যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া বলে।
যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌলের অন্য মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে তার যোজনী বলে। অপরদিকে, কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা হলো মৌলটির চার্জযুক্ত যোজনী। ভিন্ন ভিন্ন যৌগে একই যোজনী বিশিষ্ট মৌলের জারণ মান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন- CH4 এবং CCl4 উভয় যৌগে C এর যোজনী 4 কিন্তু CH4- এ C এর জারণ সংখ্যা -4 ও CCl4 এ +4 । অর্থাৎ, যোজনী ও জারণ সংখ্যা এক নয়।
সারণীতে মোট KI এর পরিমাণ 1+1+1+1 = 4 mL। KI এর আণবিক ভর = 39 +127=166
অর্থাৎ IM KI দ্রবণের ক্ষেত্রে,
1000mL 1M KI দ্রবণে দ্রবীভূত KI এর পরিমাণ 166 g
∴ 1 mL IM KI দ্রবণে দ্রবীভূত KI এর পরিমাণ
4 mL 0.5 M KI দ্রবণে দ্রবীভূত KI এর পরিমাণ = 0.332 g
উদ্দীপকে প্রদত্ত বিক্রিয়াটি পূর্ণ করে আমরা পাই,
Pb(NO3)2(g)+ 2KI(aq) → Pbl2(s) ↓ + 2KNO3(aq)
অর্থাৎ এক্ষেত্রে লেড আয়োডাইডের (Pbl2) হলুদ বর্ণের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন হবে।
বিক্রিয়ায় 1 mol লেড নাইট্রেট 2 mol পটাশিয়াম আয়োডাইডের সাথে বিক্রিয়া করে। লেড্ নাইট্রেটের ঘনমাত্রা S1, আয়তন V1 এবং পটাসিয়াম আয়োডাইডের ঘনমাত্রা S2 ও আয়তন V2 হলে -
এখানে,
S1 = 0.2 M [Pb(NO3)2 এর ঘনমাত্রা]
S2 = 0.5 M [KI এর ঘনমাত্রা]
V2= 1mL [প্রতি পাত্রে গৃহীত KI এর আয়তন]
V1 =প্রয়োজনীয় Pb(NO3)2 এর আয়তন
2 V1 S1 = V2 S2
বা, V1 = mL
বা, V1 =
= 1.25 mL
অর্থাৎ প্রতি পাত্রে ব্যবহৃত 0.5 M KI দ্রবণের 1mL, বিক্রিয়ার অপর বিক্রিয়ক 0.2M Pb(NO3)2 দ্রবণের 1.25 mL এর সাথে বিক্রিয়া করতে সক্ষম। সুতরাং, ১ম পাত্রের 6 mL দ্রবণের মধ্যে 4mL পানি এবং 1 mL 0.2 M Pb(NO3)2 দ্রবণ থাকায় সম্পূর্ণ KI বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে উৎপাদ PbI2(s) এর পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং পাত্রের দ্রবণটি কম হলুদ হবে।
অপরদিকে ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ প্রতিটি পাত্রে প্রয়োজনীয় 1.25 mL এর অধিক পরিমাণ 0.2M Pb(NO3)2 থাকায় সম্পূর্ণ KI বিক্রিয়া করে সমপরিমাণ Pbl2(s) এর হলুদ অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করবে। বিভিন্ন পাত্রে বিভিন্ন আয়তনের অতিরিক্ত Pb(NO3)2 এর দ্রবণ অবশিষ্ট থাকবে।
অর্থাৎ ২য়, ৩য়, ও ৪র্থ পাত্রে উৎপন্ন Pbl2(s) এর পরিমাণ একই হওয়ায় এবং ১ম পাত্রে উৎপন্ন Pbl2(s) এর পরিমাণ অপেক্ষা অধিক হওয়ায়, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ পাত্রের দ্রবণ ১ম পাত্রের দ্রবণটি অপেক্ষা অধিক হলুদ হবে।
Related Question
View Allযে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থগুলো উৎপাদে পরিণত হয়, কিন্তু উৎপাদ পদার্থগুলো পুনরায় বিক্রিয়কে পরিণত হয় না তাকে একমুখী বিক্রিয়া বলো হয়।
