মানসিংহ ঈসা খাঁর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে যুদ্ধ করাকে অনর্থক মনে করেন। তাই তিনি যুদ্ধ না করে তলোয়ার ছুড়ে ফেলে দিলেন।
মহানুভবতা মানুষের বিশেষ গুণ যা একজন মানুষের চরিত্রে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পায়। মহানুভব ব্যক্তির বিশেষ গুণে সকলেই মুগ্ধ হন এবং মন্দ ব্যক্তিও ভালো হয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এমনই একটি বিষয়ের উপস্থিতি পাই 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাট্যাংশটির মধ্যে। এ নাটকের প্রধান দুই চরিত্র রাজপুত বীর মানসিংহ এবং বাংলার পাঠান সর্দার ঈসা খাঁ। মানসিংহের বীর জামাতা দ্বন্দ্বযুদ্ধে ঈসা খাঁর কাছে পরাজিত ও নিহত হন। একজন সামান্য পাঠান শাসকের কাছে রাজপুত বীরের জামাতার পরাজয় মানসিংহ কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি আবারও ঈসা খাঁকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান জানান। যুদ্ধ চলাকালে হঠাৎ মানসিংহের তলোয়ার ভেঙে গেলে তিনি ভীত হয়ে পড়েন। কিন্তু দেখা যায় ঈসা খাঁ মানসিংহকে তার একটি তলোয়ার দেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও ঈসা খাঁ নিরস্ত্র মানসিংহকে আক্রমণ করেননি। এসব দেখে মানসিংহ খুবই বিস্মিত হন এবং ঈসা খাঁ'র মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি তলোয়ার ছুড়ে ফেলে দেন। তাদের মধ্যে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের সূত্রপাত হয়।
মানুষের প্রতি ঘৃণার পরিবর্তে দয়া ও সহানুভূতি থাকলে যেকোনো কঠোর মানুষেরও হৃদয় জয় করা সম্ভব যা 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাট্যাংশটিতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
ঈসা খাঁ'র উদারতা, মহানুভবতা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের গুণেই তিনি মানসিংহের মন জয় করে নিয়েছেন।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' ইব্রাহীম খাঁ রচিত একটি উল্লেখযোগ্য নাটক। এতে রাজপুত বীর মানসিংহের বীরত্ব, ব্যক্তিত্ব ও আত্মঅহমিকাবোধ এবং পাঠান সর্দার ঈসা খাঁ'র বীরত্ব, মহত্ত্ব ও মানবিকতার দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। এ নাটকের অন্যতম চরিত্র মানসিংহ যিনি একজন বীর যোদ্ধা। তার বীরত্ব ও রাজত্ব নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তিনি পরাজিত হতে পারেন না। তাই যখন ঈসা খাঁ'র সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে তার জামাতা পরাজিত হন, তখন তিনি খুবই ব্যথিত হন। একজন সামান্য পাঠান সর্দারের কাছে পরাজয়কে তিনি মেনে নিতে পারেননি। ফলে আবারও ঈসা খাঁ'র সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধের ময়দানেও দেখা যায় মানসিংহ নানাভাবে কটুবাক্য বলে ঈসা খাঁকে ছোট করার চেষ্টা করেন। যুদ্ধ চলাকালে একপর্যায়ে মানসিংহের তলোয়ারটি ভেঙে যায়। তিনি পরাজয় মেনে নিতে চান। তাকে হত্যা করতে বললে ঈসা খাঁ তা করেননি। বরং তার একটি তলোয়ার মানসিংহকে দিয়ে দেন। ঈসা খাঁ'র এই উদার মানবিকতার গুণ দেখে মানসিংহ আর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেননি। মানসিংহ বুঝতে পারেন ঈসা খাঁ আসলে কোনো মন্দ ব্যক্তি নন। তার অসামান্য ব্যক্তিত্বের গুণে তিনি মানসিংহের মন জয় করে নেন।
