এভাবে ভোগের ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম এককে প্রান্তিক উপযোগ যথাক্রমে ১, ০ এবং -১। ভোগের একক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। অর্থাৎ একই জিনিস বার বার ভোগ করলে অতিরিক্ত এককের উপযোগ ক্রমে কমতে থাকে।
ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করে তার কাছে ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত কমে যেতে থাকে। এমনকী প্রান্তিক উপযোগের সর্বোচ্চ মাত্রার পর তা ঋণাত্মক হয়। ভোগের একক বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমশ কমে যাওয়ার এ প্রবণতাই ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের অভাব পূরণ করার ক্ষমতাকে উপযোগ বলে
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্যের ভোগ বাড়লে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ার সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে। মোট উপযোগ হলো একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টি। আর, অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য ভোগ করে যে অতিরিক্ত তৃপ্তি পাওয়া যায় তাই প্রান্তিক উপযোগ। যেমন- টিপু ৩টি পেয়ারা ভোগ করে যথাক্রমে ৬, ৪ ও ৩ টাকা সমান উপযোগ পায়। এক্ষেত্রে তার মোট উপযোগ হবে (৬+ ৪+৩) = ১৩ টাকার সমান, এবং প্রান্তিক উপযোগ হবে যথাক্রমে ৬, ২ ও ১ টাকা।
X' দ্রব্যের চাহিদা সূচি থেকে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো

প্রদত্ত রেখাচিত্রে ভূমি (OX) অক্ষে চাহিদার পরিমাণ এবং লম্ব (OY) অক্ষে দাম পরিমাপ করা হয়েছে। চাহিদা সূচি অনুযায়ী 'X' দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ২০ টাকা, ১৫ টাকা ও ১০ টাকা হলে তার চাহিদা হয় যথাক্রমে ৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত), ১০ কুইন্টাল (বিন্দু ৮ দ্বারা নির্দেশিত) এবং ১৫ কুইন্টাল (বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত)। এখন দাম ও চাহিদার পরিমাণ নির্দেশক ৮৩ কিন্দুগুলো যোগ করে DID, রেখাটি পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে অঙ্কিত 'ক' ব্যপ্তির চাহিদা রেখা। দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখাটি বামদিক থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়েছে।
ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাষিদার পরিমাণ যোগ করে 'X' দ্রব্যের বাজার চাহিদা পাওয়া যায়। নিম্নে বাজার চাহিদার সাথে 'ক' ব্যক্তির চাহিদা তুলনা করা হলো-
প্রতি একক দ্রব্যের দাম (টাকায় | ক' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q) (কুইন্টাল) | 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ Q: (কুইন্টাল | বাজার চাহিদার পরিমাণ ০-০ (কুইন্টাল) |
২০ | ৫ | ৭ | ১২ |
১৫ | ১০ | ১১ | ২১ |
১০ | ১৫ | ১৫ | ৩০ |
প্রদত্ত সূচির ভিত্তিতে X দ্রব্যের বাজার চাহিদা রেখা অঙ্কন করা হলো-

চিত্রে OX অক্ষে দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ এবং OY অক্ষে দ্রব্যের দাম নির্দেশ করা হয়েছে। D,D, হলো 'ক' ব্যক্তির চাহিদা রেখা এবং D,D, হলো 'খ' ব্যক্তির চাহিদা রেখা। 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ যোগ করে বাজার চাহিদা পাওয়া যায়, যা D'D' রেখা দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদার সাহায্যে বাজার চাহিদা পাওয়া গেলেও উভয় চাহিদা রেখার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা কেবল একজন ব্যক্তির চাহিদার পরিমাণ নির্দেশ করে। অন্যদিকে বাজার চাহিদা বাজারে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিগত পরিমাণকে প্রকাশ করে, তাই বাজার চাহিদার পরিমাণ ব্যক্তিগত চাহিদার পরিমাণ থেকে সবসময় বেশি হয়। আবার, বাজার চাহিদা রেখা এবং ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা উভয়ই বামদিক থেকে ডানদিকে, নিম্নগামী হলেও বাজার চাহিদার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এ রেখাটি অপেক্ষাকৃত কম ঢাল বিশিষ্ট হয়।
ক্রেতার যে আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকে, অর্থনীতিতে তাকে চাহিদা বলে।
কোনো দ্রব্যের দামের সাথে তার চাহিদার পরিমাণের বিপরীত সম্পর্ক যে বিধির সাহায্যে প্রকাশ করা হয় তাকে চাহিদা বিধি বলে।
ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাস, ক্রেতার সংখ্যা, বিকল্প দ্রব্যের দাম অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে। যেমন- কোনো দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ১০ টাকা হলে, একজন ভোক্তা ৪ একক দ্রব্য ক্রয় করে। দাম কমে ৮ টাকা এবং ৬ টাকা হলে চাহিদা বেড়ে যথাক্রমে ৬, ৮ একক হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের সাথে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!