নিচে সত্যিকারের কোকিল ও কলের কোকিলের মধ্যে মিল-অমিল দেওয়া হলো-
| মিল | অমিল |
| ১. সত্যিকারের কোকিল ও কলের কোকিল উভয়েই গান গাইতে পারে। | ১. কলের কোকিল গায় বাঁধা গৎ, আর সত্যিকারের কোকিল গায় নিজের খেয়ালে। |
| ২. উভয় কোকিলই গান শুনিয়ে রাজা ও অমাত্যদের খুশি ও মুগ্ধ করতে পারে। | ২. কলের কোকিল উড়তে পারে না। সত্যিকারের কোকিল উড়তে পারে। |
| ৩.. কলের কোকিল এবং সত্যিকারের জ্যান্ত কোকিল উভয়ই রাজাকে গান শোনায়। | ৩. কলের কোকিল যন্ত্রচালিত, নষ্ট হয়ে যায়। বনের কোকিল তা নয়, রাজার অসুস্থতার সময় আবার গান শোনাতে আসে। |
"যে সত্যিকার উপকারী সে কিছু পাওয়ার আশায় কারও উপকার করে না"- 'কোকিল' গল্পের কোকিল সম্পর্কে এই কথাটি যথার্থ।
'কোকিল' গল্পটি একটি কল্পনানির্ভর লেখা। এ গল্পে চীন দেশের সমুদ্রপাড়ের এক বনে অদ্ভুত এক কোকিলের কথা বিবৃত হয়েছে, যার তুলনা নেই দুনিয়ায়। এত চমৎকার মধুর সুরে সে গান গায় যে, জেলে কাজ ফেলে গান শোনে, পণ্ডিতেরা হাজার পাতা ভরিয়ে পাখির প্রশংসা লিখে শেষ করতে পারেন না, কবি তাকে নিয়ে কবিতা লেখেন। একদিন রাজসভায় রাজা কোকিলকে এনে গান শোনেন এবং গান শুনে তাঁর চোখ আনন্দ অশ্রুতে ভরে ওঠে। পাখিকে সোনার খাঁচায় রেখে রাজা গান শোনেন। একদিন জাপান সম্রাটের কাছ থেকে মস্ত এক পার্সেল আসে, যার মধ্যে ছিল একটি কলের কোকিল। এই কোকিল হিরে-জহ্রতে সজ্জিত, একটানা গৎবাঁধা গান গায়, ক্লান্ত হয় না। রাজা সবাইকে নিমন্ত্রণ করে এই পাখির গান শোনালেন। সংগীতবিশারদ বললেন, তালে লয়ে সুরে মানে একেবারে নিখুঁত। কলের কোকিলের প্রশংসায় অবহেলিত আসল কোকিল রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে মুক্ত স্বাধীন হয়ে গেল। কোকিল সবার অগোচরে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেছে, তার মধ্যে কাজ করেছে আত্মসম্মানবোধ এবং মুক্ত স্বাধীন জীবনের আকাঙ্ক্ষার। এদিকে নকল পাখি রইল রাজার হালে সম্রাটের কাছে। বছর খানেক পর নকল পাখি হঠাৎ বিকল হয়ে যায় এবং এটির আর মেরামত করা সম্ভব হয় না। এর পাঁচ বছর পর সম্রাটের যখন ভীষণ অসুখ, মৃত্যু সম্রাটের বুকের ওপর, তখন সম্রাট বলে ওঠেন গান! গান। কলের পাখি তো নিশ্চুপ। এদিকে জানালার বাইরে গাছের ডাল থেকে ভেসে এলো গানের সুর। ছোটো সেই কোকিল অপূর্ব সুরে গান গেয়ে শোনাল রাজাকে। গান তার আর থামে না। অসুস্থ রাজাকে একটু শান্তি ও ভালোবাসা দিতে এসেছে সে। রাজ্যের এই দুর্দিনে রাজার প্রাণ রক্ষা করতে ফিরে এসেছে সে। 'মৃত্যুও সেই গান কান পেতে শুনে মুগ্ধ হলো এবং আরও গান শুনতে চাইল। কোকিল তাকে আরও গান শোনাল। তবে তার বিনিময়ে মৃত্যুর কাছ থেকে রাজার জীবন চেয়ে নিল। সে আরও গান শুনল এবং বিনিময়ে সম্রাটকে জীবন দান করে গেল। তাই রাজা তাকে পুরস্কার দিতে চাইল। কিন্তু বিনিময়ে কোকিল কিছুই নিল না কৃতজ্ঞ রাজার কাছ থেকে।
শুধু স্বাধীনভাবে রাজা, প্রজা, জেলে, চাষি সকলের জন্য সুখ-দুঃখের গান গাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করল, আর সবার অগোচরে রাজাকে জানাতে চাইল রাজ্যের সত্যিকার সব খবর। এখানে কোকিল আসলে উপকারী, সে কিছু পাওয়ার আশায় কারও উপকার করে না। প্রাকৃতিক এই পাখির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সে উপকারী। এছাড়া কোকিলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হলো সে প্রাকৃতিক পাখি, তার নিজস্ব একটি সত্তা আছে, সে মুক্ত ও স্বাধীন থাকতে পছন্দ করে। সে আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন একটি পাখি। সবশেষে তার উপকারী ভূমিকাটিই প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allমহাকবি কালিদাসের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম- মেঘদূত।