মানুষের আবেগ, অনুভূতিকে সম্মান করতে পারলে, তাদের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করলে মানুষ সহজেই একে অন্যের আপন হয়ে ওঠে।
আত্মঅহমিকাকে দূরে ঠেলে সুন্দর ও মানবিক আচরণই পারে একজন মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে। 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকটিতেও দেখা যায়, মানসিংহ প্রচন্ড আত্মঅহংকারী ও ক্রোধান্বিত হলেও ঈসা খাঁ'র দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কাছে হার মানতে বাধ্য হন। ঈসা খাঁ'র উদার, মানবিক, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ মানসিংহের যুদ্ধ করার মানসিকতাকে পালটে দেয়। যতটুকু ক্রোধ নিয়ে তিনি ঈসা খাঁ'র সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, ঈসা খাঁ'র চমৎকার আচরণ দেখে তা যেন বাতাসে মিলিয়ে যায়। ঈসা খাঁ'র বীরত্ব ও ঔদার্য, মহানুভবতা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কাছে মানসিংহের রোষানল জলে পরিণত হয়। ফলে সকল কষ্ট ও যন্ত্রণা ভুলে মানসিংহ ঈযা খাঁ'র সাথে আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন এবং/দুজনেই ভারতের মোগল-পাঠান আর হিন্দু-মুসলমানের বন্ধুত্ব ও মিলনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
[স্থান : এগারোসিন্ধুর পরপারে মহারাজ মানসিংহের শিবির
চরিত্র : মানসিংহ, দুর্জয়সিংহ ও দূত]
মানসিংহ : শোনা যায়, একদা এক অসুররাজ গোষ্পদে ডুবে মরেছিল। একথা বিশ্বাস করো, দুর্জয়সিংহ?
দুর্জয়সিংহ : এ পুরাণের কাহিনিমাত্র। বিশ্বাস করি না!
মানসিংহ : আমিও আগে বিশ্বাস করতাম না, দুর্জয়সিংহ, কিন্তু এখন বিশ্বাস করি ৷
দুর্জয়সিংহ : সত্যি বিশ্বাস করেন, মহারাজ?
মানসিংহ : চোখের সামনে যা ঘটে গেল, দুর্জয়সিংহ, তাতে বিশ্বাস না-করি কেমনে, তাই বলো । নইলে বাংলার এক অজ্ঞাতনামা ক্ষুদ্র পাঠানসর্দার ঈসা খাঁ, তারই তলোয়ারতলে মারা যায় ক্ষত্র-বীর মানসিংহের আপন জামাতা?
দুর্জয়সিংহ : আশ্চর্যই বটে !
মানসিংহ : মানুষ হয়ে জন্মেছিল, একদিন তো সে মরতই—না-হয় দুদিন আগে মরেছে। কিন্তু রাজপুতনার মরুসিংহ মারা গেল বাংলার বকরির হাতে—এ দুঃখ রাখবার স্থান কোথায়, দুর্জয়সিংহ?
দুর্জয়সিংহ : মহারাজ, এ দুঃখ করতে পারেন।
মানসিংহ : জামাতা নিহত হয়েছে, কিন্তু তারও চেয়ে বড়ো দুঃখ যে, এই কাহিনি শুনে রাজপুতনার
নারীরা হাসবে, শত্রুরা উপহাস করে রটনা করবে, আমি নিজে ভয় পেয়ে ঈসা খাঁর সামনে
আমার জামাতাকে পাঠিয়েছিলাম । অনেকে ভাববে, আমরা কাপুরুষ ।
দুর্জয়সিংহ : এ বিধাতার বিধান, মহারাজ, সয়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায় কী?
মানসিংহ : না। আমি প্রতিশোধ গ্রহণ করব—আমি ঈসা খাঁকে হত্যা করব ।
দুর্জয়সিংহ : কিন্তু সে কী করে সম্ভব হবে?
মানসিংহ : ঈসা খাঁ আমাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করেছিল, পাঠিয়েছিলাম আমার জামাতাকে । আমার জামাতাকে হত্যা করে ভেবেছে, সে বুঝি মানসিংহকেই হত্যা করেছে । আমি তাকে জানিয়েছি, ঈসা খাঁর মুণ্ডপাত করার জন্য মানসিংহ এখনও জীবিত রয়েছেন । এবার দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান গিয়েছে আমার তরফ থেকেই
দুর্জয়সিংহ : কোনো উত্তর পেয়েছেন?
