আমি শহরেই জন্মেছি। বড় হয়েছি এই শহরেই। যদিও আমাদের গ্রামের বাড়ি আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে। ছোটবেলায় মা আমাকে নিয়ে একবার নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেটা আমার স্মৃতিতে থাকার কথা নয়। বাসে, ট্রেনে ভ্রমণের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার, কিন্তু নৌকাভ্রমণের কোনো অভিজ্ঞতা হয়নি। সেই সুযোগও একদিন এসে গেল। আমার ছোটমামার বিয়ে উপলক্ষে নৌকাযোগে গ্রামের বাড়িতে গেলাম। সপরিবারে যাচ্ছি বলে বড়মামা একটা বালাম নৌকা ঠিক করে রেখেছিলেন আগের দিন।
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি মা সবকিছু ঠিকঠাক করে রেখেছেন। ছোটবোন ফারহানাও তার লাল জামাটা পরে প্রস্তুত। বড়মামা কাপড়ের ব্যাগ, টিফিন কেরিয়ার ইত্যাদি গুছিয়ে ফেলেছেন। বাবা অফিস থেকে ছুটি পাননি বলে আমাদের সাথে যেতে পারছেন না।
সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আমরা নৌকায় গিয়ে উঠলাম। প্রথমদিকে মায়ের কড়া শাসনে আমি চুপচাপ ছইয়ের মধ্যে বসে থাকলাম। কারণ আমি তো সাঁতার জানি না। কিছুটা ভয়ও লাগছে। তবে শরতের নদী বলে বেশ শান্ত। ছোট ছোট ঢেউয়ে নৌকা দুলছিল। শুয়ে শুয়ে ছইয়ের ফাঁক দিয়ে নীল আকাশ দেখতে থাকলাম। শরতের আকাশ যে এত নীল হয়, তা আজই আমি প্রথম অনুভব করলাম। সাদা সাদা তুলোর মতো হালকা মেঘ ভেসে যাচ্ছে। দূরে উড়ে যাচ্ছে গাঙচিল, মাছরাঙা, বকের সারি। মাঝে মাঝে ভট ভট শব্দ করে ঢেউ তুলে ছুটে যাচ্ছে পাশ দিয়ে লঞ্চ, স্পিডবোট। বড়মামা টু-ইন-ওয়ানে সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের গান শুনছেন- মরমিয়া তুমি চলে গেলে, দরদিয়া আমার...।' বড়ই দরদ দিয়ে গাওয়া গানের সুর আমাকেও ক্ষণিকের জন্য তন্ময় করে ফেলেছে।
ফারহানা মায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাঝে মাঝে হাত ডুবিয়ে দিচ্ছে নদীর পানিতে। আমারও ইচ্ছে হচ্ছে নদীর পানিতে হাত ডুবিয়ে খেলা করতে। কিন্তু মাকে বলতেই মা প্রচণ্ড এক ধমক দিলেন। আমাকে ধমক দিতে দেখে মামা মহাকৌতুকে হেসে উঠলেন। আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম। মা মনে করে আমি এখনো ছোট্টটি রয়ে গেছি।
নৌকার মাঝি চারজন। বেশ দক্ষ মাঝি বোঝা যায়। খালি গা, কোমরে গামছা বাঁধা। মাথায় একটা পুরনো কাপড় পেঁচানো। নৌকাখানাও বেশ দশাসই। দুইপাশে চ্যাপটা গলুই। মাঝখানে ছবির মতো ছই উঠানো। কাঠের পাটাতনের ওপর হোগলা বিছানো, তার ওপর একটা পাতলা কাঁথা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে একাধিক বালিশ পাতা আছে। একপাশে একটা মাটির চুলা। সম্ভবত মাঝিরা এখানে রান্না করে খায়। নৌকা তখন মাঝনদীতে। কুলুকুলু ঢেউ, ছলাৎ ছলাৎ শব্দে গলা মিলিয়ে গান ধরল মাঝি-
আমি গহিন গাঙের নাইয়া, আমি গহিন গাঙের নাইয়া
আমি এপার হতে ওপারে যাই বাইয়া রে আমি,...
আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন ছায়াছবির কোনো দৃশ্য দেখছি। ততক্ষণে পালে হাওয়া লেগেছে। দূরে ছোট ছোট দোকানপাট, হাট-বাজার, দালান-ঘর, বাড়ি, গাছপালা দেখতে পেলাম। পেছনে আবছা ছায়ার মতো দিগন্ত। নদীর ঘাটে কেউ কাপড় ধুচ্ছে, মেয়েরা ঘোমটা মাথায় থালাবাসন মাজছে, কেউ-বা শিশুকে গোসল করাচ্ছে, ভরা কলসি কাঁখে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে গ্রাম্য বধূ। কিশোর দামাল ছেলেরা নদীর ঘোলা জলে লাফালাফি করছে, কেউ-বা সাঁতার কাটছে। জেলেরা জাল বাইছে। কেউ গরু গোসল করাচ্ছে নদীর জলে। এক জায়গায় দেখলাম একসাথে অনেকগুলো সারিবাঁধা নৌকা। কোনো কোনো নৌকা থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ছইয়ের ওপর রোদে দেওয়া শাড়ি। বড়মামা বললেন, ওগুলো বেদের নৌকার বহর।
তিনটার দিকে আমরা তালতলির ঘাটে গিয়ে পৌছলাম। তালতলির বাজারটা ঘুরে দেখা আমার খুব শখ। তালতলির বাজারে একটা ভাঙাচোরা চায়ের স্টলে চা খেলাম। গরুর খাঁটি দুধের চা। আমার কাছে অমৃতের মতো লেগেছে।
এখান থেকে আমাদের নৌকা ধলেশ্বরী হয়ে একটা ছোট খালে প্রবেশ করল। দুপাশে শান্ত সুন্দর বাড়িঘর। মাঝে মাঝে বর্ষার পানিতে ভেসে থাকা সবুজ ধানখেত, কচুরিপানার রঙিন ফুল আর জলজ উদ্ভিদের মদির গন্ধ, পানকৌড়ি আর ডাহুকের ডাক, ভেসে বেড়ানো হাঁসের দল, কাশফুলের শুভ্র হাতছানি সব মিলে বাংলার অপরূপ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ। মনে মনে বললাম সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।' সার্থক আমার নৌকা ভ্রমণ।
তারিখ: ১৭/০৯/২০২১
বরাবর
অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান সরকারি মহিলা কলেজ
বিষয়: কলেজ গ্রন্থাগার সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
সূত্র: স্মারক নং- জি. র, ম. ক; ৩০৫৭/২১বরিশাল।
জনাব
আপনার প্রেরিত চিঠি (স্মারক নং- জি, র, ম. ক; ৩০৫৭/২১) মোতাবেক কলেজ গ্রন্থাগারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যানুসন্ধানপূর্বক একটি প্রতিবেদন আপনার সদয় অবগতির জন্য পেশ করছি। -
কলেজ গ্রন্থাগারটির সংস্কার প্রয়োজন
কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত জিল্লুর রহমান সরকারি মহিলা কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত কলেজটি অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে কলেজটি বেশ কয়েকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। তবে কলেজ গ্রন্থাগারটি অযত্ন-অবহেলা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নানা সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে, যা এ কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। নিম্নে গ্রন্থাগারের সমস্যা-সংকুল বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো:
১. কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হলেও বর্তমানে গ্রন্থাগারটির অবস্থা খুবই করুণ। বইয়ের সংখ্যাও কম। তার মধ্যে রয়েছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সাথে সাথে গ্রন্থাগারটির উন্নয়ন মোটেই হয়নি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বইয়ের প্রয়োজন বাড়লেও বইয়ের সংখ্যা বাড়েনি; বরং কমেছে। অনেক ছাত্র-শিক্ষক বই নিয়ে আর ফেরতই দেয়নি। গ্রন্থাগারিক অনেক বই খুঁজে পাচ্ছেন না, এজন্য বইয়ের হিসাব মিলাতে পারছেন না। বিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর বইয়ের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা থাকলেও সেই পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয় না।
