উৎপাদনের উদ্দেশ্য বিবেচনা করে কৃষি খামারকে দুইভাগে ভাগ করা যায়; যথা- জীবনধারনোপযোগী কৃষি খামার এবং বাণিজ্যিক কৃষি খামার।
অনুন্নত যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার জন্য বিপণন তথা ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে সময় ব্যয় হয় এবং পণ্যের গুণগত মান ঠিক থাকে না। তাছাড়া যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার অনুন্নয়নের কারণে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ব্যয়বহুল হয় বলে কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত ফসল দূরবর্তী বাজারে না নিয়ে নিকটবর্তী হাট বাজারে বিক্রয় করে দেয়। সে কারণে তারা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। তাই যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
উদ্দীপকের আলোকে GDP-তে শস্য ও মৎস্য খাতের অবদান দণ্ডস্তম্ভের মাধ্যমে নিচে দেখানো হলো-

উপরিউক্ত দণ্ডস্তম্ভ লক্ষ করলে দেখা যায়, কৃষি উপখাতে মৎস্য সম্পদের চেয়ে শস্য ও শাকসবজির অবদান সবচেয়ে বেশি। ২০১১-১২ অর্থবছরে জিডিপিতে শস্য ও শাকসবজি উপখাতের অবদান ছিল ১০ শতাংশ। কিন্তু ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপিতে শস্য ও শাকসবজি উপখাতের অবদান হয় ১১ শতাংশ ও ১১.৫০ শতাংশ। তার মানে জিডিপিতে শস্য উপখাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবার, ২০১১-১২ অর্থবছরে জিডিপিতে মৎস্য উপখাতের অবদান ৩ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপিতে মৎস্য উপখাতের অবদান হয় ৪ ও ৬ শতাংশ। এ থেকে বলা যায়, জিডিপিতে মৎস্য উপখাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট। উদ্দীপকের আলোকে নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উপকরণসমূহের সহজলভ্যকরণ, কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ইত্যাদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার দেশে কৃষি উন্নয়নকল্পে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সরকার কর্তৃক গৃহীত এসব কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য নিঃসন্দেহে যুগোপযোগী। কৃষি তথা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কৃষকদের ভর্তকি প্রদান করে থাকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১২ হাজার কোটি টাকা কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যার প্রায় অর্ধেক অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। উন্নত ও দাতা দেশসমূহের অব্যাহত চাপের মুখেও সরকার কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ সর্বোচ্চ করেছে। আগে বিতরণকৃত কৃষি উপকরণ, কৃষি ভর্তুকির সুবিধা সমাজের গুটিকয়েক বিত্তবান কৃষকদের কুক্ষিগত ছিল। বর্তমানে উপকরণ বিতরণ কৌশল ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হয়েছে। কৃষি
উপকরণ তথা বীজ, সার ইত্যাদির সরবরাহ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। আগে যে পদ্ধতিতে কৃষিঋণ প্রদান করা হতো তাতে সমাজের বিত্তবান কৃষকরাই শুধুমাত্র ঋণ সুবিধা লাভকরত। সরকার যেহেতু কৃষিখাতকে দেশের উন্নয়নের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করে তাই বর্তমানে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জামানত শিথিল করা হয়েছে এবং ঋণের সুদের হার কমানো হয়েছে। এতে প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরা সহজেই ঋণ লাভ করছে। ফলে তারা কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট।
Related Question
View Allসেচ হলো কৃত্রিমভাবে কৃষিজমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% কৃষি খাতে নিয়োজিত। কিন্তু এ দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ও দরিদ্র। ফলে কৃষিকাজের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হয়। তাই কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা অনুসারে আব্দুল করিম কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উৎপাদিত ফসল ভোক্তার নিকট তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম বা প্রক্রিয়াকে কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণ বলে। এ ধরনের পেশার লোকদের দালাল বা ফড়িয়া বলে। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদামতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করা বাজারজাতকরণের প্রথম ধাপ। বিপুল কৃষিপণ্য একসাথে বিক্রি করা যায় না। ফলে কৃষিপণ্য গুদামজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছানোর জন্য পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত থেকে ফসল ক্রয় করা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ইত্যাদির জন্য বিপণনের কাজে ব্যবসায়ী/কৃষকের অর্থের যোগান থাকতে হয়। অতঃপর উক্ত কৃষিপণ্যসমূহ বাজারে বিক্রয় করতে হয়। আব্দুল করিমও ফসলের মৌসুমে কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন তাদের ফসল কেনার জন্য। কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ফসল তিনি শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। এই মধ্যপন্থী কার্যক্রম, অর্থাৎ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করে তার সংসার চালান।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাজারজাতকরণ বা বিপণন পেশা আমাদের দেশে প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তারা অনেক পরিশ্রম করে শস্য ফলায়। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করলে ভালো দাম পায় না। তাই তারা দালাল বা ফড়িয়াদের কাছে সাধারণ দামের চেয়ে একটু বেশি দামে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির চেষ্টা করে। দালাল বা ফড়িয়ারা ওই ফসল শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করে। এতে তারা নিজেরাও লাভবান হয়, আবার কৃষকরাও সাধারণের থেকে একটু বেশি লাভবান হয়। এই দালাল বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গঞ্জে এবং গঞ্জ থেকে শহরে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার কাজেও এ ধরনের দালাল বা ফড়িয়াদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের দালাল ও ফড়িয়ারা আছে বলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারছে। তবে বর্তমানে কিছু ভুয়া দালাল ও ফড়িয়া কৃষকদের ঠকিয়ে তাদের কষ্টে উৎপাদিত পণ্য আত্মসাৎ করছে। যার ফলে সরকার ওই দালাল ও ফড়িয়াদের দূর করতে নিজেরাই কৃষকদের কাছ থেকে ধান/চাল কিনছে। কিন্তু এ দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দালাল ও ফড়িয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশে এ ধরনের পেশা প্রয়োজন।
একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।
কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!