মানসিংহ : না, তবে এক্ষুনি পাব। জানি না; সে কাপুরুষ পুনরায় দ্বন্দ্বযুদ্ধে রাজি হবে কিনা ।
দূত : (প্রবেশান্তে কুর্নিশ করিয়া) মহারাজের জয় হোক
মানসিংহ : কি সংবাদ, দূত?
দূত : সংবাদ শুভ। মহারাজকে হত্যা করেছে ভেবে তারা উৎসব করছিল; এমন সময় আপনার আহ্বান নিয়ে আমি হাজির! তবে ঈসা খাঁ এ আহ্বান গ্রহণ করেছেন।
মানসিংহ : গ্রহণ করেছেন? অনেকক্ষণ পরে নিশ্চয়ই?
দূত : না মহারাজ! তক্ষুনি গ্রহণ করেছেন ।
মানসিংহ : তক্ষুনি? আচ্ছা, তা বেশ। কোনো জবাব এনেছ ?
দূত : এনেছি, মহারাজ! তবে দেখাতে সাহস হয় না ।
মানসিংহ : তোমাকে অভয় দিচ্ছি, দূত।
দূত : মহারাজ, ঈসা খাঁ লোকটা, নিতান্ত... নিতান্ত... এই নিতান্ত...
মানসিংহ : নিতান্ত কী?
দূত : আজ্ঞে, নিতান্ত গোঁয়ার। কারণ মহারাজের আহ্বানপত্র পেয়েই অমনি তলোয়ার খুললেন, তারপর নিজের হাত কেটে তারই রক্তে তলোয়ারের ডগা দিয়ে উত্তর লিখলেন—‘বহুত আচ্ছা'।
২
স্থান : লড়াইয়ের ময়দান। একদিকে পাঠান শিবির, অন্যদিকে মোগল শিবির। অদূরে এগারোসিন্ধুর কেল্লা—ময়দানের মাঝখানে ঈসা খাঁ ও মানসিংহ সামনাসামনি দাঁড়িয়ে।]
ঈসা খাঁ : নমস্কার, মহারাজ।
মানসিংহ : আদাব, খাঁ সাহেব ।
ঈসা খাঁ : এত তকলিফ করে এখানে না-এসে মহারাজ যদি আদেশ করতেন, তবে দিল্লিতে গিয়েই মহারাজের সঙ্গে আমি একহাত লড়ে আসতাম ।
মানসিংহ : বাংলার ঝোপে-জঙ্গলে আপনারা কেমন আছেন, একটু দেখতে শখ হলো, খাঁ সাহেব ।
ঈসা খাঁ : রাজপুতনার মরু-পর্বতের কোন অন্ধকার গুহায় মহারাজ কীরূপে থাকেন, তা দেখবার কৌতূহলও তো এ বান্দার হতে পারত !
মানসিংহ : পাঠানেরা দেখছি ইদানীং কথা বলতে শিখেছে।
ঈসা খাঁ : এ আপনাদের মতো কথা-সর্বস্বদের সঙ্গে থাকার ফল। আগে পাঠানেরা কথা বলত না; কথা বলত কেবল তাদের তির আর তলোয়ার ।
মানসিংহ : ইদানীং বুঝি তাহলে পাঠানদের তির-তলোয়ার ভোঁতা হয়ে পড়েছে!
ঈসা খাঁ : শাহি ফৌজের ওপর ক্রমাগত ব্যবহারে একটু ভোঁতা হয়েছে বৈকি !
মানসিংহ : তাহলে এখন তলোয়ার ছেড়ে কাবুলি মেওয়ার কারবার শুরু করলে হয় না, খাঁ সাহেব?
ঈসা খাঁ : কিন্তু কাবুলি মেওয়া এখানে খাবে কে? মহারাজের তো বাজরার খিচুড়ি আর ঘাসের রুটি খেয়ে খেয়ে পেট এমনি হয়েছে যে, কাবুলি আঙুরের গন্ধেই বমি আসে।
মানসিংহ : কিন্তু খাঁ সাহেব কি কেবল কথার যুদ্ধের জন্যই তৈয়ার হয়ে এসেছেন, না আরও কোনো মতলব আছে?
