বায়ুর আনুভূমিক অবস্থাকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
স্থলভাগ ও জলভাগের তাপ গ্রহণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতার তারতম্যের ফলেই সমুদ্র বায়ুর উৎপত্তি হয়।
দিনের বেলায় সৌরতাপে তীরবর্তী স্থলভাগ সমুদ্রের পানি অপেক্ষা শীঘ্র ও অধিক উত্তপ্ত হয়। উত্তপ্ত স্থলভাগের সংস্পর্শে বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে উপরে ওঠে এবং তথায় নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এ সময় বায়ুচাপের সমতা রক্ষার্থে সমুদ্র হতে শীতল ও উচ্চচাপ বিশিষ্ট বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রভাবিত হয়ে সমুদ্রবায়ুর সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'খ' বায়ুপ্রবাহ হলো উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু।
বায়ুর চাপ বলয়ের অবস্থান নিরক্ষীয় নিম্নচাপ ও কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থানের কারণে উত্তর পূর্ব অয়ন বায়ুপ্রবাহ সংঘটিত হয়ে থাকে।
উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে উর্ধ্বে উঠে যায়। তখন ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কি.মি. বেগে প্রবাহিত হয়ে নিরক্ষরেখার উভয় দিকে শান্ত বলয়ের সৃষ্টি করে।
শীতকালে এ বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ বেশি থাকে।
উদ্দীপকের চিহ্নিত 'ক' ও 'খ' বায়ুপ্রবাহ হলো দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ও উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু। উভয় বায়ুপ্রবাহের মধ্যকার মূল ভিন্নতা হলো একটি অয়ন বায়ু দ্বারা অপরটি পশ্চিমা বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়। নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের উত্তর দিকে অক্ষাংশে থেকে অক্ষাংশের মধ্যে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়। অয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু বলে। এ বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কি.মি. বেগে প্রবাহিত হয়। নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে এ বায়ু অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে উর্ধ্বে উঠে যায়। এর প্রভাবে নিরক্ষরেখার উভয়দিকে শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। শীতকালে এ বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ বেশি থাকে অপরদিকে, দুই ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলের দিকে থেকে অক্ষাংশের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় বলে এর দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বলে। উষ্ণ থেকে শীতল অক্ষাংশীয় এলাকার দিকে প্রবাহিত হওয়ার ফলে সারাবছর কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়। এ বায়ু চলাচলের পথে রীতিমতো বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বজ্রঝড়, শক্তিশালী ঘূর্ণন প্রভৃতি সৃষ্টিতে এ বায়ু ভূমিকা রাখে। পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত এলাকা শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে শান্ত থাকে। এ বায়ুর বিশেষত্ব হচ্ছে শীতকালে বাতাস যেকোনো দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং কদাচিৎ ঘূর্ণিঝড় হয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবায়ুর অনুভূমিক গতিকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
সমুদ্রস্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এ বেঁকে যাওয়াই ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
ফেরেলের সূত্র দ্বারা প্রমাণ করে যে, আহ্নিক গতিতে পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ সূত্র অনুসারে অয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে। নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ এ স্থানীয় বায়ুর কথা বলা হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে এক ধরনের বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, একে স্থানীয় বায়ু বলে। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্বপার্শ্বের উষ্ণ ও শুষ্ক প্রবাহিত চিনুক বায়ু; পার্বত্য অঞ্চলের শীতল বায়ু পাহাড়ের উপত্যকার মধ্য দিয়ে সমভূমির দিকে প্রবাহিত ফন বায়ু; ফ্রান্সের রোন নদীর উপত্যকা দিয়ে শীতকালে দক্ষিণে সমভূমি ও দ্বীপ এলাকার দিকে প্রবাহিত মিস্টাল বায়ু; ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে যে নিম্নচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় তার পুরাভাগের সিরক্কো বায়ু এবং মিসরের দক্ষিণ দিক হতে মিশরে প্রবাহিত খামসিন বায়ু প্রভৃতি স্থানীয় বায়ু।
প্রত্যেকটি বায়ু স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তেমনি উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ুর বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-১ দ্বারা নিয়ত বায়ুকে নির্দেশ করে।
যেসব বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সবসময় একই দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় তাদের নিয়ত বায়ু বলে। ভূপৃষ্ঠের চাপবলয়গুলোর অবস্থান লক্ষ্য করলে বায়ুপ্রবাহের দিক সহজেই জানা যায়। বায়ুপ্রবাহ উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময়, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় হতে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে ওঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় হতে অয়ন নিয়ত বায়ু শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, কর্কটীয় ও মকরীয় বলয় হতে আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে পশ্চিমা নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়। আবার, মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় হতে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ – ৪০ বছরের আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
বায়ুর উষ্ণ ও শীতল অবস্থাকে বায়ুর তাপমাত্রা বলে।
তাপমাত্রার পরিমাপের উপর কোনো স্থানের জলবায়ু বহুলাংশে নির্ভরশীল। তাপমাত্রা বেশি হলে অঞ্চলটিতে উষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে। আবার তাপমাত্রা খুব কম বা মধ্যম হলে অঞ্চলটিতে যথাক্রমে মেরুদেশীয় অথবা নাতিশীতোষ্ণ বায়ুর সৃষ্টি হয়। এজন্য তাপমাত্রা জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।হসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
