Belt and Road Initiative (BRI) কী? এর বাস্তবায়ন হলে বিশ্বে কী ধরনের প্রভাব দেখা দিবে? ব্যাখ্যা করুন।

Updated: 2 weeks ago
উত্তরঃ

Belt and Road Initiative (BRI) হলো চীনের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ, যার মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সড়ক, রেলপথ, বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো, বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে-Silk Road Economic Belt এবং 21st-Century Maritime Silk Road। ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্যোগটি ঘোষণা করেন।

BRI বাস্তবায়িত হলে বিশ্বে সম্ভাব্য প্রভাব

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ : এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে নতুন বন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর, আধুনিক রেলপথ, হাইওয়ে এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। এর ফলে পণ্য ও সেবা পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমবে, দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা আরও গতিশীল হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণেও BRI-সংযুক্ত পরিবহন করিডরগুলো বাণিজ্য ব্যয় কমানো ও বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি : দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশে অর্থ ও প্রযুক্তির অভাবে বড় অবকাঠামো নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। BRI-এর আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেগা সেতু, রেলপথ, বন্দর, মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়লে এসব দেশের অবকাঠামোগত ঘাটতি কমতে পারে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান : অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি BRI-এর মাধ্যমে শিল্প, ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় উৎপাদকদের বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে এবং প্রযুক্তি ও শিল্প-সহযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে। ফলে অংশগ্রহণকারী উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চীনের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি : BRI- এর মাধ্যমে চীনের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরগুলোতে চীনের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে চীন আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে পারে। এ কারণেই BRI-কে চীনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হয়।

ঋণনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি : BRI-এর বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। কোনো প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত আয় না এলে ঋণ পরিশোধে সমস্যা, আর্থিক চাপ বা অকার্যকর অবকাঠামো তৈরির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকও BRI-এর ক্ষেত্রে ঋণের স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে।

বিকল্প বাণিজ্যপথ ও আর্থিক বহুমুখীকরণ : নতুন স্থল ও সমুদ্র বাণিজ্যপথ গড়ে উঠলে প্রচলিত বাণিজ্যপথের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিকল্প রুট তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ার ফলে ইউয়ানসহ স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থায় বহুমুখিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবেশগত ঝুঁকি ও টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ : বৃহৎ সড়ক, রেলপথ, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও জ্বালানি প্রকল্প নির্মাণের ফলে বন উজাড়, কার্বন নিঃসরণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ক্ষতি বাড়াতে পারে। তাই BRI প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

সার্বিকভাবে, BRI বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সংযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর সুফল সর্বাধিক করতে হলে ঋণের স্থায়িত্ব, প্রকল্পের স্বচ্ছতা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
15

Related Question

View All
উত্তরঃ

BRICS হলো বিশ্বের উদীয়মান প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি প্রভাবশালী জোট। এর মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

BRICS-এর পূর্ণরূপ হলো এর প্রতিষ্ঠাতা ৫টি দেশের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে গঠিত সংক্ষেপণ :

B - Brazil (ব্রাজিল)
R - Russia (রাশিয়া)
I - India (ভারত)
C - China (চীন)
S - South Africa (দক্ষিণ আফ্রিকা)

বর্তমান সদস্য সংখ্যা : এর বর্তমান পূর্ণ সদস্য সংখ্যা ১১টি। জোটটিতে সর্বশেষ পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে যোগদান করেছে ইন্দোনেশিয়া

বিশ্ব অর্থনীতিতে BRICS-এর গুরুত্ব

বৃহৎ ভোক্তা বাজার : BRICS-ভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫%-এর বেশি মানুষ বসবাস করে। চীন ও ভারতের মতো জনবহুল ও বৃহৎ অর্থনীতির দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকায় BRICS একটি বিশাল ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজারের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে এ জোটের প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বৈশ্বিক জিডিপি ও বাণিজ্যে শক্তিশালী অবস্থান : ক্রয়ক্ষমতার সমতা (PPP) অনুযায়ী BRICS-ভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতির জিডিপির ৩৫%-এর বেশি প্রতিনিধিত্ব করে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোটটির শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