ঈসা খাঁ : সে সম্পূর্ণ মহারাজের অভিরুচি। ঈসা খাঁ যে কোনো সময়ে যে কোনো স্থানে যে কোনো অস্ত্রে যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত।
মানসিংহ : মনে হচ্ছে, শাহবাজ খাঁকে পরাজিত করে ঈসা খাঁর অহংকার বেড়েছে। কিন্তু ঈসা খাঁ কেবল ঘুঘু দেখেছেন, ফাঁদ দেখেন নাই ।
ঈসা খাঁ : কিন্তু ফাঁদের সঙ্গে যে এ বান্দার কিঞ্চিৎ পরিচয় ঘটেছে—এই মাত্র সেদিন-সে তো মহারাজের অজানা থাকবার কথা নয় ৷
মানসিংহ : সে কথা জানি, কাপুরুষ। আমার জামাতা—এক অনভিজ্ঞ তরুণ যুবক—বাগে পেয়ে তাকে তুমি হত্যা করেছ।
ঈসা খাঁ : খবরদার মানসিংহ। ঈসা খাঁকে 'কাপুরুষ' বলে কেউ কোনোদিন রেহাই পায় নাই । আর ঈসা খাঁ নিজে পর্দার আড়ালে থেকে জামাতাকে কখনও লড়াইয়ে পাঠায় নাই । কিন্তু আজ তোমাকে ক্ষমা করছি—সেই মহান যুবকের নামে, যিনি বীরের মতো যুদ্ধ করে সমর শয্যা গ্রহণ করেছেন ।
মানসিংহ : ভূতের মুখে রাম নাম! কিন্তু আত্মরক্ষা করো, ঈসা খাঁ ।
ঈসা খাঁ : তুমিও আত্মরক্ষা করো মানসিংহ ।
[যুদ্ধ শুরু হইল : লড়িতে লড়িতে ঈসা খাঁর তলোয়ারের আঘাতে মানসিংহের তলোয়ার ভাঙিয়া পড়িয়া গেল—নিরস্ত্র মানসিংহ ভীতভাবে দাঁড়াইয়া রহিলেন ।]
ঈসা খাঁ : এখন মহারাজকে রক্ষা করবে কে?
মানসিংহ : কেউ না; তুমি আমাকে হত্যা করো, ঈসা খাঁ।
ঈসা খাঁ : না, মহারাজ, সে হয় না। নিরস্ত্রের ওপর ঈসা খাঁ ওয়ার করে না।
মানসিংহ : তবে আমাকে বন্দি করো, আমি তোমার অনুগ্রহ চাই না ।
ঈসা খাঁ : তাও হয় না মহারাজ । আপনার মতো সাহসী যোদ্ধাকে বাগে পেয়ে আমি বন্দি করব না । এই নিন আমার তলোয়ার-যুদ্ধ করুন।
[নিজ তলোয়ার মানসিংহের হাতে তুলিয়া দিয়া বাম কটি হইতে অন্য তলোয়ার খুলিয়া দাঁড়াইলেন ।]
মানসিংহ : [একটু ভাবিয়া তলোয়ার ছুড়িয়া ফেলিয়া দিলেন] আমি লড়ব না ।
ঈসা খাঁ : কেন, মহারাজ ?
মানসিংহ : আপনার সঙ্গে আমার যুদ্ধ নাই ।
ঈসা খাঁ : বটে।
মানসিংহ : ঈসা খাঁ, চমৎকার। দূর হতে তোমার কত নিন্দাই শুনেছি, ভাই কাছে এসেও এতদিন তোমাকে চিনতে পারি নাই। আজ তোমার সঙ্গে সত্যিকার পরিচয় হলো, এই-ই আমার পরম লাভ! তোমাকে চিনবার আগে মরলে মানসিংহের জীবনে একটা মস্ত ফাঁক থেকে যেত ।
ঈসা খাঁ : মহারাজ—ভাই—তোমার হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে আমিও ধন্য ।
মানসিংহ : তবে, এসো ভাই ! [আলিঙ্গন] আমাদের এই আলিঙ্গনের ভিতর দিয়ে মোগল-পাঠানের বন্ধুত্ব হোক, ভারতের হিন্দু- মুসলমানের মিলন হোক আর কখনো আমরা ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির পবিত্র বক্ষ কলঙ্কিত করব না ।
Related Question
View All"অনেকে ভাববে, আয়রা কাপুরুষ।" কথাটি বলেছেন রাজপুত বীর মানসিংহ। মানসিংহের জামাতা পাঠান বীর ঈসা খাঁর কাছে পরাজিত হওয়ায় তিনি লজ্জায় ও অপমান বোধ থেকে উক্ত মন্তব্যটি করেন।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকটি বাংলার পাঠান বীর ঈসা খাঁ এবং রাজপুত বীর মানসিংহের যুদ্ধ ও মহানুভবতার কাহিনি নিয়ে রচিত। মানসিংহের জামাতাকে তিনি ঈসা খাঁর সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে প্রেরণ করেন। কিন্তু তাঁর জামাতা ঈসা খাঁর কাছে পরাজিত ও নিহত হন। একজন ক্ষত্রিয় বীর নবাবের কাছে পরাজিত হলেন- এ বিষয়টি কিছুতেই মানসিংহ মেনে নিতে পারলেন না। লজ্জা, ঘৃণা, অপমানবোধে তিনি জর্জরিত হলেন। তার জামাতা নিহত হয়েছে এতে তিনি যতটা না দুঃখ পেলেন, তার চেয়েও বড় দুঃখ ছিল তার আত্ম অহমিকায় আঘাত লাগাতে। কেননা, মানসিংহ ছিলেন একজন বিখ্যাত বীর যোদ্ধা।
চারিদিকে তার যশ, খ্যাতি ছিল প্রবল। তাই সামান্য একজন বাংলার শাসকের কাছে পরাজয় তার কাছে দুঃখের, অপমানের। তাছাড়া, একথা শুনে রাজপুতনার নারীরা হাসবে, তার শত্রুরা উপহাস করে রটনা করবে যে, মানসিংহ নিজে ভয় পেয়ে জামাতাকে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। এসব ভেবে মানসিংহ অনেক ব্যথিত হন এবং বলেন, "অনেকে ভাববে, আমরা কাপুরুষ।" একজন বিখ্যাত, শক্তিশালী বীর যোদ্ধার জামাতা কি না সামান্য বাংলার শাসকের কাছে নিহত হলেন-এই অপমান বোধ ও লোকলজ্জার ভয়ে ব্যথিত মানসিংহ উক্ত মন্তব্যটি করে তার দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকটি ইব্রাহীম খাঁ রচিত একটি বিখ্যাত রচনা। এতে বাংলার পাঠান বীর ঈসা খাঁ এবং রাজপুত বীর মানসিংহের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ ও মহানুভবতার কাহিনি স্থান পেয়েছে। নাটকটির দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশের মূলবক্তব্য নিম্নে তুলে ধরা হলো-
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকের প্রথম অংশটিতে এগারোসিন্ধুর পরপারে মহারাজ মানসিংহের শিবিরকে দেখানো হয়। এখানে রাজপুত বীর মানসিংহ তার রাজপ্রতিনিধি দুর্জয়সিংহের সাথে কথা বলছে। মানসিংহ তার জামাতাকে পাঠিয়েছিলেন ঈসা খাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করতে। কিন্তু যুদ্ধে তার জামাতা পরাজিত ও নিহত হন। একজন সামান্য বাংলার শাসক মানসিংহের জামাতাকে নিহত করল এ বিষয়টি তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না। লজ্জা, অপমান, ঘৃণা আর অহংকারবোধে তিনি জর্জরিত হন। তার মনে হতে থাকে মানুষ হয়ে জন্মেছিল, একদিন তো মরতেই হতো। কিন্তু তাই বলে রাজপুতনার মরুসিংহ শেষে বাংলার বকরির হাতে মারা গেল! এতে মানসিংহের আত্মঅহমিকায় আঘাত লাগে। তাছাড়া, তার জামাতা নিহত হয়েছেন, এতে