বাক্য: এক বা একাধিক পদের (বিভক্তিযুক্ত শব্দ) সমন্বয়ে যখন বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তখন তাকে বাক্য বলে। উদাহরণ: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
এখানে 'বাংলাদেশ', 'একটি', 'স্বাধীন', 'সার্বভৌম', 'রাষ্ট্র- এ পাঁচটি পদ মিলে একটি সম্পূর্ণ মনের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং এটি একটি বাক্য।
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য: একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। এগুলো হলো
ক. আকাঙক্ষা,
খ. আসত্তি,
গ. যোগ্যতা।
ক. আকাঙক্ষা: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা হয়, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন: যদি বলা হয়, 'ছেলেরা ফুটবল' তাহলে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণ বোঝা যায় না; শ্রোতার আরও কিছু শোনার ইচ্ছা থাকে। এক্ষেত্রে যদি বলা হয়- 'ছেলেরা ফুটবল খেলছে'। তাহলে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত হয় এবং সেই সঙ্গে এটি একটি সার্থক বাক্য বলেও বিবেচিত হয়।
খ. আসত্তি: বাক্যের অর্থ সুসংহত করার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন: 'মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন।' বাক্যটি একটি সম্পূর্ণ মনোভাব ব্যক্ত করেছে। কিন্তু যদি বলা হয়, 'স্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা দেশ করেছেন' তাহলে পদবিন্যাসের বিশৃঙ্খলার কারণে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়। তাই যথার্থ অর্থ প্রকাশ করার জন্য পদগুলো ঠিক ঠিক জায়গায় সন্নিবিষ্ট করে বাক্যের আসত্তি রক্ষা করতে হয়।
গ. যোগ্যতা: বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে। যেমন: 'চৈত্রের রোদে খরা হয়েছে। এটি একটি সার্থক বাক্য। কিন্তু যদি বলা হয়, 'চৈত্রের রোদে বন্যা হয়েছে।' তাহলে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ চৈত্রের রোদে খরা হতে পারে; বন্যা নয়।
সদা সত্য কথা বলা উচিৎ। (অনুজ্ঞা) = সদা সত্য কথা বলবে।
আমাদের দেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। (বিস্ময়বোধক) = বাহ্, কী সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ!
আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। (জটিল) = যা আমার সত্য তা আমাকে পথ দেখাবে।
যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী। (সরল) = জ্ঞানী ব্যক্তিই সত্যিকারের ধনী।
সাহিত্য জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ। (প্রশ্নবাচক) = সাহিত্য কি জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ নয়?
অনুগ্রহ করে সব খুলে বলুন। (যৌগিক) = অনুগ্রহ করুন এবং সব খুলে বলুন।
এ কথা স্বীকার করতেই হয়। (নেতিবাচক) = একথা স্বীকার না করে উপায় নেই।
সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি। (জটিল) = যেহেতু সত্য কথা বলিনি সেহেতু বিপদে পড়েছি ।
Related Question
View Allযে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার। যথা:
১. সরল বাক্য ২. মিশ্র বা জটিল বাক্য ৩. যৌগিক বাক্য।
১. সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া তাকে সরল বাক্য বলে।
২. মিশ্র বা জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্য এবং একাধিক খণ্ড বাক্য বা আশ্রিত বাক্য থাকে তাকে মিশ্র বাক্য। বলে।
৩. যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলে যৌগিক বাক্য গঠিত হয়।
গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
বিপদ কখনও একা আসে না । = বিশেষ্য
আজ নয় কাল তাকে আসতেই হবে। = বিকল্প যোজক
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? = অনুসর্গ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। = ক্রিয়াবিশেষণ
মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা ৷ = সর্বনাম
বুঝিয়াছিলাম মেয়েটির রূপ বড় আশ্চর্য। = ক্রিয়া
শাবাশ! দারুণ কাজ করেছ। = আবেগ
সানজিদা দ্রুত দৌড়াতে পারে। = ক্রিয়াবিশেষণ
বিপদ কখনও একা আসে না । = বিশেষ্য
আজ নয় কাল তাকে আসতেই হবে। = বিকল্প যোজক
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? = অনুসর্গ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!