২. বর্তমানে কলেজের গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা মোট ৫,৫৫০টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম।
৩. কলেজের গ্রন্থাগারে বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতমানের বই থাকা দরকার। ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান ও পাঠগ্রহণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহায়ক বই দরকার। গ্রন্থাগারে রেফারেন্স বইয়েরও যথেষ্ট অভাব। তাছাড়া কলেজের গ্রন্থাগারের বইয়ের বিষয়, সংখ্যা ও মানের মধ্যেও সংগতি নেই। এর কারণ, কলেজের গ্রন্থাগারিকের পদটি শূন্য। একজন বাংলা শিক্ষক গ্রন্থাগারিকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাই তিনি প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না।
৪. গ্রন্থাগারে বই রক্ষণাবেক্ষণে বৈজ্ঞানিক কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় নাই। গ্রন্থাগারে ক্যাটালগ নেই। তাছাড়া বই ইস্যু এবং ফেরত নেওয়ার ব্যাপারেও কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না।
৫. গ্রন্থাগারে মোট বইয়ের সংখ্যার কোনো বিষয়ভিত্তিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। পুরাতন একটি পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও এর সঙ্গে বইয়ের কোনো মিল নেই।
৬. পাঠ্যবই ও বিজ্ঞান বিষয়ক বই নেই বললেই চলে।
৭. গত ২ বছর ধরে গ্রন্থাগারে নতন বা আধুনিক সংস্করার কোনো বই কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ শিক্ষাথাদের কাছ থেকে প্রতিবছর গ্রন্থাগারের জন্য চাঁদা আদায় করা হয়।
৮. বইয়ের তালিকা তৈরিতে কোনো বিজ্ঞানসম্মত পন্থা অনুসরণ করা হয়না।
৯. গুরুত্বপূর্ণ বইসমূহের অপরিহার্য পৃষ্ঠাসময়ে কাটা-ছেড়ার দাগ দেখা যায়। আবার কিছু বইয়ের ভেতরের কিছু পরী। খুজে পাওয়া যায় না।
১০. কতিপয় শিক্ষার্থী বিনা প্রয়োজনে গ্রন্থাগারে বসে আড্ডা দেয়। ফলে গ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনার কোনো পরিবেশ থাকে।
এসব নানা সমস্যা চিহ্নিত করে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থাগারটি শিক্ষার্থীদের আদৌ কোনো উপকারে আসছে না।
এ অবস্থায় নিম্নরূপ সুপারিশ করছি, যার বাস্তবায়নে গ্রন্থাগারটি শিক্ষার্থীদের যথার্থ উপকারে আসতে পারে :
১. গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত টাকা বরাদ্দ দিতে হবে।
২. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণের প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন বিষয়ের পর্যাপ্ত সংখ্যক বই ক্রয় করে গ্রন্থাগারে রাখতে হবে।
৩. সরকারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে অনুদান হিসেবে গ্রন্থাগারের জন্য বই সংগ্রহ করতে হবে।
৪. অতি দ্রুত প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগারিক এবং ক্যাটালগার নিয়োগ করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. গ্রন্থাগারের সকল পুস্তকের হিসাব গ্রহণ করে দশমিক পদ্ধতিতে তালিকা তৈরি করতে হবে।
৬. বইপত্র বাড়িতে ইস্যু করা এবং পাঠাগারে পড়ার উভয় রকম ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্যে ছাত্র/ছাত্রীদের দুধরনের গ্রন্থাগার কার্ড ইস্যু করা দরকার। বই ইস্যু করার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. বই যাতে চুরি কিংবা প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠা কেটে নিয়ে যাওয়া না হয়, সেজন্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৮. গ্রন্থাগারের জন্যে স্বতন্ত্র তহবিল গড়ে তুলতে হবে এবং তাতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া বার্ষিক চাঁদার যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৯. প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গ্রন্থাগারের জন্য বার্ষিক চাঁদা সহনীয় পর্যায়ে বাড়াতে হবে।