তিনি যতটা না ব্যথিত, তারচেয়ে বরং রাজ্যে জানাজানি হলে লোকেরা কী বলবে তা নিয়ে তিনি বেশি চিন্তিত। অনেকে তাকে কাপুরুষ ভাববে। ভয় পেয়ে নিজে ঈসা খাঁর সামনে না গিয়ে জামাতাকে পাঠিয়েছেন বলে শত্রুরা তাকে উপহাস করবে। এসব ভেবে তিনি ব্যথিত হন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জ্বলে ওঠেন। তিনি ঈসা খাঁকে হত্যা করতে চান। তাই তার তরফ থেকে ঈসা খাঁর কাছে আবারও দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানান। কিন্তু দেখা যায় একজন দূত এসে খবর দেয় ঈসা খাঁ তার আহ্বান গ্রহণ করেছেন। ঈসা খাঁ তার নিজের হাত কেটে রক্ত নিয়ে তলোয়ারের ডগা দিয়ে উত্তরে লিখেছেন- 'বহুত আচ্ছা' অর্থাৎ ঈসা খাঁ যুদ্ধে রাজি আছেন। মানসিংহের প্রত্যাশা ছিল ঈসা খাঁ অবাক হবেন কিন্তু ঈসা খাঁ মানসিংহকে অবাক করে দিয়ে আবারও অভিনব কায়দায় যুদ্ধের পক্ষে সম্মতি জানালেন।
নাটকটির প্রথম অংশে মানসিংহ ও দুর্জয়সিংহের কথোপকথনে বোঝা যায়, মানসিংহ একজন বীরযোদ্ধা। তার গৌরব, অহংকারকে চূর্ণ করে দিয়েছে তার জামাতার সামান্য শাসকের কাছে পরাজয়। ফলে তিনি প্রতিশোধস্পৃহায় ব্যাকুল হয়ে পড়েন। পুনরায় ঈসা খাঁর সাথে যুদ্ধ করে তাঁর বীরত্বগাথাকে পূর্ণ করতে চান। রাজ্যে তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে চান। সেইসাথে দূতের কথায় বোঝা যায়, ঈসা খাঁও একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন যোদ্ধা, যিনি শত্রুর কাছে কখনো হার মানতে রাজি নন।
"আগে পাঠানেরা কথা বলত না, কথা বলত কেবল তাদের তির আর তলোয়ার"- কথাটি বলেছেন বাংলার পাঠান বীর ঈসা খাঁ। রাজপুত বীর মানসিংহের সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করতে গিয়ে আগে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। মানসিংহ ঈসা খাঁকে ছোট করে কথা বললে ঈসা খাঁ উক্ত কথাটি বলেন।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকটি দুইজন বীর যোদ্ধার বীরত্বের কাহিনি নিয়ে রচিত। রাজপুত বীর মানসিংহকে ঈসা খাঁ দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করলে তিনি নিজে না গিয়ে তার জামাতাকে পাঠান। তার জামাতা যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন। এতে মানসিংহ খুবই ব্যথিত হন এবং সামান্য বাংলার শাসকের কাছে পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে পুনরায় ঈসা খাঁকে যুদ্ধের আহ্বান করেন। ঈসা খাঁর সাথে মানসিংহের যুদ্ধের ময়দানে রোষপূর্ণ বাক্য বিনিময় হতে থাকে, যেন কেউ কাউকে ছাড় দিতে চান না। কথার এক পর্যায়ে মানসিংহ ঈসা খাঁকে ছোট করে কথা বলতে থাকেন। পাঠানেরা ইদানীং কথাও বলতে শিখেছে বলে কটূক্তি করতে থাকেন। এ কথার প্রেক্ষিতেই ঈসা খাঁ উত্ত মন্তব্যটি করেছেন। অর্থাৎ পাঠানরা যে কতটা যুদ্ধবিগ্রহে পারদর্শী এবং তাদের বীরত্বের নমুনা প্রকাশের জন্যই ঈসা খাঁ কথাটি বলেছেন।
মানসিংহ ও ঈসা খাঁর মধ্যে তিক্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে তারা নিজেদের বীরত্ব আর অপরকে অপমান করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মানসিংহের করা অপমানের জবাব দিতে ঈসা খাঁ উক্ত বক্তব্যটি করেন।