জ্বালানি সম্পদের কৌশলগত গুরুত্ব : রাশিয়া, ব্রাজিল, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ BRICS-এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ও মজুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জোটের আওতাভুক্ত। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তায় BRICS-এর কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিকল্প উন্নয়ন অর্থায়ন : BRICS-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB) উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোর অবকাঠামো, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উন্নয়ন অর্থায়নের একটি বিকল্প কাঠামো গড়ে উঠেছে।

ডি-ডলারাইজেশন ও আর্থিক বহুমুখীকরণ : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে BRICS-ভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও আর্থিক ব্যবস্থায় মুদ্রার বহুমুখীকরণ এবং একটি তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা : বিশাল জনসংখ্যা, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং বিকল্প উন্নয়ন অর্থায়নের সমন্বয়ে BRICS বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পশ্চিমা-কেন্দ্রিক কাঠামোর পাশাপাশি একটি শক্তিশালী উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি, বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন ভারসাম্য তৈরিতে এর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে, বৃহৎ বাজার, উল্লেখযোগ্য বৈশ্বিক জিডিপি, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার কারণে BRICS বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
18
উত্তরঃ

হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খাল-উভয়ই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। তবে গঠন, ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের ক্ষেত্রে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

প্রধান বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য

বৈশিষ্ট্যহরমুজ প্রণালীসুয়েজ খাল
প্রাকৃতিক গঠনএটি একটি প্রাকৃতিক নৌপ্রণালীএটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি জলপথ
সংযোগ ভৌগোলিকএটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছেএটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানাএটি কোনো একক দেশের মালিকানাধীন নয়। এর একপাশে ইরান এবং অন্যপাশেএটি সম্পূর্ণরূপে মিশরের ভৌগোলিক সীমানায় অবস্থিত
ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। আন্তর্জাতিক জলসীমা নীতি অনুযায়ী পরিচালিত।এবং মিশরীয় সরকারের 'সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ' (SCA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
প্রধান ব্যবহারতেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ।এশিয়া-ইউরোপের পণ্য ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ

বিশ্ব অর্থনীতিতে উভয়ের ভূমিকা

উভয় জলপথ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন (পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল) টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে, তবে তাদের অর্থনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্র ভিন্ন :

বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালীর ভূমিকা

  • বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র : হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ "অয়েল চোকপয়েন্ট” (Oil Chokepoint) বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের প্রায় ২০% থেকে ২৫% এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌচলাচল বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • LNG পরিবহনে গুরুত্ব : কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও অন্যান্য খাতে জ্বালানি সরবরাহও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব : হরমুজ প্রণালীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরোক্ষভাবে এটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
  • ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব : হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রণালীকে ঘিরে কোনো উত্তেজনা বা সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক কূটনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সুয়েজ খালের ভূমিকা

  • এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সেতু : সুয়েজ খাল ব্যবহারের ফলে জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হয় না। এতে সমুদ্রপথের দূরত্ব ও যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এবং জ্বালানি ব্যয়ও সাশ্রয় হয়। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।
  • বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে গুরুত্ব : পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি, খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে সুয়েজ খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উৎপাদন ও ভোক্তা বাজারের মধ্যে দ্রুত সংযোগ তৈরি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে খালটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
  • পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থা : সুয়েজ খাল ব্যবহার করে জাহাজ তুলনামূলক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এতে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় কমে এবং আন্তর্জাতিক পণ্যের সরবরাহ দ্রুততর ও কার্যকর হয়। একই সঙ্গে সময় সাশ্রয়ের কারণে ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সামগ্রিক দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।
  • বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা : সুয়েজ খাল দিয়ে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবাহিত হওয়ায় এটি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খালে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে জাহাজগুলোকে বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হয়। এতে পরিবহন সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
11
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews