যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় অথচ পদটার জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে 'উপলক্ষণ' বলে।
সকল মানুষ হয় মরণশীল' জাতি আলোচনায় 'মানুষ' নামক পদটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতিও নয় উপজাতিও নয়। কিন্তু মানুষ নামক পদটিকে যখন এর থেকে কম ব্যাপক ছাত্র পদটির সাথে তুলনা করা হয় তখন 'মানুষ' নামক পদটি জাতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। তাই যখন বলা হয় 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' তখন 'মানুষ' পদ দ্বারা বৃহত্তর অর্থ বা জাতি অর্থে মানুষ নামক পদটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। কেননা 'সকল মানুষ' বলতে পৃথিবীর সব মানুষকেই নির্দেশ করে।
ছকে উল্লিখিত ৩ ও ৪নং স্তরটিতে যথাক্রমে জীব ও জড় এবং জড় ও জীবের মধ্যে সচেতন ও অচেতন প্রাণীকে নির্দেশ করা হয়েছে। ৩নং স্তরে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। যেমন- জীব ও জড় আর জীব থেকে দু'প্রকার জীবের ধারণা পাওয়া যায়। যেমন- সচেতন ও অচেতন। এই সচেতন জীব হলো মানুষ। মানুষ কথাটি বললে এর সাথে জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি উভয়কেই বোঝায়। তাই বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের দায়িত্ব হলো অন্যান্য প্রাণী ও জীবের সাথে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করা, তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা মানুষের কর্তব্য। এই পৃথিবীতে মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে পরিবেশের অন্যান্য যে প্রাণী ও জড়বস্তু রয়েছে। তা রক্ষা করা অবশ্যই জরুরি। এগুলোর অস্তিত্বের উপরে পরোক্ষভাবে মানুষের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। তাই মানুষের দায়িত্ব হলো অচেতন সব জীব ও জড়বস্তুর প্রতি সঠিক আচরণ করা যাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
"ছকের ষষ্ঠ স্তর বুদ্ধিবৃত্তি কর্তৃক জীবসত্তা অতিক্রমণ জীবসত্তার অস্বীকৃতি নয়।"- উক্তিটিতে দেখা যাচ্ছে যে, বস্তু থেকে সবকিছুর উৎপত্তি। বস্তু থেকে প্রথমে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অতীন্দ্রিয় বস্তুর উদ্ভব হয়। এরপর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দুই ধরনের বস্তু' আসে। যেমন- জীব ও জড়। জীবের আবার দুটি ভাগ। যথা- সচেতন জীব ও অচেতন জীব। সচেতন জীবের মধ্যে আবার বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সচেতন জীব রয়েছে। এই বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সচেতন জীব হলো মানুষ। জীব থেকে মানুষের মূল পার্থক্য হলো জীবের রয়েছে শুধু জীববৃত্তি, তারা বুদ্ধিবৃত্তিহীন। আর মানুষের রয়েছে জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি উভয়ই। মানুষ তার বুদ্ধিবৃত্তির দ্বারা জীব সত্তাকে অতিক্রমণ করতে পারে। কিন্তু এটা জীব সত্তার অস্বীকৃতি নয়। কারণ জীবসত্তাকে যদি অস্বীকার করা হয় তবে মানুষের নিজের সত্তাকেই অস্বীকার করা হয়। এজন্য দেখা যায়, ব্যক্ত্যর্থের দিক দিয়ে জাতি উপজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু জাত্যর্থের দিক দিয়ে উপজাতি, জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। জীব ও মানুষ পদ দুটির মধ্যে জীব পদটি জাতি এবং মানুষ পদটি উপজাতি। এদের মধ্যে ব্যক্ত্যর্থের বিচারে জীব পদটি বেশি ব্যাপক এবং মানুষ পদটি কম ব্যাপক। তাই এই জীব পদটি 'মানুষ' পদটিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু জাত্যর্থের দিক দিয়ে জীব পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি এবং মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি। এদিক থেকে মানুষ পদটি জীব পদকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে জীব সত্তার অতিক্রমণ জীবসত্তার অস্বীকৃতি নয়, বরং জীব সত্তাকে আরও বেশি মূল্য দেওয়া হয়।
Related Question
View Allযে গুণের কারণে একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে তার সমজাতীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করা হয় তাই হলো 'বিভেদক লক্ষণ'।