ইব্রাহীম খাঁ রচিত একটি উল্লেখযোগ্য নাটক 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ'। দুই অংশে বিভক্ত নাটকটিতে স্থান পেয়েছে রাজপুত বীর মানসিংহ এবং বাংলার পাঠান সর্দার ঈসা খাঁর বীরত্বগাথা ও উদারতার কাহিনি।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকের প্রথম অংশে রাজপুত বীর মানসিংহ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একজন বীর যোদ্ধা যার খ্যাতি পুরো রাজ্যের মানুষের মুখে মুখে। অথচ তার জামাতাকে একজন সামান্য বাংলার পাঠান সর্দার পরাজিত ও হত্যা করেছে। এতে মানসিংহ খুবই লজ্জিত, অপমানিত ও ক্রোধান্বিত হন। তিনি সামান্য ঈসা খাঁ'র কাছে পরাজয় কিছুতেই মানতে পারেননি। ফলে পুনরায় তার সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে লড়ার আহ্বান জানান। ঈসা খাঁও তা বীরত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। এগারোসিন্দুর ময়দানে তাদের যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে দেখা যায়, মানসিংহের তলোয়ার ভেঙে গেলে তিনি ভীত হন। ঈসা খাঁকে বলেন তাকে হত্যা করতে। কিন্তু ঈসা খাঁ জানান তিনি নিরস্ত্রের ওপর আঘাত করেন না। এতে মানসিংহ অবাক হন কিন্তু তার আত্মঅহমিকা ও বীরত্বপূর্ণ স্বভাববলে ঈসা খাঁর বন্দি হতে চান কিন্তু কোনো অনুগ্রহ চান না। ঈসা খাঁ নিরস্ত্র মানসিংহের হাতে তার একটি তলোয়ার দেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। ঈসা খাঁ'র এই উদার মানসিকতায় মানসিংহ অবাক হন এবং যুদ্ধ থামিয়ে দেন। দুই বীর পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। মানসিংহ ঈসা খাঁকে সত্যিকার অর্থে চিনতে পেরে আবেগে আপ্লুত হন। তারা পরস্পরের হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে নিজেদের ধন্য মনে করেন। তাদের আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে মোগল-পাঠানের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তারা ভারতের হিন্দু-মুসলমান মিলনের মধ্য দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষার ব্রত গ্রহণ করেন।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকটিতে মূলত প্রকৃত উদারতা, বীরত্ব, মহানুভবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। আমরা প্রত্যেকে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার আগে মানুষ। সব সময় শক্তির জোরে নয়, বরং ভালোবাসা, মানবিক আচরণের মধ্য দিয়েও জয়লাভ করা যায়। নাটকের ঈসা খাঁ মানসিংহের সাথে উদার, মহানুভব ও বন্ধুত্বসুলভআচরণের কারণেই মানসিংহের মন জয় করতে পেরেছেন। ফলে তাদের মধ্য থেকে সকল শত্রুতা দূরীভূত হয়ে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। নাট্যাংশটিতে মূলত মোগল-ভারত আমলের বীরত্ব, মহানুভবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
মানসিংহ ঈসা খাঁর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে যুদ্ধ করাকে অনর্থক মনে করেন। তাই তিনি যুদ্ধ না করে তলোয়ার ছুড়ে ফেলে দিলেন।
মহানুভবতা মানুষের বিশেষ গুণ যা একজন মানুষের চরিত্রে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পায়। মহানুভব ব্যক্তির বিশেষ গুণে সকলেই মুগ্ধ হন এবং মন্দ ব্যক্তিও ভালো হয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এমনই একটি বিষয়ের উপস্থিতি পাই 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাট্যাংশটির মধ্যে। এ নাটকের প্রধান দুই চরিত্র রাজপুত বীর মানসিংহ এবং বাংলার পাঠান সর্দার ঈসা খাঁ। মানসিংহের বীর জামাতা দ্বন্দ্বযুদ্ধে ঈসা খাঁর কাছে পরাজিত ও নিহত হন। একজন সামান্য পাঠান শাসকের কাছে রাজপুত বীরের জামাতার পরাজয় মানসিংহ কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি আবারও ঈসা খাঁকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান জানান। যুদ্ধ চলাকালে হঠাৎ মানসিংহের তলোয়ার ভেঙে গেলে তিনি ভীত হয়ে পড়েন। কিন্তু দেখা যায় ঈসা খাঁ মানসিংহকে তার একটি তলোয়ার দেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও ঈসা খাঁ নিরস্ত্র মানসিংহকে আক্রমণ করেননি। এসব দেখে মানসিংহ খুবই বিস্মিত হন এবং ঈসা খাঁ'র মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি তলোয়ার ছুড়ে ফেলে দেন। তাদের মধ্যে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের সূত্রপাত হয়।
