পণ্যের চালান মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিই হলো পণ্য মজুতদারি।
সমাজ ও এর জনগণকে ঘিরেই ব্যবসা পরিচালিত হয়।
সমাজের মানুষ ব্যবসায়ীর পণ্য বা সেবা নিলেই ব্যবসায়ী লাভবান হন। নতুবা তাদের মুনাফা লাভ করা সম্ভব নয়। তাই ব্যবসায়ীকে জনগণের সব বিষয়ে বিবেচনা করে ব্যবসায় চালাতে হয়। এতে জনগণ তার প্রতি আস্থাবান হয়। আর ব্যবসায়ীর মুনাফা ও সুনাম বাড়ে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায়ে তিনি স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারেন। তাই জনগণের সমর্থনের ওপর ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব ও মুনাফা নির্ভরশীল।
Coca-Cola ও PepsiCo সমাজের প্রতি ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করছে।
সমাজ ও সমাজের মানুষকে ঘিরেই ব্যবসায় ও এর কাজ পরিচালিত হয়। তাই সমাজের সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ ব্যবসায়ীর করা উচিত। বিভিন্ন জনহিতকর কাজে সহায়তা, পণ্যের মজুতদারি না করা, পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করা, চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা প্রভৃতি সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীর দায়িত্ব।
উদ্দীপকে উল্লেখ্য, Coca-Cola ও PepsiCo সফট্ ড্রিংকসের বাজারে দুটি জনপ্রিয় নাম। কিন্তু, কোম্পানি দু'টির পণ্য বাজারজাতকরণে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই সম্প্রতি কোম্পানিগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশ দূষণরোধক ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এমন ধরনের বোতল তৈরির ঘোষণা দেয়। বর্তমানে প্লাস্টিকের পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র বেশি পরিমাণে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম মূলত পরিবেশ দূষণরোধ ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। এতে সমাজের জনগণ উপকৃত হবে। পরিবেশও দূষণমুক্ত থাকবে। এ কাজগুলো সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার স্বরূপ; যা Coca-Cola ও PepsiCo পালন করছে।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুনামের সাথে টিকে থাকতে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন অবশ্যই প্রয়োজন- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
ব্যবসায়ের সাথে জড়িত সব পক্ষের প্রতি ব্যবসায়ীর সামাজিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। এতে তার প্রতি সমাজের সকল পক্ষ সন্তুষ্ট থাকে। ফলে ব্যবসায়ী সহজে তাদের আস্থা অর্জন করে লাভবান হন।
উদ্দীপকে উল্লেখ্য, Coca-Cola ও PepsiCo কোম্পানি দু'টি প্লাস্টিক থেকে পরিবেশ দূষণরোধের ব্যবস্থা নেয়। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে জনগণের জীবনযাপন নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। সমাজের কল্যাণে তারা যে কার্যক্রম নিয়েছে তা সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বরূপ।
উক্ত কোম্পানি দুটি যে কাজগুলো করছে তাতে সমাজের মানুষের কাছে তাদের সুনাম বাড়ছে। আর, সাধারণ জনগণ তাদের কাজে উপকৃত হয় বলে অন্য কোম্পানির চেয়ে তাদের পণ্য কিনতে ক্রেতারা আগ্রহী হবে। ফলে কোম্পানি দুটির মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাবে। আর, দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে। তাই, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য লাভের জন্য প্রতিটি ব্যবসায়ীরই সামাজিক দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক।
Related Question
View Allইথস শব্দের অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড।
পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েই ব্যবসায়ের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হয়। তাই মজুতদারি না করে সমাজে সঠিকভাবে পণ্য বণ্টন করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যবসায় নৈতিকতার কারণে সাহিদ মানসিক প্রশান্তিতে আছে। ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিকপথে পরিচালিত করে। একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত থাকে। এসব কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সাহিদ ও নাদিম দুজনই ব্যবসায়ী। সাহিদ স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসায় করে সীমিত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেন না। আর নাদিম চাকচিক্যের আড়ালে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। কম মুনাফা অর্জন করলেও সাহিদ জানে তার ব্যবসায়ের সুনামহানি হবে না। ভালো মানের পণ্য সরবরাহের কারণে সাহিদ মানসিকভাবে অনেক সুখী। আর সৎ ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তার কাজে নৈতিকতারই প্রতিফলন হচ্ছে।
নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও ভবিষ্যতে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান। যেকোনো ব্যবসায়ের সাফল্য লাভে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৈতিকতা মেনে না চললে ব্যবসায়ে টিকে থাকা যায় না।
উদ্দীপকে নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও তার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কম হবে। কারণ অনৈতিকভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রেতা বা ভোক্তারা বারবার কেনে না। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের মাধ্যমে মানুষ কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ঐ পণ্য মানুষ আর কিনবে না।
তাছাড়া বাইরের চাকচিক্য বজায় রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা বা ভোক্তারা একসময় তা জানতে পারবে এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায়, নাদিম অনৈতিকতা ও ভেজাল মিশ্রণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ করে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাকে নেওয়া ও মন্দটিকে এড়িয়ে চলা হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
ব্যবসায়ের নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করা অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
