উদ্দীপকে প্রতীক D দ্বারা অ্যামিটার ও প্রতীক E দ্বারা ভোল্টমিটার নির্দেশ করা হয়েছে। অ্যামিটারের দ্বারা বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করা হয় আর ভোল্টমিটার দ্বারা বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা হয়। অ্যামিটারকে সমান্তরালে আর ভোল্টমিটারকে সিরিজে বর্তনীতে সংযোগ করা হলে যন্ত্র দুটির কার্যক্রম সঠিক হবে না। অ্যামিটার ও ভোল্টমিটার তার সঠিক পাঠ প্রদান করতে পারবে না। বর্তনীর দুই প্রান্তের যে বিভব পার্থক্য থাকে তা বর্তনীতে সমান্তরালে যুক্ত যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে সম্পূর্ণ বিরাজ করে। তাই ভোল্টমিটারকে সমান্তরালে সংযুক্ত করলে বর্তনীর সম্পূর্ণ বিভব পার্থক্য ভোল্টমিটারেও বিরাজ করবে। ফলে ভোল্টমিটার দ্বারা সঠিক পাঠ পাওয়া যাবে। কিন্তু সিরিজে একাধিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র সংযুক্ত থাকলে বিভব পার্থক্য ভাগ হয়ে যায় ফলে ভোল্টমিটার সিরিজে থাকলে সঠিক পাঠ পাওয়া যাবে না। এছাড়া ভোল্টমিটারের রোধ বেশি হওয়ায় বর্তনীর মূল প্রবাহ অনেক কমে যাবে যা বর্তনীর জন্য সমস্যার কারণ।
আবার সিরিজে সংযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর মধ্য দিয়ে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় বলে অ্যামিটার সিরিজে সংযুক্ত করলে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ পরিমাপ করা যাবে। আর সমান্তরাল সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহ ভাগ হয়ে যায় বলে অ্যামিটার সমান্তরালে সংযুক্ত করলে অ্যামিটার দ্বারা সঠিক পাঠ পাওয়া যায় না। এছাড়া সমান্তরালে অ্যামিটার সংযোগ করলে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ প্রবাহ অ্যামিটার দিয়ে প্রবাহিত হবে, বর্তনীর অন্য সব অংশ ঠিকমতো বিদ্যুৎ প্রবাহ পাবে না।
অতএব, অ্যামিটারকে বর্তনীতে সমান্তরালে এবং ভোল্টমিটারকে সিরিজে সংযোগ করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়, বরং এর ফলে বিদ্যুৎ বর্তনী এবং যন্ত্রদ্বয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Related Question
View Allকোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে বা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাই তড়িৎ ক্ষমতা।
একটি বান্ধের গায়ে ২২০ ভোল্ট- ৬০ ওয়াট লেখা আছে। এর অর্থ হলো, ২২০ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে বান্ধটিকে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলো ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

আমরা জানি, সাধারণ বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে আলো তৈরি করে, যার ফলে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব, যেমন সি.এফ.এল বা এলইডি বাল্ব, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি আলো দেয়।
এখন আমরা হিসাব করে দেখি মনসুরা খানম ঠিক কতটা লাভবান হলেন:
- আগের বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি বাল্ব, প্রতিটি ১০০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×১০০=৫০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ৫০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৩০০০ ওয়াট-ঘণ্টা=৩ ইউনিট (কারণ ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ইউনিট)।
- বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি এনার্জি সেভিং বাল্ব, প্রতিটি ২০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×২০=১০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ১০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৬০০ ওয়াট-ঘণ্টা=০.৬ ইউনিট।
দৈনিক সাশ্রয়: ৩ ইউনিট−০.৬ ইউনিট=২.৪ ইউনিট।
এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, মনসুরা খানম প্রতিদিন ২.৪ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। এর ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং বাল্ব ৮ থেকে ১৫ গুণ বেশি দিন টিকে থাকে। তাই মনসুরা খানমকে ঘন ঘন বাল্ব পরিবর্তন করতে হবে না, যা তাঁর অর্থ এবং সময় দুটোই বাঁচাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!