জিনিং প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তন্তুকে কটন লিন্ট বলে।
তুলা, লিনেন, পশম ইত্যাদি তন্তু থেকে সুতা তৈরির এক পর্যায়ে কার্ডিং করা হয়। কার্ডিং একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এসব তত্ত্ব থেকে ধুলাবালি, অন্যান্য ময়লা, অতিরিক্ত ছোট আঁশ ইত্যাদি দূরীভূত করা হয়। এর ফলে তন্তু পরিষ্কার হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তাপমাত্রার প্রতি বিষম আচরণ প্রদর্শনকারী B যৌগটি হলো পলিথিন।
পলিথিন এক ধরনের পলিমার। পলিমার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক পলিমার ও কৃত্রিম পলিমার। প্রকৃতি থেকে যেসব পলিমার প্রাপ্ত তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি প্রাকৃতিক পলিমার। এগুলো বিভিন্ন উদ্ভিদ, প্রাণী ও খনিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি এসব পলিমার প্রক্রিয়াকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার কৃত্রিম উৎস থেকে যেসব পলিমার পাওয়া যায় তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। পলিথিন, নাইলন, পিভিসি, টেফনল, মেলামাইন, রেজিন, বাকেলাইট ইত্যাদি কৃত্রিম পলিমার। এসব পলিমার প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। ফলে এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম বিদ্যমান থাকে। এছাড়া অধিকাংশ কৃত্রিম পলিমার পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় ভূমিকা পালন করে। মাটিতে বা পানিতে নিষ্ক্রিয় হওয়ায় এগুলো দ্বারা পরিবেশ দূষণ ঘটে।
পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় B যৌগ অর্থাৎ পলিথিন যৌগের ভূমিকা রয়েছে।
পলিথিন পরিবেশে অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায় বলে মাটিতে অণুজীব দ্বারা নিঃশেষিত হয় না। শহরাঞ্চলের পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালিতে জমা হয়ে পলিথিন তরল বর্জ্য অপসারাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে নগরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পলিথিন নদীর তলদেশে ক্রমশ জমা হয়ে নদ-নদীর নাব্যতা নষ্ট করে। কৃষিজমিতে পলিথিন জমা হয়ে
মাটির উর্বরতা নষ্ট করে যাতে উদ্ভিদের পুষ্টি সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে পলিথিন পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় ভূমিকা রাখে।
পলিথিন পরিবেশে ভারসাম্যহীনতায় যে ভূমিকা রাখে তা রোধে আমাদের কতকগুলো করণীয় ব্যবস্থা রয়েছে। পলিথিন পরিবেশের
দূষণে সহায়তা করার জন্য এর বিকল্প পণ্যের ব্যবহারের প্রচলন করতে হবে। পলিথিনের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে। ব্যবহার করতে হবে। যেখানে সেখানে পলিথিন না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। পলিথিন পানিতে মিশে মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে বলে এগুলো জলাশয় ও নদ-নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে পলিথিনের ব্যবহারের কুফল দিক তুলে ধরতে হবে। পরিবেশের যথাযথ আইন প্রয়োগ করে পলিথিনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে।
উপর্যুক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা রোধে আমরা পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!