জাতির মধ্যে উপজাতি অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং উপজাতিকে জাতি নিজের মধ্যে ধারণা করে। এরা যদিও আলাদা তথাপি জাতির আলোচনা করতে গেলে উপজাতির চলে আসবে এবং উপজাতি আলোচনা করতে গেলে জাতি আবশ্যিকভাবে চলে আসে। কারণ জাতিকে যদি ব্যাখ্যা করতে চাই তবে উপজাতির সাহায্য নিই এবং উপজাতিকে বিশ্লেষণ করতে জাতির সাহায্য নিই। সুতরাং জাতি এবং উপজাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্যভাবে পরস্পরের সাথে জড়িত ও সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়ককে নির্দেশ করে।
উপলক্ষণ বিধেয়কের পাঁচটি শ্রেণির একটি। যে গুণ জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাই হলো উপলক্ষণ। যেমন- সকল মানুষ হয় চিন্তাশীল প্রাণী। এই 'চিন্তাশীলতা' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ। ঠিক তেমনি উদ্দীপকের বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি হলো মানুষ পদের উপলক্ষণ। মানুষ পদের জাত্যর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি। বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ নয়। কিন্তু জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত। তাই বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটিকে মানুষ পদের উপলক্ষণ বলা হয়। অর্থাৎ বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে এমন গুণ উল্লেখ করবে বা উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ নয় কিন্তু গুণটি জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূত।
বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি জাত্যর্থের অংশ না হয়েও জাত্যর্থ থেকে অপরিহার্যভাবে আসে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে বর্ণিত বিচক্ষণ ও যুক্তিবাদী গুণ দুটি উপলক্ষণ বিধেয়কের অন্তর্ভুক্ত। যা কোনো জাত্যর্থের অংশ নয় কিন্তু তা অপরিহার্যভাবে জাত্যর্থ থেকে এসেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যে বিষয়গুলো দেওয়া আছে, তথা ২৫ মার্চ, ভোজনরসিক এবং অন্যকে খাওয়ানো এগুলো বিধেয়কের অবান্তর লক্ষণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
অবান্তর লক্ষণ হলো যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে অনুমিত নয়। যেমন- ভোজন রসিক বা খাওয়ানো মানুষের একটা অবান্তর লক্ষণ। এই গুণাবলি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কিন্তু তা জাত্যর্থের অংশ নয় বা জাত্যর্থ থেকে আবশ্যিকভাবে নিঃসৃত হয় না।
অবান্তর লক্ষণ কোনো শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারে আবার ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে। অবান্তর লক্ষণ চার ধরনের হতে পারে। (ক) শ্রেণিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (খ) শ্রেণিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (গ) ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ (ঘ) ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
উদ্দীপকে যেসব অবান্তর লক্ষণ দেওয়া আছে তা মূলত ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণের সাথে সম্পর্কিত। ২৫ মার্চ অবান্তর লক্ষণটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ- ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো তাই যা ব্যক্তির মধ্যে সব সময় বর্তমান এবং তা কোনোক্রমে পরিবর্তন করা যায় না। শিক্ষক নোমান ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এটি অবিচ্ছেদ্যভাবে তার সাথে সম্পৃক্ত। কারণ তার জন্ম সাল বা তারিখ বদলে দেওয়া যাবে না। আবার, নোমান ভোজনরসিক ও খাওয়ানো যে গুণ তা হলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলো যা ব্যক্তির মধ্যে কখনো বর্তমান আবার কখনো অবর্তমান থাকে। ভোজনরসিক এবং খাওয়ানো নোমান সাহেবের মধ্যে আছে। কিন্তু এমন হতে পারে যে কিছুদিন পর তা তাঁর মধ্যে নেই। সুতরাং এটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
যুক্তিবিদ অ্যারিস্টেটল সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়কের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন এবং একে চার ভাগে ভাগ করেন।
সদর্থক যুক্তিবাক্যে শ্রেণিবাচক বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে সেগুলোকে বলা হয় বিধেয়ক। আর এই বিধেয়ক বিষয়টি যুক্তিবিদ্যায় সর্বপথম অন্তর্ভুক্ত করেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টেটল। তিনি বিধেয়ক-এর চারটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলো হলো- ১. সংজ্ঞা, ২. জাতি, ৩. উপলক্ষণ, ৪. অবান্তর লক্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
