যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা লাভ করে তাকে রাজতন্ত্র বলে।
একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধান নিজের ইচ্ছেমতো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বলে একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে ক্ষমতা জনগণের হাতে না থেকে একনায়কের হাতে কুক্ষিগত থাকে। একনায়কের ইচ্ছানুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। এখানে গণমাধ্যমগুলোর কোনো স্বাধীনতা থাকে না। একনায়কের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারে না। এ ব্যবস্থায় শাসককে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। এসব কারণে একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
ছক 'A' গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করে।
যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকাজে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসন ব্যবস্থা। এতে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়।
ছক 'A' তে বর্ণিত রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেখা যায়, এখানে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত এবং একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। এছাড়া এ শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। ছক 'A' তে বর্ণিত রাষ্ট্রব্যবস্থার এসব বৈশিষ্ট্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। তাই বলা যায়, ছক 'A' গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থারই প্রতিফলন।
ছক 'B' তে বর্ণিত রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো পুঁজিবাদী রাষ্ট্র। আর ছক 'C' তে বর্ণিত রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রে প্রচলিত রয়েছে।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে' সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকার ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন। ছক 'B' তে এ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রেরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চলমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী।
অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না। এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বন্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। চীন ও কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উদাহরণ। ছক 'C' তে এ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথাই বলা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমানে পৃথিবীতে ১৯৫টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৫টি রাষ্ট্র (গণচীন, কিউবা, লাওস, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া) সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে রয়েছে। তাই একথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় যে, ছক 'B' তে বর্ণিত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থাই পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রে প্রচলিত রয়েছে।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!