2016 সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে মোট 118টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। রসায়ন অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য সব কয়টি মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে কিছু মৌলিক পদার্থ একই রকম ধর্ম প্রদর্শন করে। যে সকল মৌলিক পদার্থ একই রকম ধর্ম প্রদর্শন করে তাদেরকে একই গ্রুপে রেখে সমগ্র মৌলিক পদার্থের জন্য একটি ছক তৈরি করার চেষ্টা দীর্ঘদিন থেকেই চলছিল। কয়েক শত বছর ধরে বিভিন্ন বিজ্ঞানীর প্রচেষ্টা, অনেক পরিবর্তন, পরিবর্ধনের ফলে আমরা মৌলগুলো সাজানোর এই ছকটি পেয়েছি, যেটা পর্যায় সারণি বা Periodic table নামে পরিচিত। এ পর্যায় সারণি রসায়নের জগতে বিজ্ঞানীদের এক অসামান্য অবদান। এ পর্যায় সারণি এবং তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কারও ভালো ধারণা থাকলে শুধু এই 118টি মৌলের বিভিন্ন ধর্ম নয় বরং এ সকল মৌল দ্বারা গঠিত অসংখ্য যৌগের ধর্মাবলি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা জন্মে। এই অধ্যায়ে পর্যায় সারণি এবং পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলসমূহের বিভিন্ন ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -
- পর্যায় সারণি বিকাশের পটভূমি বর্ণনা করতে পারব।
- মৌলের সর্ববহিঃস্তর শক্তিস্তরের ইলেকট্রন বিন্যাসের সাথে পর্যায় সারণির প্রধান গ্রুপগুলোর সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারব (প্রথম 30টি মৌল)।
- একটি মৌলের পর্যায় শনার করতে পারব।
- পর্যায় সারণিতে কোনো মৌলের অবস্থান জেনে এর ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম সম্পর্কে ধারণা করতে পারব।
- মৌলসমূহের বিশেষ নামকরণের কারণ বলতে পারব।
- পর্যায় সারণির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পর্যায় সারণির একই গ্রুপের মৌল দ্বারা গঠিত যৌগের একই ধরনের ধর্ম প্রদর্শন করতে গাঁৱৰ ।
- পরীক্ষণের সময় কাচের যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার করতে পারব।
- পরীক্ষণ কাজে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব।
- পর্যায় সারণি অনুসরণ করে মৌলসমূহের ধর্ম অনুমানে আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারব।
Related Question
View Allরাসায়নিকভাবে সদৃশ প্রতি ৩টি মৌলের মধ্যে মাঝের মৌলটির পারমাণবিক ভর মোটামুটিভাবে অপর মৌল দুটির পারমাণবিক ভরের গড় হয়- এটিই ডোবেরাইনার ত্রয়ী সূত্র।
বেরিয়াম (Ba) মৌলটি গ্রুপ-২ এ অবস্থিত। এর অক্সাইড পানিতে ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে। এর সর্ববহিঃস্ত স্তরের দুটি ইলেকট্রন অধাতুকে দান করে আয়নিক যৌগ (লবণ) তৈরি করে। এটি বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে। তাই বেরিয়াম (Ba) কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়।
ক্ষার
প্রদত্ত উদ্দীপকে সোডিয়াম (Na), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ফ্লোরিন (চ), ক্লোরিন (CI) এবং ব্রোমিন (Br) এই পাঁচটি মৌল অবস্থিত। এদের মধ্য Na, Mg ও CI মৌলত্রয় পর্যায় সারণির তৃতীয় পর্যায়ে এবং F, CI ও Br মৌলত্রয় পর্যায় সারণির 17 নং গ্রুপে অবস্থিত।
আমরা জানি, পর্যায় সারণির যে কোনো পর্যায়ে যতই বামদিক থেকে ডানদিকে যাওয়া যায় অর্থাৎ পারমাণবিক সংখ্যা যতই বাড়ে পরমাণুর আকার ততই হ্রাস পায়। অতএব উদ্দীপকের Na, Mg ও CI এর মধ্যে Na এর আকার সবচেয়ে বড় এবং CI এর আকার সবচেয়ে ছোট। এদের আকারের ক্রম হলো Na > Mg > Cl । Na এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ 0.154 nm এবং CI এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ 0.099 nm।
আবার একই গ্রুপের মৌলসমূহের বেলায় উপর থেকে নিচের দিকে গেলে পরমাণুর ইলেকট্রনের জন্য নতুন কক্ষপথ বা শক্তিস্তর যুক্ত হয়।
ফলে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়। F, CI ও Br মৌলগুলোর মধ্যে F একই গ্রুপের সবচেয়ে উপরে এবং Br সবচেয়ে নিচে অবস্থিত। অতএব, এদের আকারের ক্রম হলো F < Cl < Br Br এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ হলো 0.144nm |
উপরোক্ত আলোচনা হতে দেখা যায়, Na ও Br উভয়ের আকারই CI থেকে বড়। অর্থাৎ এদের ক্রম হলো- Na > Cl < Br কিন্তু Na ও Br এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 0.154 nm ও 0.114 nm । সুতরাং উদ্দীপকের মৌলগুলোর মধে Na এর আকার সবচেয়ে বড়।
গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে।
উদ্দীপকের পর্যায়ের মৌলগুলো যথাক্রমে Na, Mg ও Cl
পর্যায় সারণির একই পর্যায়ে মৌলগুলোর জন্য বাম দিক থেকে ডান দিকে ইলেকট্রন আসক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। কারণ বাম থেকে ডান দিকে পারমাণবিক সংখ্যা। ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ফলে নিউক্লিয়াসের প্রোটনের সংখ্যা বৃদ্ধি তথা ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় কিন্তু নতুন কোনো শক্তিস্তর সৃষ্টি না হওয়ায় নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রনের দূরত্ব তেমন বৃদ্ধি পায় না। ফলে ধনাত্মক চার্জের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। তাই অধিক আকর্ষণের জন্য মৌলগুলোের ইলেকট্রন আসক্তি বৃদ্ধি পায়।
এক্ষেত্রে উদ্দীপকের পর্যায়ের সর্ববামের মৌল Na এর আকার সবচেয়ে বড় এবং সর্বডানের মৌল Cl এর আকার সবচেয়ে ছোট। অতএব এ পর্যায়ের মৌলের আকারের ক্রম হলো Na > Mg > ........>Cl আবার, আমরা জানি মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ অর্থাৎ আকার বৃদ্ধি পেলে ইলেকট্রন আসক্তি হ্রাস পায় এবং আকার হ্রাস পেলে ইলেকট্রন আসক্তি বৃদ্ধি পায়। সুতরাং উদ্দীপকের পর্যায়ের মৌলগুলোের ইলেকট্রন আসক্তির ক্রম হবে Na < Mg<..........
মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
উদ্দীপকের B মৌলটি পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের গ্রুপ-২ এ অবস্থিত। কাজেই মৌলটি হতে ক্যালসিয়াম (Ca)।
যে সকল ধাতু মাটিতে যৌগ হিসেবে পাওয়া যায় এবং পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষার তৈরি করে তাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। বৈশিষ্ট্য অনুসারে গ্রুপ-2 এর মৌলসমূহকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। ক্যালসিয়াম (Ca) পর্যায় সারণির দ্বিতীয় গ্রুপে অবস্থিত একটি মৌল। মৌলটি মূলত মাটিতে পাওয়া যায় এবং পানির সাথে বিক্রিয়া করে Ca(OH)2 গঠন করে। তাই ক্যালসিয়াম (Ca) কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!