ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষার বলে।
Na, NaCl থেকে নিষ্কাশন করা হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইডের গলনাঙ্ক 801°C। তাই সোডিয়াম নিষ্কাশনের সময় অধিক তাপ প্রদানের প্রয়োজন পড়ে যা ব্যয়বহুল। কিন্তু সোডিয়াম ক্লোরাইডের সাথে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড মেশালে তা 600°C তাপমাত্রায় গলে যায়। তাই সোডিয়াম নিষ্কাশনের সময় খরচ কমানোর জন্য আকরিকের সাথে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড মেশানো হয়।
উদ্দীপকের (i) নং এর বিক্রিয়া সম্পন্ন করে পাই-

সুতরাং, উদ্দীপকের Y যৌগ হলো Ca(OH)2 । প্রশ্নে Ca(OH)2 এর জীবাণুনাশকের ক্রিয়াকৌশলের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে Ca(OH)2 Cl2 এর সাথে বিক্রিয়া করে যে ব্লিচিং পাউডার উৎপন্ন করে তার ক্রিয়াকৌশল বর্ণনা করা হলো-
ব্লিচিং পাউডার একটি কার্যকরী জীবাণুনাশক। ঘরের মেঝে, কমোড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। ব্লিচিং পাউডারকে যখন কোনো ঘরের মেঝে, কমোড, বেসিন ইত্যাদির উপর রেখে পানি যোগ করা হয়, তখন ব্লিচিং পাউডার পানির সাথে বিক্রিয়া করে CaCl2 ও HOCI এসিড উৎপন্ন করে।
Ca(OCl)CI + H2O → CaCl2 + HOCI
হাইপোক্লোরাস এসিড ভেঙ্গে গিয়ে জায়মান অক্সিজেন [O] উৎপন্ন করে, যা জীবাণুকে ধ্বংস করে। HOCI → HCI + [O] জীবাণু + [O] → মৃত জীবাণু।
যেহেতু ব্লিচিং পাউডারের জারণে জীবাণু ধ্বংস হয় তাই বলা যায় যে ব্লিচিং পাউডার একটি কার্যকরী জীবাণুনাশক।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াগুলো নিম্নরূপ-
SO3 (g) + 98% H2SO4(l) → H2S2O7
H2S2O7(I) + H2O (l) →
সুতরাং, Q যৌগটি হলো H2SO4
H2SO4 এর জারণ ও নিরুদন ধর্ম নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
জারক হিসেবে H2SO4: কপার উত্তপ্ত গাঢ় H2SO4, দ্বারা জারিত হয়ে কপার অক্সাইড, পানি ও SO2 গ্যাসে পরিণত হয়। পরে ক্ষারকীয় কপার অক্সাইড অধিক H2SO4 এর সাথে বিক্রিয়া করে কপার সালফেট ও পানি উৎপন্ন করে। অনুরূপভাবে গাঢ় H2SO4 এর সাথে Al, Zn, Fe জারিত হয়ে বিক্রিয়া করে।

নিরুদক হিসেবে H2SO4: পানির প্রতি গাঢ় সালফিউরিক এসিডের আসক্তি অত্যন্ত প্রবল। ফলে হাইড্রোজেন ও হাইড্রক্সিল মূলকযুক্ত জৈব যৌগ যেমন, অ্যালকোহল, চিনি ইত্যাদি গাঢ় H2SO4 দ্বারা নিরুদিত হয়। চিনি বা সুক্রোজ (C12H22O11) কে গাঢ় H2SO4 এর মধ্যে যোগ করলে গাঢ় H2SO4 চিনি অণু থেকে এগার অণু পানি বিমুক্ত করে কালো বর্ণের কার্বন উৎপন্ন করে। বিমুক্ত পানি গাঢ় H2SO4 দ্বারা শোষিত হয়ে হাইড্রেটেড সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন হয়।

সুতরাং, H2SO4 একটি শক্তিশালী জারক ও নিরুদক।
আমরা মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য জমিতে বিভিন্ন প্রকার সার দেই। এই সার মূলত রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা তৈরি। তোমরা কি জানো? পাউরুটি ফোলানোর জন্য আমরা ময়দার মধ্যে বেকিং সোডা ব্যবহার করি। কোনো খাদ্য দীর্ঘদিন বাড়িতে রেখে দেওয়ার জন্য ভিনেগার বা অন্যান্য ফুড প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করি। এসব কিছুই রাসায়নিক পদার্থ। আবার, শিল্পকারখানার যে সকল বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করে সেগুলোও রাসায়নিক পদার্থ। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থের ভূমিকা রয়েছে। এ সকল রাসায়নিক পদার্থ কীভাবে প্রস্তুত করা হয়, এগুলোর ধর্ম, ব্যবহার ইত্যাদি এই অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- গৃহে ব্যবহার্য কতিপয় খাদ্যসামন্ত্রীর আহরণ, ধর্ম ও ব্যবহারের পুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- গৃহে প্রসাধন সামগ্রীর উপযোগিতা নির্ধারণে pH এর গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- গৃহে ব্যবহার্য পরিষ্কারক সামগ্রীর প্রস্তুতি ও পরিক্ষার করার কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কৃষিক্ষেত্রে উপযুক্ত যৌগ ব্যবহার করে মাটির pH মান নিয়ন্ত্রণ করে পারব৷
- কৃষিদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব
- কৃষিদ্রব্য সংরক্ষণের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রাসায়নিক বর্জ্য সম্পর্কে জেনে এর ক্ষতিকারক প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে সাবান প্রস্তুত করতে পারব।
- ব্লিচিং পাউডারের বিরঞ্জন ক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারব।
- মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ রোধে রাসায়নিক দ্রব্যের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে আস্থার সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত দিতে পারব।
- স্বাস্থ্য সচেতন দ্রব্য ব্যবহারে আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারব।
- স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যদ্রব্য ব্যবহারে আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারব।
- খাদ্যদ্রব্যে বেকিং পাউডারের ভূমিকা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখাতে পারব।
Related Question
View Allউচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণকে সাবান বলে।
গ্লাস ক্লিনার হলো এক ধরনের তরল পরিষ্কারক যা দ্বারা কাচ জাতীয় বিভিন্ন মসৃণ সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়। গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান হিসেবে NH3 ব্যবহার করা হয়। কারণ NH3 পানির সাথে বিক্রিয়ায় NH4OH উৎপন্ন করে। উৎপন্ন NH4OH এর OH- আয়ন কাচের কোনোরূপ ক্ষতি করে না বরং ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। গ্লাসে ময়লা হিসাবে সাধারণত ধুলাবালির কণা এর পৃষ্ঠতলের উপর জমা হয়। আর ধুলাবালির এই কণাসমূহ বিভিন্ন ধাতুর অক্সাইড হিসাবে থাকে যা অ্যামোনিয়ার সাথে বিক্রিয়ায় গ্লাসের পৃষ্ঠতল থেকে অপসারিত হয়।
শাওন প্রথমে যে পদার্থ দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিল তা হলো সাবান। সাবানের ময়লা পরিষ্কার করার কৌশল হলো-
কাপড়ের সুতায় তৈল ও গ্রীজ দ্বারা ময়লা আটকে থাকে। তাই ময়লা দূর করতে হলে আটকে থাকা তৈল ও গ্রীজের পাতলা স্তরকে কাপড় থেকে আলাদা করতে হয়। সাবানের অণুতে পোলার ও অপোলার এ দুটি অংশ আছে। সাবানের এক প্রান্তের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন হলো হাইড্রোফিলিক (পানিতে দ্রবণীয়) ও লিপোফোবিক (তৈল ও চর্বিতে অদ্রবণীয়)। অপর অংশ হলো সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল, যা হলো হাইড্রোফোবিক (পানিতে অদ্রবণীয়) ও লিপোফিলিক (তৈল ও চবির্তে দ্রবণীয়)

যখন পানিতে সাবান গলে যায়, তখন সাবানের হাইড্রোফিলিক কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়; কিন্তু হাইড্রোফোবিক দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল পানিতে অদ্রবীভূত থাকে। এর ফলে পানির উপরি তলে সাবানের এক অণু বিশিষ্ট একটি অতি সূক্ষ্ম স্তর সৃষ্টি করে। সাবানের জলীয় দ্রবণে ময়লা কাপড় যখন ডুবানো হয় তখন কাপড়ের ময়লাযুক্ত তৈলাক্ত স্তরে সাবানের দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকলটি দ্রবীভূত হয় এবং সাবানের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকে। সাবানের আয়নসমূহ তৈলের সূক্ষ্ম কণাকে ঘেরাও করে এবং তৈলের বলয়ের মধ্যে সাবানের লেজ ঢুকে পড়ে [চিত্র দ্রষ্টব্য)। কাপড়কে যখন আছড়ানো হয় বা পানিতে আলোড়িত করা হয়, কাপড়ের সূতা থেকে তৈলের সূক্ষ্ম কণাগুলো আলাদা হয়ে পানিতে ভেসে উঠে। ফলে কাপড় পরিষ্কার হয়।

প্রদত্ত উদ্দীপকে রিয়াদ কাপড় পরিষ্কার করার জন্য শাওনকে ডিটারজেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। এর যৌক্তিক করণ নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যায়-
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ।
খর পানিতে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের কার্বনেট ও সালফেট বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের কার্বোক্সিলেট লবণ উৎপন্ন করে যা পানির উপর পাতলা সরের মতো ভাসতে থাকে। ফলে সাবান ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না, এভাবে সাবানের অপচয় ঘটে।

অপরদিকে ডিটারজেন্ট হলো সোডিয়াম লরাইল সালফোনেট যা পানিতে দ্রবণীয়। ফলে ডিটারজেন্ট দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাঁচতে কোন সমস্যা হয় না।
CH3 (CH2)10-CH2OSO3Na + Ca2+ (CH3- (CH3) CH2OSO3), Ca + Na+
পানিতে দ্রবণীয়
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, শাওন কাপড় পরিষ্কার কার্যে খর পানি ব্যবহার করেছিল। সাবান খর পানিতে ভালো কাজ করে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে রিয়াদের পরামর্শ মতে ডিটারজেন্টের ব্যবহার যৌক্তিযুক্ত।
মাস ক্লিনারের মূল উপাদান হলো অ্যামোনিয়া (NH3)।
আমরা জানি, বাতাসে পাঁচ ভাগের চারভাগই নাইট্রোজেন (N2)। তাই বাতাসকে শীতল করে তরলে পরিণত করার পর আংশিক পাতন প্রণালীর মাধ্যমে তরল N2 কে পৃথক করা হয়।
এভাবে প্রাপ্ত N2 কে H2 এর সহিত 1 : 3 অনুপাতে মিশ্রিত করে মিশ্রণকে 200-250atm চাপে ও 450-550°C তাপমাত্রায় আয়রন (Fe) প্রভাবকের উপর দিয়ে চালনা করলে অ্যামোনিয়া (NH3) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা হেবার বস প্রণালী নামে পরিচিত।
বিক্রিয়াটি হলো : N2 + 3H2 2NH3
বাতাসে পাঁচ ভাগের চার ভাগ N2 রয়েছে, যা ব্যবহার করে NH3 উৎপাদন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!