কোন বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিক্রিয়ার বেগ বৃদ্ধি পায়। অতএব, একটি উভমুখী বিক্রিয়ার শুরুতে সম্মুখ বিক্রিয়ার বেগ সবচেয়ে বেশী থাকবে এবং সময়ের সাথে বিক্রিয়ার পরিমাণ কমতে থাকবে ও উৎপাদের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। কাজেই সময়ের সাথে সম্মুখ বিক্রিয়ার বেগ কমতে থাকবে এবং বিপরীত বিক্রিয়ার বেগ বাড়তে থাকবে। এক সময় সম্মুখ ও বিপরীত বিক্রিয়ার বেগ সমান হবে। এই অবস্থাকে রাসায়নিক সাম্যাবস্থা বলে।
আমরা জানি, কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে। এ বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অপু ও সেতু উভয়ের বাসায় রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় তার রাসায়নিক নাম মিথেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে বা দহন করে তাপ উৎপন্ন করা হয়।
তাই সেতুর বাসায় জ্বালানির দহনে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ থাকায় জ্বালানির পূর্ণ দহনে দহন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
CH4(g) + 2O2 (g) → CO2(g) + 2H2O(g) + তাপশক্তি।
আবার অক্সিজেনের সরবরাহ কম হলে জ্বালানির আংশিক দহনেও দহন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। তাই অপুর বাসায় মিথেনের দহনে বিক্রিয়াটিও দহন বিক্রিয়া।
CH4(g) + O2(g) →CO(g) + 2H2O (g) + শক্তি
CH4(g) + O2 (g) → C(s) + 2H2O(g) + শক্তি
উপরিউক্ত সকল বিক্রিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেনকে বায়ুর উপস্থিতিতে পোড়ানো হয়। কাজেই রান্নায় সময় বাসায় সম্পন্ন বিক্রিয়া মূলত দহন বিক্রিয়া।
উদ্দীপকের আলোকে অপুর বাসায় রান্নার সময় পাত্রের নিচে কালো দাগ পড়ে। কিন্তু সেতুর বাসায় পাত্রের নিচে কোনো দাগ পড়ে না।
আমরা জানি, প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেনকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে পোড়ালে কার্বন-ডাই অক্সাইড, পানি ও প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। তবে দহনকালে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হলে মিথেনের আংশিক দহনে কার্বন মনো অক্সাইড/কার্বন ও কম তাপ উৎপন্ন করে এবং পাত্রের নিচে কালো দাগ সৃষ্টি হয়।
শক্তি
শক্তি
অন্যদিকে অক্সিজেনের সরবরাহ পর্যাপ্ত হলে জ্বালানির পূর্ণ দহন হয় এবং উৎপাদ হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় কিন্তু পাত্রের তলায় কোন কাল দাগ সৃষ্টি করে না।
CH4 (g)+2O2 (g) CO2(g) + 2H2O + শক্তি।
তাই উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, অপুর বাসায় রান্নার কাজে গ্যাসের অপচয় হয়।
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া বলে।
যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌলের অন্য মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে তার যোজনী বলে। অপরদিকে, কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা হলো মৌলটির চার্জযুক্ত যোজনী। ভিন্ন ভিন্ন যৌগে একই যোজনী বিশিষ্ট মৌলের জারণ মান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন- CH4 এবং CCl4 উভয় যৌগে C এর যোজনী 4 কিন্তু CH4- এ C এর জারণ সংখ্যা -4 ও CCl4 এ +4 । অর্থাৎ, যোজনী ও জারণ সংখ্যা এক নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!