একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে দেশের জনগণের উপার্জিত আয়ের সমষ্টিকে সামগ্রিক আয় বলে।
দু'খাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে সামগ্রিক ব্যয়ের দুটি উপাদান হলো-১. ভোগ ব্যয় ও ২. বিনিয়োগ ব্যয়।
কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা ক্রয়ের জন্য জনগণ যে অর্থ ব্যয় করে, তাকে দেশের মোট ভোগ ব্যয় বলে। আর, বিনিয়োগ ব্যয় হলো বিদ্যমান মূলধনসামগ্রী বা উৎপাদিত সম্পদের সাথে অনুরূপ নতুন সামগ্রী যোগ করার জন্য ব্যয়িত অর্থ।
উদ্দীপকের প্রদত্ত তথ্যের আলোকে নিচে ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ণয় করা হলো:
দু'খাত বিশিষ্ট অর্থনীতিতে যে স্তরে দেশের মোট ভোগ ব্যয় (C) ও মোট বিনিয়োগ ব্যয় (1) এর সমষ্টি জাতীয় আয় (Y)-এর সমান হয়, সেই স্তরে ভারসাম্য জাতীয় আয় (Yo) নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকে ভোগ সমীকরণ, C = 50 + 0.75Y
বিনিয়োগ ব্যয় , I = 100
এখন, ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ণয়ের সূত্রানুসারে,
Y = C + 1
বা, Y = 50 + 0.75Y + 100 [মান বসিয়ে
বা, Y - 0.75Y = 150
বা, 0.25Y = 1.5
বা,
বা, Y = 600
Y0 = 600
অর্থাৎ, উদ্দীপকের আলোকে ভারসাম্য জাতীয় আয় (Yo) হলো 600 একক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিনিয়োগ দ্বিগুণ তথা 200 একক করা হলে জাতীয় আয় গুণ বাড়বে তথা 1000 একক হবে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও জাতীয় আয় সমমুখী সম্পর্ক নির্দেশ করবে।
কোনো দেশে বিনিয়োগ বাড়লে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। আবার, বিনিয়োগ কমলে জাতীয় আয় হ্রাস পায় অর্থাৎ, বিনিয়োগ ও জাতীয় আয়ের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করা হলে মোট বিনিয়োগ ব্যয় দাঁড়ায় (100 × 2) বা 200 একক। এখন, ভারসাম্য জাতীয় আয় নির্ণয়ের সূত্রানুসারে
Y=C+I
বা, Y = 50 + 0.75Y + 200
বা, Y - 0.75Y = 50 + 200

বা, 0.25Y = 250
বা
বা, Y = 1000
.. Y0 = 1000
অর্থাৎ, বিনিয়োগ ব্যয় 100 একক থেকে বাড়িয়ে 200 একক করা হলে জাতীয় আয় 600 একক থেকে বেড়ে 1000 একক হয়।

উদ্দীপকের প্রদত্ত তথ্যের আলোকে উপরে অঙ্কিত চিত্রে লক্ষ করা যায়, বিনিয়োগ (l1) 100 একক থেকে বেড়ে বিনিয়োগ ( 1 2 ) 200 একক হলে সামগ্রিক রেখা AD উপরের দিকে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে জাতীয় আয় (Y1) 600 থেকে বেড়ে (Y1) 1000 হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়বিনিয়োগ ব্যয় ও জাতীয় আয়ের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না, বরং ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সে ভোগ করে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যক্তি তার আয়ের যে অংশটুকু ব্যয় করতে সক্ষম হয়, তাকে ব্যয়যোগ্য আয় বলে। সাধারণত, ব্যক্তিগত আয় থেকে সরকারকে প্রদেয় কর ও নিট ব্যবসায় সঞ্চয় বাদ দিয়ে হস্তান্তর পাওনা যোগ করলে তার ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। আর দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না। তাই বলা হয়, ব্যক্তির ভোগ তার আয় নয়, বরং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে ভোগ সূচি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে ভোগ অপেক্ষকটির রেখা অঙ্কন করা হলো
জাতীয় আয় (Y) | ভোগ ব্যয়বিন্দু (Y, C) | বিন্দু (Y, C) |
০ | ১০০ | a |
১০০ | ১৯০ | b |
২০০ | ২৮০ | c |
৩০০ | ৩৭০ | d |
৪০০ | ৪৬০ | e |

উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়, জাতীয় আয় (Y) শূন্য হলে ভোগ ব্যয় (C) 100 একক হয় যা বিন্দু নির্দেশ করে। একইভাবে, জাতীয় আয় 100, 200, 300 ও 400 একক হলে ভোগ ব্যয় যথাক্রমে 190, 280, 370 ও 460 একক হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d ও বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এখন প্রাপ্ত এই বিন্দুগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ভোগ রেখা। এটি হলো প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকের চিত্ররূপ।
উদ্দীপকে আয়স্তর শূন্য হলেও স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বিদ্যমান থাকায় ভোগস্তর হবে 100 একক। নিচে তা উদ্দীপক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো:
যে ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না তাকে স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ, আয় শূন্য হলেও এ ভোগ ব্যয় বজায় থাকে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আয় হয় তা থেকে ভোগ ব্যয় সম্পন্ন হয়। এখন বিবেচ্য বছরের পূর্বে কোনো সময়ে জমানো অর্থ থেকে ভোক্তা কিছু ভোগ ব্যয় করে থাকে। এই ভোগ ব্যয়কেই বিবেচ্য বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ বলে।
প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকে Y = 0 হলে,
C = ১০০ + ০.৯Y
বা, C =১০০ +০.৯ ০ [*: Y = ০ ]
বা, C = ১০০ + ০
বা, C = ১০০
C = ১০০একক।
এটিই হলো চলতি বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয়। আর যেহেতু স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না, তাই আয়স্তর শূন্য হলেও ভোগ ব্যয় ১০০ এককে বজায় থাকে।
একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়, এগুলোর জন্য ভোক্তা সাধারণ, বিনিয়োগকারী ও সরকার যে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তার সমষ্টিই হলো সামগ্রিক ব্যয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!