কাঠ পোড়ালে আগুন জ্বলে আবার পেট্রল বা ডিজেল এগুলো পাড়ির ইঞ্জিনে পোড়ালে তার জন্য গাড়ি চলে। তাহলে এগুলোর মধ্যে শক্তি থাকে। এ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি বলে। পদার্থের মধ্যে এ রাসায়নিক শক্তি কীভাবে থাকে? আবার কীভাবেই বা এ শক্তি আমাদের কাজে লাগে? টর্চের ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে আলো জ্বালায়। খনিজ তেল পুড়িয়ে তা থেকে তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এ সকল কীভাবে ঘটে? এ নিয়ে অবশ্যই তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগে। বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ সবগুলোর সাথেই রসায়ন তথা রাসায়নিক বিক্রিয়া অথবা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া জড়িত। আবার, এ বিক্রিয়াগুলোর কিছু বিরূপ প্রভাব আছে পরিবেশ ও আমাদের শরীরের উপর। এ সমস্ত বিষয়ই এ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- রাসায়নিক পরিবর্তনের সাথে শক্তি উৎপাদনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শক্তি উৎপাদনে জ্বালানির বিশুদ্ধতার গুরুত্ব অনুধাবন, পরিবেশ সুরক্ষায় এগুলোর ব্যবহার
- সীমিত রাখতে ও উপযুক্ত জ্বালানি নির্বাচনে সচেতনতার পরিচয় দিতে পারব।
- নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রাসায়নিক বিক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে তা অনুসন্ধানের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পাৱৰ
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সংঘটনে এবং শক্তি উৎপাদনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সাথে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হব।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ইলেকট্রনীয় মতবাদ ব্যবহার করে চলবিদ্যুতের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিক্রিয়া সংঘটন করতে পারব।
- বিভিন্ন পদার্থের তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ এবং এর বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পর্কে মতামত দিতে পারব।
- গ্যালভানিক কোষের তড়িৎদ্বার গঠন করতে পারব।
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ ও গ্যালভানিক কোষের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষের প্রয়োগ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে মতামত দিতে পারব।
- তাপহারী ও তাপ উৎপাদী বিক্রিয়ার পরীক্ষা করতে পারব।
- রাসায়নিক দ্রব্যের ক্ষতিকর দিকসমূহ সম্পর্কে সচেতনতা প্রদর্শন করতে পারব।
- বিশুদ্ধ জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারব।
- লবণ দ্রবীভূত ও রাসায়নিক পরিবর্তন হওয়ার সময় তাপের পরিবর্তন পরীক্ষার সাহায্যে দেখাতে পারব।
Related Question
View Allতড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে কোনো সক্রিয় ধাতুর ওপর অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে।
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু ব্যবহার হয় প্রধানত দুটি কারণে।
i. লবণ সেতু অর্ধকোষদ্বয়ের উভয় দ্রবণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কোষের বর্তনী পূর্ণ করে।
ii. জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন (যেমন- Zn2+) বৃদ্ধি পাওয়ায় এতে লবণ সেতু থেকে ঋণাত্মক আয়নের ব্যাপন ঘটে। অনুরূপভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ধনাত্মক (যেমন- Cu2+) আয়ন হ্রাস পাওয়ায় এতে লবণ সেতু থেকে ধনাত্মক আয়নের ব্যাপন ঘটে। ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে চার্জ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
শক্তি
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মৌলসমূহের (বিক্রিয়কের) পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ায় নতুন পদার্থ (উৎপাদ) গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিক্রিয়কের বন্ধন ভেঙ্গে উৎপাদ গঠিত হওয়ার সময় নতুন বন্ধন গঠিত হয়। এতে তাপের শোষণ বা উদ্দ্গীরণ ঘটে। এ ধরনের বিক্রিয়ার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মৌলসমূহের মধ্যে ইলেকট্রন স্থানান্তরের বা শেয়ারের মাধ্যমে নতুন যৌগের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটিতে একটি ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে দুটি মৌলের সৃষ্টি হয় (Ba ও Kr)। এটি একটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া। কেননা, এতে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন নিউট্রনের আঘাতে একটি নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে দুটো নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। এতে ইলেকট্রনের কোন ভূমিকা থাকে না। যে সব বিক্রিয়ায় কোন মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে এক বা একাধিক অপেক্ষাকৃত হালকা নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়, তাদেরকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। উল্লেখিত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় একটি বড় নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে দুটো ছোট নিউক্লিয়াস তৈরি হয় বলে একে নিউক্লিয়ার ফিসন বিক্রিয়া বলা হয়। নিউক্রিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। তাই (ii) নং বিক্রিয়াটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং (ii) নং বিক্রিয়াটি নিউক্লিয় বিক্রিয়া। রাসায়নিক ও নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ।
| রাসায়নিক বিক্রিয়া | নিউক্লিয় বিক্রিয়া | |
| i | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যোজ্যতা ইলেকট্রনসমূহের পরিবর্তন ঘটে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে। |
| ii | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয় না; শুধু পরমাণুর স্থানান্তর ঘটে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয়। |
| iii | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের পরিমাণ তুলনামূলক খুবই কম। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের পরিমাণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার তুলনায় শত লক্ষ গুণ বেশি। |
| iv | রাসায়নিক বিক্রিয়াকালে মৌলের প্রোটন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় মৌলের প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। |
| v | রাসায়নিক বিক্রিয়া কাচপাত্রে যেমন টেস্ট টিউবে ঘটানো যায়। | নিউক্লিয় বিক্রিয়া নিউক্লিয় চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটানো হয়। |
যে সকল পদার্থের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় কোনোরূপ রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না, সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন দ্বারা তড়িৎ পরিবাহিত হয়, তাদেরকে ধাতব বা ইলেকট্রনীয় পরিবাহী হলে।
যদি পরিবাহীর আয়ন দ্বারা বিদ্যুৎ প্রবাহ সাধিত হয় তবে, এসব পরিবাহীকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। যেমন গলিত লবণ, এসিড, ক্ষার ও লবণের দ্রবণ।
ধাতব প্লাটিনাম (Pt) পাতের অ্যানোড ও ক্যাথোড ব্যবহার করে এসিড মিশ্রিত পানির মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে নিম্নোক্ত বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
অ্যানোড বিক্রিয়ায়:
ক্যাথোড বিক্রিয়া :
অর্থাৎ এসিড মিশ্রিত পানি পরিবহনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে বিধায় এসিড মিশ্রিত পানিকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিক্রিয়ায় সালফিউরিক এসিডের কোনো পরিবর্তন বা ব্যয় হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!