অর্থানুসারে বাক্যের প্রকারভেদ: অর্থানুসারে বাক্যকে সাত ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. নির্দেশমূলক বা নির্দেশাত্মক;
খ. জিজ্ঞাসাত্মক বা প্রশ্নবোধক;
গ. অনুজ্ঞাসূচক বা আদেশবাচক;
ঘ. ইচ্ছাপ্রকাশক বা প্রার্থনাসূচক;
ঙ. কার্যকারণাত্মক বা অপেক্ষাসূচক;
চ. সংশয়বাচক বা সন্দেহসূচক;
ছ. আবেগসূচক বা উচ্ছ্বাসাত্মক।
ক. নির্দেশমূলক বা নির্দেশাত্মক: এ শ্রেণির বাক্যে সাধারণভাবে কোনো কিছুর বিবৃতি বা বর্ণনা নির্দেশিত হয়। নির্দেশাত্মক বাক্য আবার দ্বিবিধ। যেমন: অস্তিবাচক (হ্যা-বোধক): কোনো কিছুর অস্তিত্ব নির্দেশ করতে অস্তিবাচক বাক্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'সুবর্ণ একজন মেধাবী ছাত্র।' 'তসলিমা পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে।" নেতিবাচক (না-বোধক): কোনো কিছু অস্বীকার করতে নেতিবাচক বাক্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।' 'ওখানে বসার জায়গা নেই।'
খ. জিজ্ঞাসাত্মক বা প্রশ্নবোধক: এ শ্রেণির বাক্যে প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা করা বোঝায়। যেমন: 'ট্রেন কি ছেড়েছে?" 'তুমি কী করছো?"
গ. অনুজ্ঞাসূচক বা আদেশবাচক: এ শ্রেণির বাক্যে আদেশ, উপদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ইত্যাদি বোঝায়। যেমন: 'আপনি অনুগ্রহ করে সব খুলে বলুন। "কখনো মিথ্যা বলো না।
ঘ. ইচ্ছাপ্রকাশক বা প্রার্থনাসূচক: এ শ্রেণির বাক্যে বক্তার কোনো কিছুর জন্য প্রার্থনা করা বোঝায়। শুভ-অশুভ ইচ্ছা বোঝাতেও এ শ্রেণির বাক্য গঠিত হয়। যেমন: 'সবার মঙ্গল হোক।' 'যদি প্রথম হতে পারতাম!'
ঙ. কার্যকারণাত্মক বা অপেক্ষাসূচক: এ শ্রেণির বাক্যে একটি ঘটনার ওপর আর একটি ঘটনার নির্ভরশীলতার সম্বদ্ধ স্থাপিত হয়। যেমন: "বৃষ্টি না হলে ফসল পুড়ে যাবে।' 'আপনি না এলে ভালো লাগবে না।
চ. সংশয়বাচক বা সন্দেহসূচক: এ শ্রেণির বাক্যে বক্তার মনের সংশয় বা সন্দেহ প্রকাশ পায়। যেমন: 'আমার মনে হয় না, সে আসবে।' 'আছে কোথাও এইখানে।' 'আজ বোধ হয় বৃষ্টি হবে।
ছ. আবেগসূচক বা উচ্ছ্বাসাত্মক: এ শ্রেণির বাক্যে আনন্দ, শোক, উৎসাহ, ঘৃণা, বিস্ময়, কাতরতা, ভয় প্রভৃতি প্রকাশ পায়। যেমন: 'বাঃ, কী সুন্দর পাহাড়!" "হায় হায়, কী সর্বনাশ ঘটল!" "ছিঃ, তুমি এ কাজ করতে পারলে!'
লোকটি ধনী, কিন্তু উদার নয়। (জটিল) = যদিও লোকটি ধনী, তবুও উদার নয়।
এখন খাঁটি জিনিস সহজলভ্য নয়। (অস্তিবাচক) = এখন খাঁটি জিনিস দুর্লভ।
কিছু বলবেন না। (নির্দেশাত্মক) = কিছু বলতে নিষেধ করছি।
বিপদে অধীর হতে নেই। (অনুজ্ঞাসূচক) = বিপদে অধীর হয়ো না।
তুমি অন্যায় কাজ করেছ। (নেতিবাচক) = তুমি ন্যায়সঙ্গত কাজ করোনি।
যার গুণ আছে, সে বিনয়ী হয়। (সরল) = গুণী ব্যক্তিরা বিনয়ী হয়।
এদেশ বড়ো বিচিত্র। (বিস্ময়বোধ) = কী বিচিত্র এ দেশ!
