উত্তরঃ
উদ্দীপকে প্রদত্ত মৌল B এর সর্ববহিঃস্থরের ইলেকট্রন বিন্যাস \((n-1)s^2 (n-1)p^3\) এবং n = 3 হওয়ায়, এর ইলেকট্রন বিন্যাস হবে \(2s^2 2p^3\)। এটি নাইট্রোজেন (N) মৌলের (পারমাণবিক সংখ্যা 7) সর্ববহিঃস্থরের ইলেকট্রন বিন্যাস। সুতরাং, মৌল B হলো নাইট্রোজেন এবং এর হাইড্রাইড হলো অ্যামোনিয়া (\(NH_3\))।
অনুরূপভাবে, মৌল C এর সর্ববহিঃস্থরের ইলেকট্রন বিন্যাস \((n-1)s^2 (n-1)p^4\) এবং n = 3 হওয়ায়, এর ইলেকট্রন বিন্যাস হবে \(2s^2 2p^4\)। এটি অক্সিজেন (O) মৌলের (পারমাণবিক সংখ্যা 8) সর্ববহিঃস্থরের ইলেকট্রন বিন্যাস। সুতরাং, মৌল C হলো অক্সিজেন এবং এর হাইড্রাইড হলো পানি (\(H_2O\))।
নাইট্রোজেন পরমাণু তার সর্ববহিঃস্থ স্তরে একটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল (lone pair) এবং তিনটি বন্ধন যুগল (bond pair) নিয়ে থাকে। অ্যামোনিয়া (\(NH_3\)) অণুতে নাইট্রোজেন পরমাণু \(sp^3\) সংকরিত অবস্থায় থাকে। এর আদর্শিক আকৃতি চতুস্তলকীয় (tetrahedral) হলেও, একটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগলের উপস্থিতির কারণে নিঃসঙ্গ যুগল-বন্ধন যুগল (\(lp-bp\)) বিকর্ষণ বন্ধন যুগল-বন্ধন যুগল (\(bp-bp\)) বিকর্ষণের চেয়ে বেশি হওয়ায়, বন্ধন কোণ আদর্শিক \(109.5^\circ\) থেকে কমে \(107^\circ\) হয় এবং আকৃতি পিরামিডীয় হয়।
অন্যদিকে, অক্সিজেন পরমাণু তার সর্ববহিঃস্থ স্তরে দুটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল এবং দুটি বন্ধন যুগল নিয়ে থাকে। পানি (\(H_2O\)) অণুতে অক্সিজেন পরমাণুও \(sp^3\) সংকরিত অবস্থায় থাকে। এখানে দুটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল থাকার কারণে নিঃসঙ্গ যুগল-নিঃসঙ্গ যুগল (\(lp-lp\)) বিকর্ষণ, নিঃসঙ্গ যুগল-বন্ধন যুগল (\(lp-bp\)) বিকর্ষণ এবং বন্ধন যুগল-বন্ধন যুগল (\(bp-bp\)) বিকর্ষণের মধ্যে \(lp-lp > lp-bp > bp-bp\) ক্রমটি পরিলক্ষিত হয়। এই তীব্র বিকর্ষণের কারণে বন্ধন কোণ আদর্শিক \(109.5^\circ\) থেকে আরও কমে \(104.5^\circ\) হয় এবং আকৃতি কৌণিক বা V-আকৃতির হয়।
বিকর্ষণের এই তারতম্যের কারণে, অ্যামোনিয়া (\(NH_3\)) অণুতে একটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল থাকায় বিকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং বন্ধন কোণ \(107^\circ\) হয়। পক্ষান্তরে, পানি (\(H_2O\)) অণুতে দুটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল থাকায় বিকর্ষণ অ্যামোনিয়ার চেয়ে বেশি হয় এবং বন্ধন কোণ \(104.5^\circ\) হয়। অতএব, মৌল B এর হাইড্রাইড (\(NH_3\)) এর বন্ধন কোণ মৌল C এর হাইড্রাইড (\(H_2O\)) এর বন্ধন কোণ অপেক্ষা বেশি।