GNP বা মোট জাতীয় উৎপাদন হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের জনগণ কর্তৃক যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয় তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি।
GNP ও GDP এর মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলো ভৌগোলিক সীমানা ও জনগণ বা নাগরিক।
GDP-তে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানা বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ GDP হলো একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানায় নিজ নাগরিক ও বিদেশি নাগরিক কর্তৃক উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি। অন্যদিকে, GNP-তে আলোচ্য দেশের নাগরিকদেরকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ GNP হলো একটি দেশের নিজ নাগরিক তথা দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকগণ কর্তৃক উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি। আবার GNP-তে মুক্ত অর্থনীতি বিবেচিত হলেও GDP-তে বন্ধ অর্থনীতি বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমীকরণে CCA হলো মূলধনসামগ্রীর ব্যবহারে ক্ষতিপূরণমূলক ব্যয় বা Capital Consumption Allowance
একটি দেশে মোট জাতীয় উৎপাদন সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রকার মূলধনী দ্রব্য, যেমন- যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন সরঞ্জাম, কাঁচামাল ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। দ্রব্য এবং সেবাকর্ম উৎপাদনের সময় এসব মূলধনী দ্রব্যের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়। মূলধনী দ্রব্যের এসব ক্ষয়পূরণ, মেরামত ও পুনর্বাসনে জাতীয় আয়ের একটি অংশ ব্যয় করতে হয়। মূলত মূলধনী দ্রব্যের এ ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয়কে CCA বলে। নিট জাতীয় আয় গণনার সময়ে এ মূলধনসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষতিপূরণমূলক ব্যয় বাদ দিতে হয়।
উদ্দীপকের সমীকরণে দেখা যাচ্ছে যে, মোট জাতীয় আয় (GNI) থেকে মূলধনী দ্রব্যের ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় (CCA) বাদ দিলে নিট জাতীয় আয় (NNI) পাওয়া যায়। অর্থাৎ NNI নির্ণয়ের জন্য CCA নির্ণয় করে নিতে হয়। কারণ, CCA বা মূলধনী দ্রব্যের ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় জানা না থাকলে নিট জাতীয় আয় বা NNI নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের সমীকরণে উল্লিখিত (XM) নিট রপ্তানি (X) এবং নিট উপাদান আয়কে নির্দেশ করে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।
সাধারণত নিট রপ্তানি বলতে একটি দেশের অর্থনীতির রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের ব্যবধানকে বোঝায়। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট রপ্তানি আয় থেকে মোট আমদানি ব্যয় বাদ দিলে যা থাকে তাই হলো দেশটির নিট রপ্তানি আয়। অন্যদিকে, নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যা আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে প্রদত্ত সমীকরণটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিবেচ্য দেশটির জাতীয় আয় পরিমাপে রপ্তানি আয় থেকে আমদানি ব্যয় বাদ দিয়ে তা GDP এর সাথে যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ GNI = C + I + G (X - M) এক্ষেত্রে C + I + G হলো GDP এবং (X - M) হলো নিট রপ্তানি আয় বা নিট উপাদান আয় (Xn)। মুক্ত অর্থনীতিতে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের আয় জাতীয় আয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আয় বাদ দেওয়া হয়। এটিই মূলত নিট উপাদান আয়, যা Xn = (X - M) দ্বারা নির্ণয় করা হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটি যেহেতু মুক্ত অর্থনীতির দেশ, তাই স্পষ্টতই (X - M) হলো নিট রপ্তানি এবং নিট উপাদান আয়।
একটি দেশের জাতীয় আয়ের ধারণা থেকে সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝা যায়। অর্থাৎ দেশটি কী উন্নত, উন্নয়নশীল, না অনুন্নত এ সম্পর্কে ধারণা করা যায় । কোনো দেশের জাতীয় আয় কত, তা জানার জন্য জাতীয় আয় পরিমাপ করতে হয়। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!