কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের
ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার
আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে।
সঞ্চয়ের সাথে বিনিয়োগ ধনাত্মকভাবে সম্পর্কিত।
আয়ের যে অংশ বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতের জন্য রাখা হয় তাই হলো সঞ্চয়; আর সঞ্চিত অর্থকে মূলধন গঠনের উদ্দেশ্যে উৎপাদনক্ষেত্রে নিয়োগ করা হলো বিনিয়োগ। সঞ্চয় থেকেই বিনিয়োগের সৃষ্টি; এজন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ। সময়ের ব্যবধানে একসময় সঞ্চয়ই বিনিয়োগে রূপান্তরিত হয়। তাই বর্তমানের সঞ্চয়কে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়। সঞ্চয় থেকে বিনিয়োগের উদ্ভব ঘটে, যার জন্য সঞ্চয় বাড়লে বিনিয়োগ বাড়ে।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী সামগ্রিক চাহিদা (AD) ও যোগান (AS) এর সমতার ভিত্তিতে 'B' দেশের ভারসাম্য জাতীয় আয়ের পরিমাণ নিচে
নির্ণয় করা হলো
একটি বদ্ধ অর্থনীতিতে ভারসাম্য অবস্থায় সামগ্রিক ব্যয় বা চাহিদা (AD = C + I + G) এবং সামগ্রিক আয় বা যোগান (AS = Y) পরস্পর সমান হয়। অর্থাৎ ভারসাম্য অবস্থায়, Y = C + I + G ।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী,
ভোগ ব্যয়, C = 100 + 0.5Y
বিনিয়োগ ব্যয়, I = 100
সরকারি ব্যয়, G = 100
আমরা জানি,
AD = AS
বা, C + I + G = Y
বা, 100 + 0.5Y + 100 + 100 = Y
বা, 300 = Y - 0.5Y
বা, 300 = (1 - 0.5) Y
বা, 300 = 0.5Y
বা, Y = 600
:: Y 0 = 600 অর্থাৎ, নির্ণেয় ভারসাম্য জাতীয় আয়ের পরিমাণ 600 একক।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী সরকারি ব্যয় (G) বৃদ্ধি পেয়ে 200 একক হলে ভারসাম্য জাতীয় আয়ও বাড়বে।
সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়। এতে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির দ্বারা জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।

উপরের চিত্রে লক্ষ করা যায়, সরকারি ব্যয় G = 100 একক হতে বেড়ে G_{1} = 200 একক হলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা AD1 হতে AD2 হয়। এক্ষেত্রে নতুন ভারসাম্য বিন্দু E2 এবং জাতীয় আয় Y1 থেকে বেড়ে Y2 হয়।
গাণিতিকভাবে,
ভারসাম্য অবস্থায়, AS = AD
বা, Y = C + I + G1
বা, Y = 100 + 0.5Y + 100 + 200
বা, Y - 0.5Y = 400
বা, Y(1 - 0.5) = 400
বা, 0.5Y = 400
বা,
বা, Y = 800
Y = 800 একক। অর্থাৎ সরকারি ব্যয় 100 একক হতে বেড়ে 200 একক হলে জাতীয় আয় 600 একক হতে বেড়ে ৪০০ একক হয় তথা
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না, বরং ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সে ভোগ করে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যক্তি তার আয়ের যে অংশটুকু ব্যয় করতে সক্ষম হয়, তাকে ব্যয়যোগ্য আয় বলে। সাধারণত, ব্যক্তিগত আয় থেকে সরকারকে প্রদেয় কর ও নিট ব্যবসায় সঞ্চয় বাদ দিয়ে হস্তান্তর পাওনা যোগ করলে তার ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। আর দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না। তাই বলা হয়, ব্যক্তির ভোগ তার আয় নয়, বরং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে ভোগ সূচি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে ভোগ অপেক্ষকটির রেখা অঙ্কন করা হলো
জাতীয় আয় (Y) | ভোগ ব্যয়বিন্দু (Y, C) | বিন্দু (Y, C) |
০ | ১০০ | a |
১০০ | ১৯০ | b |
২০০ | ২৮০ | c |
৩০০ | ৩৭০ | d |
৪০০ | ৪৬০ | e |

উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়, জাতীয় আয় (Y) শূন্য হলে ভোগ ব্যয় (C) 100 একক হয় যা বিন্দু নির্দেশ করে। একইভাবে, জাতীয় আয় 100, 200, 300 ও 400 একক হলে ভোগ ব্যয় যথাক্রমে 190, 280, 370 ও 460 একক হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d ও বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এখন প্রাপ্ত এই বিন্দুগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ভোগ রেখা। এটি হলো প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকের চিত্ররূপ।
উদ্দীপকে আয়স্তর শূন্য হলেও স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বিদ্যমান থাকায় ভোগস্তর হবে 100 একক। নিচে তা উদ্দীপক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো:
যে ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না তাকে স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ, আয় শূন্য হলেও এ ভোগ ব্যয় বজায় থাকে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আয় হয় তা থেকে ভোগ ব্যয় সম্পন্ন হয়। এখন বিবেচ্য বছরের পূর্বে কোনো সময়ে জমানো অর্থ থেকে ভোক্তা কিছু ভোগ ব্যয় করে থাকে। এই ভোগ ব্যয়কেই বিবেচ্য বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ বলে।
প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকে Y = 0 হলে,
C = ১০০ + ০.৯Y
বা, C =১০০ +০.৯ ০ [*: Y = ০ ]
বা, C = ১০০ + ০
বা, C = ১০০
C = ১০০একক।
এটিই হলো চলতি বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয়। আর যেহেতু স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না, তাই আয়স্তর শূন্য হলেও ভোগ ব্যয় ১০০ এককে বজায় থাকে।
একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়, এগুলোর জন্য ভোক্তা সাধারণ, বিনিয়োগকারী ও সরকার যে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তার সমষ্টিই হলো সামগ্রিক ব্যয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!