GMO এর পূর্ণ রূপ হলো Genetically Modified Organism. জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করা হয়। এর মাধ্যমে DNA-এর কাঙ্ক্ষিত অংশ ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে, প্রাণী থেকে উদ্ভিদে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। জিনগত পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই জীবকে বলা হয় GMO.

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology) জীববিজ্ঞানের একটি ফলিত (Applied) শাখা। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বংশপতিবিদ্যা নানাভাবে বিকাশ লাভ করতে থাকে। নানা তথ্যে সমৃদ্ধ হতে থাকে এর ভান্ডার। বংশগতির একক বা জিনের উপাদানের প্রকৃতি, রাসায়নিক এবং অণুর পঠন ও জৈবনিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্মতিগুলো আবিষ্কৃত হওয়ার পর একটা জীবকোষ থেকে জিন আরেকটা জীবকোষে প্রতিস্থাপন করা যায়, সেটি নিয়ে জীববিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করলেন। স্থাপিত হলো জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology) নামে জীববিজ্ঞানের নতুন এক শাখা।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বাস্তব সমস্যা সমাধানে এবং মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়নে, উন্নততর ফসল সৃষ্টিতে, ফসলের মান এবং পরিমাণ বৃদ্ধিতে, পরিবেশ সংরক্ষণে এই প্রযুক্তি ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এই অধ্যায়ে আমরা এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• জীবপ্রযুক্তির ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
• টিস্যু কালচার ব্যাখ্যা করতে পারব।
• শস্য উৎপাদনে টিস্যু কালচারের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
•জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
• শস্য উৎপাদনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
• ইনসুলিন এবং হরমোন উৎপাদনে জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
• জীবপ্রযুক্তির উপযোগিতা মূল্যায়ন করতে পারব।
• পশুর রোগ নিরাময়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
• জীবপ্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহারের বিষয়ে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
• আমাদের প্রতিদিনের জীবনে জীবপ্রযুক্তির অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allযে প্রযুক্তি প্রয়োগে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব এর উদ্ভাবন বা উক্ত জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয় তাকে জীব প্রযুক্তি বলে।
ড. হায়দার নিজের গবেষণার সাহায্য নিয়ে জঙ্গলের গাছটির রোগ প্রতিরোধী জিন তার বাগানের গাছের মধ্যে প্রবেশ কবিয়ে নতুন রোগ প্রতিরোধী উন্নত ফলনশীল জাতের লেবু গাছ পেতে সক্ষম হলেন।
ড. হায়দার সাহেবকে লেবু গাছের জাত উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত ল্যাবরেটরি কৌশল অবলম্বন করতে হবে:
i. কাঙ্খিত DNA (রোগ প্রতিরোধী জিন) নির্বাচন।
ii. একটি বাহক নির্বাচন, যার মাধ্যমে কাঙ্খিত DNA খণ্ডটি স্থানান্তর সম্ভব।
iii. নির্দিষ্ট স্থানে DNA অণুকে ছেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম নির্বাচন।
iv. ছেদনকৃত DNA খণ্ডসমূহ সংযুক্ত করার জন্য DNA লাইগেজ এনজাইম নির্বাচন।
v. কাঙ্খিত DNA সহ বাহক DNA এর অনুলিপনের জন্য একটি পোষক নির্বাচন।
vi. কাঙ্খিত DNA খণ্ড সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট DNA এর বহিঃপ্রকাশ মূল্যায়ন।
অতঃপর টিস্যু কালচারের মাধ্যমে নতুন উন্নত জাতের উদ্ভিদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বাইরের পরিবেশে স্থানান্তর করতে হবে।
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির কৌশলকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে উদ্ভিদ প্রজননের ক্ষেত্রে এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে যে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ জাতের উদ্ভাবন করা হয় তার সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য ল্যাবরেটরিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়। তাই ড. হায়দারও তার উদ্ভাবিত উন্নত ফলনশীল লেবুগাছটির সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য টিস্যু কালচার পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। ড. হায়দার এই প্রক্রিয়ায় চারা তৈরির মাধ্যমে নিম্নলিখিত সুবিধাদি নিশ্চিত করতে পারবেন:
i. এর মাধ্যমে উদ্ভিদাংশ থেকে কম সময়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অসংখ্য চারা সৃষ্টি করা যাবে।
ii. সহজেই রোগমুক্ত বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা যাবে।
iii. ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে।
iv. স্বল্প সময়ে কম জায়গার মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক চারা উৎপাদনের সুবিধা থাকায় চারা মজুদের সমস্যা এড়ানো যাবে।
V. উৎপাদিত নতুন বৈশিষ্ট্যের চারা নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা যাবে।
কাজেই সঙ্গত কারণেই ড. হায়দার টিস্যু কালচারের মাধ্যমে তার নতুন উদ্ভাবিত জাতের চারা তৈরি করবেন।
Tobacco Mild Green Mozaic Virus কে সংক্ষেপে TMGMV বলে।
আবাদ মাধ্যম হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তির একটি অংশ। উদ্ভিদের বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন গ্লুকোজ এবং প্রায় কঠিন মাধ্যম তৈরির জন্য জমাট বাধার উপাদান যেমন-অ্যাগার, প্রভৃতি সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে যে মাধ্যম তৈরি করা হয় তাই হলো আবাদ মাধ্যম।
উদ্দীপকের জেনির বাবার নিয়ন্ত্রিত উপায়ে গাছের চারা উৎপাদনের প্রযুক্তিটি হলো টিস্যু কালচার। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম টিস্যু, যেমন- কাণ্ডের শীর্ষভাগ, মূলের অগ্রভাগ ইত্যাদি এক্সপ্ল্যান্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এরপর এক্সপ্ল্যান্টগুলোকে অটোক্লেভ যন্ত্রে জীবাণুমুক্ত করে কাঁচের পাত্রে রাখা আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ এক্সপ্ল্যান্ট থেকে ক্যালাস বা অণুচারা তৈরি হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে অণুচারাগুলো মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। মূল তৈরি হওয়ার পর চারাগুলো টেস্টটিউব বা কাঁচের পাত্র থেকে সযত্নে বের করে পানিতে ধুয়ে টবের মাটিতে লাগানো হয়। এভাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উদ্ভিদের যেকোন বিভাজনক্ষম টিস্যু থেকে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ চারা তৈরি করা সম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!