'Ancient Society' গ্রন্থের লেখক সামাজিক নৃবিজ্ঞানের জনক লুইস হেনরি মর্গান।
মৃত স্বামীর যেকোনো ভাইকে বিবাহ করা হচ্ছে লেভিরেট বিবাহ।
লেডিরেট বিবাহ রীতিতে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী মৃত স্বামীর যেকোনো ভাইকে বিবাহ করে। প্রথাটি অবশ্য পালনীয় যদি ঐ বিধবার কোনো সন্তান থাকে। এ ধরনের বিবাহ প্রথার অপর নাম ভ্রাতৃবিধবা বিবাহ।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত স্থান পরিবার নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিকে নির্দেশ করে।
সমাজের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। এটি বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজন বা চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন প্রকার কাজ সম্পন্ন করে। বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমেই পরিবার তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এক সময় পরিবারের মূল কাজ ছিল নারী ও পুরুষের বিবাহ বন্ধন ও সন্তান-সন্ততির জন্মদান। কিন্তু ক্রমে এর কার্যাবলি বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত কাজ ছাড়াও পরিবার এখন অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজ করে।
প্রশ্নে উল্লিখিত ছকে সন্তান প্রজনন ও লালন-পালন, সামাজিকীকরণ, প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ, মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় জ্ঞানলাভের কথা বলা হয়েছে, যা মূলত পরিবারের কার্যাবলিকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত ছকের কার্যাবলি পরিবারের কার্যাবলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানব সমাজে উক্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ পরিবার বহুমাত্রিক কার্যাবলি সম্পাদন করে- আমি এ উক্তিটির সাথে একমত পোষণ করি।
পরিবার সমাজের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান তার বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এক সময় পরিবারের কার্যাবলি সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এর পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার এখনও সদস্যদের জৈবিক কাজ সম্পাদন করছে। এর ফলে নর-নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা। পরিবারের মাধ্যমে সমাজস্বীকৃত পন্থায় পূরণ হচ্ছে। পরিবার এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কাজও সম্পাদন করছে। পরিবারের নারী- পুরুষ এখন ভিন্ন ভিন্ন উপার্জনধর্মী অর্থনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করছে।
পরিবার থেকে শিশু ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে। এ শিক্ষার ফলে শিশু নিজেকে নৈতিক গুণ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন ধর্মীয় বাণী, ধর্মীয় আচার শিশুমনে নৈতিক শিক্ষার জন্ম দেয়। যে শিক্ষাবলে সে নিজেকে সমাজের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এছাড়া পরিবার শিক্ষামূলক কাজও করে। একটি শিশুকে সমাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারই দেয়। মানসিক যাতনা নিবারণেও পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন, অন্য কোনো কারণে না হোক, মনস্তাত্ত্বিক কারণে হলেও মানব সমাজে পরিবার টিকে থাকবে। এছাড়াও পরিবার রাজনৈতিক, চিত্তবিনোদনমূলক, রক্ষণাবেক্ষণসহ বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে। উপরের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, মানব সমাজের আদিম প্রতিষ্ঠান তথা পরিবার বহুমাত্রিক কার্যাবলি সম্পাদন করে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allআদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!