কলের কোকিল আগের মতো বাজে না বলে রাজ্যে হাহাকার পড়ে গেল।
কোকিল' গল্পে আসল কোকিলের গান শুনে রাজা মুগ্ধ হয়ে তাকে রাজপ্রাসাদে সোনার খাঁচায় রেখে দেন। তখন কলের কোকিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। সবাই কলের কোকিলের প্রশংসা করলে আসল কোকিল অবহেলার শিকার হয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে চলে যায়। এরই মধ্যে কলের কোকিলের তার ছিঁড়ে যায়। তাকে মেরামত করা হলেও আগের মতো তা আর টানা বাজে না। এ কারণে রাজ্যে হাহাকার পড়ে গেল।
উদ্দীপকের বিষয়টি 'কোকিল' গল্পের আসল কোকিলের জন্য সোনার খাঁচা এবং কলের কোকিলের গৎ বাঁধা সুরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
জগতের সবকিছুই নিয়মের মধ্যে চলে। অনিয়ম হলেই সমস্যা দেখা দেয়। তাই যার যেখানে স্থান সেখানে থাকলেই নিয়ম রক্ষা হয় এবং সে ভালো থাকে।
উদ্দীপকে টুনটুনির বাসা তৈরির পদ্ধতি ও 'বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এখানে হিংস্র জন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টুনটুনির বিশেষ পদ্ধতিতে বাসা তৈরির কথা বলা হয়েছে। এ দিকটি 'কোকিল' গল্পে বনের কোকিল রাজপ্রাসাদে সোনার খাঁচায় পুরে রাখার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বনের পাখিকে খাঁচায় রাখলে তার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অন্যদিকে কলের পাখিকে চাবি দিয়ে যে সুর পাওয়া যায় তা কোকিলের আসল সুর নয়, নকল সুর।
"যন্ত্রের চাকচিক্য সবসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিকল্প হয় না।"-উদ্দীপক ও 'কোকিল' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো।
যেকোনো বস্তু বা প্রাণী তার উপযুক্ত পরিবেশেই বেশি সুন্দর। যদি এর বিঘ্ন ঘটে তবে সেটির প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় না এবং সেটির গুরুত্ব কমে যায়।
উদ্দীপকে টুনটুনির বাসা তৈরির বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এ বিষয়টি 'কোকিল' গল্পের আসল কোকিলের জন্য সোনার খাঁচা এবং কলের কোকিলের নির্দিষ্ট করা সুর শুনে প্রশংসার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ উভয়ই প্রকৃতির সম্পর্কচ্যুত। তাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশ লক্ষ করা যায় না।
'কোকিল' গল্পে বনের কোকিল রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করার পর কলের কোকিলের তার ছিড়ে যায়। তাকে মেরামত করলেও আগের মতো সেটি বাজে না। ফলে রাজা অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে সুস্থ করার জন্য কোনো সুর কলের কোকিল শোনাতে পারে না। তখন আসল কোকিল এসে মধুর সুরে গান শুনিয়ে রাজাকে সুস্থ করে তোলে। আসল কোকিল এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য চেতনার প্রতীক। যার সঙ্গে উদ্দীপকের টুনটুনির বাসা বানানো ও জীবনযাপন একসূত্রে গাঁথা। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'কোকিল' একটি রূপকথাধর্মী গল্প।
কলের কোকিলের প্রশংসায় অবহেলিত হয়ে আসল কোকিল রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে।
রাজা আসল কোকিলকে রাজসভায় ডেকে পাঠান। কোকিল সেখানে গান করে রাজাকে মুগ্ধ করে। রাজা খুশি হয়ে তাকে রাজসভায়ই সোনার খাঁচায় পুরে রাখেন। সেখানে এক কলের কোকিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। তার গৎ বাঁধা কণ্ঠ ও সুর শুনে সবাই প্রশংসা করে আর আসল কোকিলকে অবহেলা করতে থাকে। তাতে আসল কোকিল কষ্ট পেয়ে সোনার খাঁচা থেকে বের হয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
