মিথ্যা সুখের আশা করে দুঃখ বাড়ানো জীবনের উদ্দেশ্য নয়।
"আয়ু যেন শৈবালের নীর" বলতে কবি মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে বুঝিয়েছেন।
শৈবাল বা শেওলার উপরে যে পানি থাকে তার ব্যাপ্তিকাল অত্যন্ত কম। সূর্যের কিরণ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তা শুকিয়ে যায়। মানুষের জীবনও তেমনই ক্ষণস্থায়ী। এ পৃথিবীতে মানুষের আয়ু অত্যন্ত কম। কবি তাই শৈবালের জলবিন্দুর সঙ্গে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের তুলনা করেছেন। আমাদের উচিত এ ক্ষণস্থায়ী জীবনকে নিজ কর্ম ও সময়ের সদ্ব্যবহার করে আলোকময় করে তোলা।
(i) নং উদ্দীপকে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হওয়া এবং হতাশার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। আনন্দ-বেদনা নিয়েই মানুষের জীবন। সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছতে হলে পথে নানা সমস্যা, সংকট অতিক্রম করতে হয়। ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে কোনো কাজ থেকে দূরে থাকলে জীবনে উন্নতি করা যায় না। আবার জীবনকে ব্যর্থ মনে করে তা থেকে নিজেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার চিন্তাও ভুল। কারণ মানবজীবন বহু মূল্যবান।
উদ্দীপক (i)-এ জীবনের প্রতি গভীর অনীহা ও হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। জীবন যন্ত্রণাময় মনে করে তা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে স্রষ্টার কাছে জীবন অবসানের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। এই দিকটি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় জীবনের প্রতি মানুষের বীতশ্রদ্ধ হওয়া ও হতাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় জীবনের সমস্যাকে অতিক্রম করার চেষ্টা না করে জীবনকে ব্যর্থ হিসেবে দেখা হয়েছে। এই সংসারে জন্মকে বৃথা মনে করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জীবন তা নয়। জীবন বহু মূল্যবান। তাকে যত্ন করলে সাফল্য অর্জন অবশ্যই সম্ভব।
(ii) নং উদ্দীপকের মূলভাবে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মনোবলহীন দুর্বলরাই জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু যারা জীবনকে একটি যুদ্ধক্ষেত্র মনে করে ব্যর্থতা ও সফলতাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যায় পৃথিবী তাদেরই জয়গান করে। কাজেই হতাশ না হয়ে জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে হলে মানুষকে কাজ করতে হয়। মহামূল্যবান জীবনকে সার্থক করে তুলতে কাজের কোনো বিকল্প নেই।
(ii) নং উদ্দীপকে মহামূল্যবান জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং তা উন্নত ও সাফল্যমণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে। এখানে মানবজন্মকে বহু ভাগ্যের ফল হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। মানুষের দেহ নামের তরিকে না ডুবিয়ে তা সফলভাবে বেয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে জীবনের প্রতি যত্নবান হতে এবং জীবনকে সার্থক করার যে কথা বলা হয়েছে তা 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবির প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও মহামূল্যবান জীবনকে হতাশায় না মুড়িয়ে তা উপভোগ করার কথা বলেছেন। কারণ মানবজন্ম একবারই। এ জীবন হারানোর পরে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। শুধু হতাশায় জীবনকে মুড়িয়ে রাখলে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি ক্ষণস্থায়ী মানবজীবনের কিছু ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। জীবনকে বিষাদগ্রস্ত না করে কর্মের মাধ্যমে প্রবহমান রাখার যে কথা কবি এ কবিতায় বলেছেন তা এ উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। কবি জীবনকে মহামূল্য বলে অভিহিত করে তার যত্ন করতে বলেছেন। এই বিষয়টি আলোচ্য উদ্দীপকেও নির্দেশিত হয়েছে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!