চালতা ফুল শিশিরের জলে ভিজবে।
"পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল" বলতে অবিনশ্বর প্রকৃতির চির প্রবহমানতাকে বোঝানো হয়েছে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি টিকে থাকে। জাগতিক নিয়মে নশ্বর মানবজীবন স্রোত চলে অবিনশ্বর প্রকৃতির বিপরীতে। মানুষের সাধারণ মৃত্যু রহিত করতে পারে না পৃথিবীর বহমানতা। এই বহমানতা এবং মানুষের স্বপ্ন দেখার গল্প চিরকাল বেঁচে থাকে। এখানে সেই প্রসঙ্গেই এ কথা বোঝানো হয়েছে।
(i) নং উদ্দীপকে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি চির প্রবহমান। প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনো শেষ হয় না। প্রকৃতিতে বিরাজমান বিচিত্র গন্ধ, বিভিন্ন বর্ণের অফুরন্ত সৌন্দর্য মানুষকে সজীব ও সতেজ করে।
উদ্দীপক (i)-এ বাংলার রূপবৈচিত্র্যের দিকটি নির্দেশিত হয়েছে। এখানে গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। গ্রামবাংলা ফুলে-ফসলে, কাদা-মাটি-জলে এক অপূর্ব সৌন্দর্যে বিরাজমান। সৌন্দর্যমণ্ডিত গ্রামখানি স্নেহময়ী মায়ের মতো। উদ্দীপকের এই সৌন্দর্যচেতনার দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রতিফলিত সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্যের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। বিচিত্রভাবে বিবর্তনের মধ্যেও আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি টিকে থাকে। পৃথিবীতে মানুষ এবং মানুষের সৃষ্টির ধ্বংস আছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের ধ্বংস নেই।
হ্যাঁ, (ii) নং উদ্দীপকের ভাব 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব ধারণ করে।
পৃথিবীতে মানুষ ক্ষণস্থায়ী। আর প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরস্থায়ী। কালের গর্ভে মানুষ হারায়, প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য হারায় না। মানুষ অমরত্বের দাবি করলেও অমর হতে পারে না। কিন্তু মানুষের স্বপ্ন অমর। প্রকৃতির সঙ্গে একাকার হয়ে মানুষের স্বপ্ন বেঁচে থাকে।
(ii) নং উদ্দীপকে পৃথিবীতে প্রকৃতির অমলিন থাকা এবং মানুষের হারিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। এখানে মানুষকে মনে না রাখার অব্যক্ত বেদনা এবং প্রকৃতির চিরন্তনতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশে কবি পৃথিবীর ফুল, ফুলের বাগান, ঘন ঘাস, শেওলা, পুকুর, কাঁটালতা প্রভৃতি থেকে নিজের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াকে প্রকাশ করেছেন। প্রকৃতির এসব উপাদান চির প্রবহমান থাকলেও তাঁকে আর কেউ মনে রাখবে না। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রতিফলিত কবির অনুভূতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারায় না। কেবল মানুষ হারিয়ে যায়। কবির এই উপলব্ধি (ii) নং উদ্দীপকের কবির উপলব্ধির সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন ব্যস্ততার কথা প্রসঙ্গে মৃত্যুর কথা বলেছেন। কবি বলেছেন তাঁর মৃত্যুতে পৃথিবীতে কোনোকিছুই থেমে থাকবে না। কবির এই চিরন্তন সত্যের দিকটি উদ্দীপক (ii)-এ প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এখানেও কবিকে। কেউ মনে না রাখলেও পৃথিবীর সবকিছু ঠিকঠাক চলার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, (ii) নং উদ্দীপকের ভাব 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!