মানুষের প্রতি ঘৃণার পরিবর্তে দয়া ও সহানুভূতি থাকলে যেকোনো কঠোর মানুষেরও হৃদয় জয় করা সম্ভব যা 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাট্যাংশটিতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
ঈসা খাঁ'র উদারতা, মহানুভবতা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের গুণেই তিনি মানসিংহের মন জয় করে নিয়েছেন।
'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' ইব্রাহীম খাঁ রচিত একটি উল্লেখযোগ্য নাটক। এতে রাজপুত বীর মানসিংহের বীরত্ব, ব্যক্তিত্ব ও আত্মঅহমিকাবোধ এবং পাঠান সর্দার ঈসা খাঁ'র বীরত্ব, মহত্ত্ব ও মানবিকতার দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। এ নাটকের অন্যতম চরিত্র মানসিংহ যিনি একজন বীর যোদ্ধা। তার বীরত্ব ও রাজত্ব নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তিনি পরাজিত হতে পারেন না। তাই যখন ঈসা খাঁ'র সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে তার জামাতা পরাজিত হন, তখন তিনি খুবই ব্যথিত হন। একজন সামান্য পাঠান সর্দারের কাছে পরাজয়কে তিনি মেনে নিতে পারেননি। ফলে আবারও ঈসা খাঁ'র সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধের ময়দানেও দেখা যায় মানসিংহ নানাভাবে কটুবাক্য বলে ঈসা খাঁকে ছোট করার চেষ্টা করেন। যুদ্ধ চলাকালে একপর্যায়ে মানসিংহের তলোয়ারটি ভেঙে যায়। তিনি পরাজয় মেনে নিতে চান। তাকে হত্যা করতে বললে ঈসা খাঁ তা করেননি। বরং তার একটি তলোয়ার মানসিংহকে দিয়ে দেন। ঈসা খাঁ'র এই উদার মানবিকতার গুণ দেখে মানসিংহ আর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেননি। মানসিংহ বুঝতে পারেন ঈসা খাঁ আসলে কোনো মন্দ ব্যক্তি নন। তার অসামান্য ব্যক্তিত্বের গুণে তিনি মানসিংহের মন জয় করে নেন।
মানুষের আবেগ, অনুভূতিকে সম্মান করতে পারলে, তাদের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করলে মানুষ সহজেই একে অন্যের আপন হয়ে ওঠে।
আত্মঅহমিকাকে দূরে ঠেলে সুন্দর ও মানবিক আচরণই পারে একজন মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে। 'মানসিংহ ও ঈসা খাঁ' নাটকটিতেও দেখা যায়, মানসিংহ প্রচন্ড আত্মঅহংকারী ও ক্রোধান্বিত হলেও ঈসা খাঁ'র দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কাছে হার মানতে বাধ্য হন। ঈসা খাঁ'র উদার, মানবিক, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ মানসিংহের যুদ্ধ করার মানসিকতাকে পালটে দেয়। যতটুকু ক্রোধ নিয়ে তিনি ঈসা খাঁ'র সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, ঈসা খাঁ'র চমৎকার আচরণ দেখে তা যেন বাতাসে মিলিয়ে যায়। ঈসা খাঁ'র বীরত্ব ও ঔদার্য, মহানুভবতা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কাছে মানসিংহের রোষানল জলে পরিণত হয়। ফলে সকল কষ্ট ও যন্ত্রণা ভুলে মানসিংহ ঈযা খাঁ'র সাথে আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন এবং/দুজনেই ভারতের মোগল-পাঠান আর হিন্দু-মুসলমানের বন্ধুত্ব ও মিলনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!