যে তড়িৎ কোষে তড়িৎ প্রবাহিত করে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয় তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলে।
কার্বন ডাই অক্সাইড একটি বৃহৎ বায়ু অণু। সূর্যরশ্মি, বায়ুমন্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করে, তখন সূর্যরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ছোট থাকে। কিন্তু ভূ-পৃষ্ঠ, প্রাণি ও উদ্ভিদ জগত তাপ গ্রহণ করার পর সূর্য রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। এই বৃহৎ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের রশ্মি কার্বন ডাই-অক্সাইড স্তরে বাধা প্রাপ্ত হয়ে আবার ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে। তাই ভূ-পৃষ্ঠে কার্বনডাই অক্সাইড তাপ ধারণ করতে সাহায্য করে। তাই গ্রিন হাউজ গ্যাস তৈরির জন্য কার্বন ডাই অক্সাইডকে মুখ্যত দায়ী করা হয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়ায় উৎপাদিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে
যানবাহন চালানোর কাজ করানো যায়। পেট্রোলিয়াম হলো উচ্চ কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন। একে উত্তাপে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করালে CO2, জলীয় বাষ্প এবং প্রচুর পরিমাণ তাপ উৎপাদিত হয়। পেট্রোলিয়াম O2 = CO2 + H2O + শক্তি
বিক্রিয়াটি তাপ উৎপাদী, এই উৎপাদিত তাপকে ইঞ্চিনের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে যানবাহন চালানো যায়।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটি একটি নিউক্লিয়ার ফিসান বিক্রিয়া। অর্থাৎ ঘ এই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় কোন মৌলের বড় নিউক্লিয়াসকে শক্তিশালী কণা দ্বারা আঘাত করলে বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙ্গে ছোট ছোট নিউক্লিয়াসে পরিণত করে। যেমন নিউট্রন কণা দ্বারা কে আঘাত করলে বেরিয়াম ও ক্রিপ্টন এবং অতিরিক্ত তিনটি নিউট্রন কণাসহ শক্তি উৎপাদন করে। উৎপাদিত অতিরিক্ত নিউট্রন কণা পুনরায় কে আঘাত করে ভাঙ্গতে থাকে এবং অধিক শক্তি উৎপাদন করতে থাকে। এ বিক্রিয়াকে চেইন বিক্রিয়া বলে। এ প্রক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস থেকে প্রায় 30টি ছোট ছোট নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট পরমাণু বা মৌল উৎপাদিত হয় এবং প্রচুর তাপশক্তি নির্গত হয়। এভাবে অল্প পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করা যায়। তাই (ii) নং বিক্রিয়ার মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
Related Question
View Allতড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে কোনো সক্রিয় ধাতুর ওপর অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে।
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু ব্যবহার হয় প্রধানত দুটি কারণে।
i. লবণ সেতু অর্ধকোষদ্বয়ের উভয় দ্রবণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কোষের বর্তনী পূর্ণ করে।
ii. জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন (যেমন- Zn2+) বৃদ্ধি পাওয়ায় এতে লবণ সেতু থেকে ঋণাত্মক আয়নের ব্যাপন ঘটে। অনুরূপভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ধনাত্মক (যেমন- Cu2+) আয়ন হ্রাস পাওয়ায় এতে লবণ সেতু থেকে ধনাত্মক আয়নের ব্যাপন ঘটে। ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে চার্জ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
শক্তি
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মৌলসমূহের (বিক্রিয়কের) পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ায় নতুন পদার্থ (উৎপাদ) গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিক্রিয়কের বন্ধন ভেঙ্গে উৎপাদ গঠিত হওয়ার সময় নতুন বন্ধন গঠিত হয়। এতে তাপের শোষণ বা উদ্দ্গীরণ ঘটে। এ ধরনের বিক্রিয়ার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মৌলসমূহের মধ্যে ইলেকট্রন স্থানান্তরের বা শেয়ারের মাধ্যমে নতুন যৌগের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটিতে একটি ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে দুটি মৌলের সৃষ্টি হয় (Ba ও Kr)। এটি একটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া। কেননা, এতে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন নিউট্রনের আঘাতে একটি নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে দুটো নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। এতে ইলেকট্রনের কোন ভূমিকা থাকে না। যে সব বিক্রিয়ায় কোন মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে এক বা একাধিক অপেক্ষাকৃত হালকা নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়, তাদেরকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। উল্লেখিত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় একটি বড় নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে দুটো ছোট নিউক্লিয়াস তৈরি হয় বলে একে নিউক্লিয়ার ফিসন বিক্রিয়া বলা হয়। নিউক্রিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। তাই (ii) নং বিক্রিয়াটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং (ii) নং বিক্রিয়াটি নিউক্লিয় বিক্রিয়া। রাসায়নিক ও নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ।
| রাসায়নিক বিক্রিয়া | নিউক্লিয় বিক্রিয়া | |
| i | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যোজ্যতা ইলেকট্রনসমূহের পরিবর্তন ঘটে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে। |
| ii | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয় না; শুধু পরমাণুর স্থানান্তর ঘটে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় নতুন মৌল সৃষ্টি হয়। |
| iii | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের পরিমাণ তুলনামূলক খুবই কম। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তনের পরিমাণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার তুলনায় শত লক্ষ গুণ বেশি। |
| iv | রাসায়নিক বিক্রিয়াকালে মৌলের প্রোটন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। | নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় মৌলের প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। |
| v | রাসায়নিক বিক্রিয়া কাচপাত্রে যেমন টেস্ট টিউবে ঘটানো যায়। | নিউক্লিয় বিক্রিয়া নিউক্লিয় চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটানো হয়। |
যে সকল পদার্থের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় কোনোরূপ রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না, সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন দ্বারা তড়িৎ পরিবাহিত হয়, তাদেরকে ধাতব বা ইলেকট্রনীয় পরিবাহী হলে।
যদি পরিবাহীর আয়ন দ্বারা বিদ্যুৎ প্রবাহ সাধিত হয় তবে, এসব পরিবাহীকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। যেমন গলিত লবণ, এসিড, ক্ষার ও লবণের দ্রবণ।
ধাতব প্লাটিনাম (Pt) পাতের অ্যানোড ও ক্যাথোড ব্যবহার করে এসিড মিশ্রিত পানির মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে নিম্নোক্ত বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
অ্যানোড বিক্রিয়ায়:
ক্যাথোড বিক্রিয়া :
অর্থাৎ এসিড মিশ্রিত পানি পরিবহনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে বিধায় এসিড মিশ্রিত পানিকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিক্রিয়ায় সালফিউরিক এসিডের কোনো পরিবর্তন বা ব্যয় হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!