দুই বা ততোধিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশই একাকী চলতে পারেনা। এক দেশকে পণ্য ও সেবার জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হয়। যেমন: উন্নত দেশগুলোতে কৃষি বা প্রাথমিক পণ্যের উৎপাদন কম হয় বলে তারা তা অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। আবার, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণ কম, তাদেরকে উন্নত দেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের অপ্রচলিত ও প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যসমূহের একটি তালিকা নিচে তৈরি করা হলো-
| প্রচলিত রপ্তানি পণ্য | ||
| পণ্য | অর্থবছর | রপ্তানি আয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার) |
| কাঁচাপাট | ২০১৪-১৫ | ৬৫ |
| পাটজাত দ্রব্য | ২০১৪-১৫ | ৪৩৪ |
| চা | ২০১৪-১৫ | ২ |
| চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য | ২০১৪-১৫ | ২৪৪ |
| পেট্রোলিয়াম উপজাত পণ্য | ২০১৪-১৫ | ১৬২ |
অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য
| অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য | ||
| পণ্য | অর্থবছর | রপ্তানি আয় (মিলিয়ন মার্কিন ডলার) |
| তৈরি পোশাক | ২০১৪-১৫ | ৭২৬৬ |
| হিমায়িত খাদ্য | ২০১৪-১৫ | ৩৯৮ |
| হোসিয়ারি দ্রব্য বা নিটওয়্যার | ২০১৪-১৫ | ১২০৫০ |
| হস্তশিল্প জাত দ্রব্য | ২০১৪-১৫ | ৬ |
| কৃষিপণ্য | ২০১৪-১৫ | ৪০২ |
| রাসায়নিক দ্রব্য | ২০১৪-১৫ | ৯৩ |
| অন্যান্য শিল্প পণ্য | ২০১৪-১৫ | ১৯২৩ |
উপরের তালিকা থেকে আমরা বাংলাদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য সম্পর্কে জানতে পারি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের এসব পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়াতে হবে এবং আমদানি হ্রাস করতে হবে।
উদ্দীপকে সরকারের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যেরূপ ভূমিকা রাখবে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সরকারের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা EPZ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সম্প্রসারিত ও সুসংগঠিত করা। বাংলাদেশে প্রথম EPZ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে। বর্তমানে দেশে মোেট ৮টি সরকারি এবং একটি বেসরকারি EPZ চালু আছে। EPZ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে সহায়তা করে। উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে এবং কম দামে বিশ্ব বাজারে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করে। প্রয়োজনবোধে শুষ্ক হ্রাস করে পণ্যের বাজার সহজ করে।
EPZ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করে, রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশিদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে, বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে বিশ্ব বাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দেশীয় পণ্য বিদেশি ক্রেতার নিকট আকর্ষণীয় করার জন্য ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করে।
এছাড়া রপ্তানি বৃদ্ধি করতে অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থার-উন্নয়ন, বিদেশগামী জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি, হস্ত ও কুটিরশিল্প জাত দ্রব্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতি রোধ, বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাতকরণ এবং যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে EPZ সহায়তা করে। যা সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি শিল্পগুলোকে সম্প্রসারিত করে এবং বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি করে দেশকে সমৃদ্ধ করে।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, EPZ দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!