সাহিত্য জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ। (প্রশ্নবোধক) = সাহিত্য কি জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ নয়?
বাক্যের মেীলিক উপাদান শব্দ হলে ও ভাষার মূল উপকরণ বাক্য। এই বাক্য সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে বাক্য তার ভাষাগত যোগ্যতা হারায়। যার ফলস্বরুপ মনের ভাব সুস্পষ্টরুপে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বা আমরা যথাযথভাবে বুঝতে পারি না।ত্রুটিমুক্ত বাক্যই পারে সঠিকভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে। ভাষাগত যোগ্যতার বিচারে সঠিক বাক্য বলা বা প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাক্য: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে।
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ তিনটি। যথা: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া। বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলো কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম। আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনো কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়, তাকে বলে ক্রিয়া। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে। এখানে 'সজল ও লতা' হলো কর্তা, 'বই' হলো কর্ম এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।
বাক্যের ভিত্তি: ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন:
ক) আকাঙ্খা
২) আসত্তি
৩) যোগ্যতা
গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার।
যথা: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য।
উদাহরণ: আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব। যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, তখন আমি খেলতে যাব। আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব।
প্রথম বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে। এটি সরল বাক্য। দ্বিতীয় বাক্যের দুটি অংশ 'যখন' ও 'তখন' যোজক দ্বারা যুক্ত হয়েছে। এটি জটিল বাক্য। তৃতীয় বাক্যে 'করব' ও 'যাব' দুটি সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে। এটি যৌগিক বাক্য।
অর্থানুসারে বাক্যর প্রকারভেদঃ
অর্থানুসারে বাক্য সাত প্রকার। যথা:
ক. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনামূলক বা নির্দেশমূলক বাক্য। যেমন:
এখান থেকে যাও (নির্দেশাত্মক)।
আমি ভাত খাই (বিবৃতিমূলক)।
সে ঢাকা যাবে (হ্যাঁ-বাচক)।
আমি বলতে চাই না (না-বাচক)।
আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
তারা তোমাদের ভুলেনি।
খ. প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন:
তোমার নাম কী?
কী পড়ছ?
যাবে নাকি? কোথায় যাচ্ছ?
সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য। যেমন:
বল বীর বল উন্নত মম শির।
উঠে দাঁড়াও।
আমাকে একটি কলম দাও।
ঘ. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য। যেমন:
মহারাজের জয় হোক।
তোমার মঙ্গল হোক।
ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন।
দীর্ঘজীবী হও।
পরীক্ষায় সফল হও।
তার মঙ্গল হোক।
ঙ. কার্যকারণাত্মক বাক্য। যেমন: কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না।
চ. সংশয়সূচক বাক্য। যেমন: বোধ হয়, ছেলেটা চাকুরি পেয়ে যাবে।
ছ. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য।
যেমন: হে সিন্ধু!
বন্ধু মোর-মজিনু তব রূপে!
হুররে! আমরা জিতেছি
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
Related Question
View Allবিপদ কখনও একা আসে না । = বিশেষ্য
আজ নয় কাল তাকে আসতেই হবে। = বিকল্প যোজক
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? = অনুসর্গ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। = ক্রিয়াবিশেষণ
মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা ৷ = সর্বনাম
বুঝিয়াছিলাম মেয়েটির রূপ বড় আশ্চর্য। = ক্রিয়া
শাবাশ! দারুণ কাজ করেছ। = আবেগ
সানজিদা দ্রুত দৌড়াতে পারে। = ক্রিয়াবিশেষণ
বিপদ কখনও একা আসে না । = বিশেষ্য
আজ নয় কাল তাকে আসতেই হবে। = বিকল্প যোজক
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? = অনুসর্গ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। = ক্রিয়াবিশেষণ
মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা ৷ = সর্বনাম
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!