সর্বোপরি গ্রন্থাগারের সার্বিক উন্নয়ন ও তত্ত্বাবধানের জন্যে একটি গ্রন্থাগার কমিটি গঠন করে, তার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করলে গ্রন্থাগারের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করা যাবে বলে আমি মনে করি।
প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা: জান্নাতুল ফেরদৌস,
জিল্লুর রহমান সরকারি মহিলা কলেজ।
প্রতিবেদনের শিরোনাম: কলেজ গ্রন্থাগারটির সংস্কার প্রয়োজন।
প্রতিবেদন তৈরির সময় সকাল ১১:০০ টা।
Related Question
View Allচর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
তন্বী = তোন্নি
'তন্বী' (তন্বী) শব্দের উচ্চারণ হলো: তন্বী (তন্-বী)।
- বিশ্লেষণ: তন্ + বী (ন-ফলা)।
এটি একটি বিশেষণ পদ, যার অর্থ সাধারণত তনুগাত্রী, কৃশাঙ্গী বা সুক্ষ্মদেহী নারী।
চিত্রকল্প = চিত্ত্রোকল্পো
চিত্রকল্প শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: চিত্রোকল্প [cit̪rokol̪p]।
উচ্চারণের নিয়ম:
- চিন্-: চ-এ হ্রস্ব-ইকার।
- -ত্রোক-: 'ত্ৰ' (ত+র) যুক্তবর্ণটি 'ত্রো' উচ্চারিত হয়।
- -ল্প: প-এর শেষে 'অ' ধ্বনি প্রায় বিলুপ্ত হয় (হসন্ত)।
বিশ্লেষণ:
চিত্রকল্প -> চৎ + রোক + ল্প।
অন্য = ওন্নো
উদ্বেগ = উদ্বেগ্
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
'চর্যাপদ'-এর সঠিক উচ্চারণ হলো [tʃordʒapɔd] বা চোর্জাপদ্। 'চর্চা' (সাধনা/আচরণ) থেকে 'চর্যা' শব্দটি আসায়, এর উচ্চারণ 'চর্য্যাপদ' না হয়ে 'চর্যাপদ' বা 'চোর্জাপদ্' হিসেবেই প্রমিত, যেখানে আদ্য 'অ' য-ফলার প্রভাবে ও-কারান্ত [tʃo] ধ্বনি সৃষ্টি করে।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- চোর্-জা-পদ্ (Char-ja-pad)
- চ-এর সাথে য-ফলা (য) থাকায় এবং এটি প্রাচীন/তৎসম শব্দ হওয়ায় প্রথম 'অ' ধ্বনিটি ও-কারান্ত [o] রূপ নেয়।
- এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধন সঙ্গীত।
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদের সংকলন।
চর্যাপদ = চোর্জাপদ্
রাষ্ট্রপতি = রাশ্ট্রোপোতি
রাষ্ট্রপতি' শব্দের উচ্চারণ হলো: /রাস্ট্রোপোতি/ (Ra-stro-po-ti).
Wikipedia
বিশ্লেষণ:
- রা: স্বাভাবিক উচ্চারণ।
- ষ্ট্র: 'ষ' ও 'ট' যুক্তবর্ণটি 'স্ট' (sto) হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- প: 'প' এর সাথে 'তি' যুক্ত হয়ে 'পোতি' (poti) উচ্চারণ হয়, যেখানে 'প' এর সাথে 'ও' কারের মতো উচ্চারণ আসে.
প্রত্যাশা = প্রোত্তাশা
'প্রত্যাশা' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো: প্রোত্তাশা (Prôttasha)।
বিশ্লেষণ:
- প্র = প্রো
- ত্যা = ত্তা (ত-যফলা হলে উচ্চারণে ত্ত হয়)
- শা = শা
অর্থাৎ, প্রোত্-তা-শা।
সংবাদপত্র = শংবাদ্পত্ত্রো
সংবাদপত্র' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ হলো শংবাদ্পোত্ত্রো (shong-bad-pot-tro)।
উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- সং (shong): 'স' এর উচ্চারণ 'শ'-এর মতো এবং 'ং' (অনুস্বার) এর উচ্চারণ 'ঙ'-এর মতো।
- বাদ (bad): 'ব'-এ আকার (া) এবং 'দ'-এর উচ্চারণ স্পষ্ট।
- প (po): 'প' এর উচ্চারণ ও-কারের মতো।
- ত্র (ttro): 'ত্র' এর উচ্চারণ 'ৎত্র' বা 'ত্ত্র' এর মতো।
- পত্র (tro): 'ত্র' এর শেষে 'ও' কার (ো) উচ্চারিত হয়।
সহজভাবে: শং-বাদ-পোৎ-ত্রো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!