Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(৪)(খ) এবং ধারা ১০ এর অপরাধগুলো অপহরণ বা জবরদখল সংক্রান্ত হলেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান, যা অপরাধের প্রকৃতি এবং শাস্তির মাত্রায় প্রভাব ফেলে। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগ গঠন এবং দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(৪)(খ) ও ১০ ধারার অপরাধের পার্থক্য:

ধারা ৯(৪)(খ) এর অপরাধ: এই ধারায় কোনো নারী বা শিশুকে অবৈধ যৌন সঙ্গম, বা অন্য কোনো অবৈধ ও নীতিবিরুদ্ধ কাজ করার উদ্দেশ্যে, বা বেআইনিভাবে বিবাহ বা জবরদস্তি বিবাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে, অথবা পতিতাবৃত্তি বা অন্য কোনো অনৈতিক পেশায় নিযুক্ত করার উদ্দেশ্যে অপহরণ, অপহৃতা বা জবরদখল করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই ধারার মূল বৈশিষ্ট্য হলো অপরাধীর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (specific intent)। অর্থাৎ, অপহরণ বা জবরদখলের পেছনে একটি বিশেষ অনৈতিক বা অবৈধ উদ্দেশ্য থাকতে হবে। এই অপরাধের শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে ১০ বছর কিন্তু অনধিক ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

ধারা ১০ এর অপরাধ: এই ধারায় সাধারণভাবে কোনো নারী বা শিশুকে অপহরণ বা জবরদখল করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এখানে ধারা ৯(৪)(খ) এর মতো কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই। অপহরণ বা জবরদখল সংক্রান্ত যেকোনো সাধারণ অপরাধ এই ধারার আওতায় পড়বে। এই ধারার শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

মূল পার্থক্য: মূল পার্থক্যটি হলো অভিপ্রায়ের (intent) উপর। ধারা ৯(৪)(খ) একটি উদ্দেশ্য-ভিত্তিক (purpose-specific) অপরাধ, যেখানে অপরাধীর একটি নির্দিষ্ট অনৈতিক অভিপ্রায় প্রমাণ করা আবশ্যক। অন্যদিকে, ধারা ১০ একটি সাধারণ অপহরণ বা জবরদখল (general abduction/kidnapping) এর অপরাধ, যেখানে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায় প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। ফলস্বরূপ, ধারা ৯(৪)(খ) এর অপরাধ ধারা ১০ এর চেয়ে অধিক গুরুতর এবং এর শাস্তিও তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে (যাবজ্জীবন কারাদণ্ড)।

১০ ধারার অপরাধের জন্য অভিযোগ গঠন করে ৯(৪)(খ) ধারায় সাজা দেওয়া যায় কি?

উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সাধারণত একটি কম গুরুতর ধারায় অভিযোগ গঠন করে তার চেয়ে গুরুতর ধারায় দণ্ড দেওয়া যায় না, যদি না গুরুতর ধারার সমস্ত উপাদান অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে এবং অভিযুক্তকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানবেন এবং সেই অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন।

যদি ১০ ধারায় (সাধারণ অপহরণ) অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার চলাকালীন সময়ে দেখা যায় যে, অপরাধটি প্রকৃতপক্ষে ৯(৪)(খ) ধারার অধীনে পড়ে, অর্থাৎ অপহরণের পেছনে সুনির্দিষ্ট অনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তাহলে অভিযোগ সংশোধন বা অতিরিক্ত অভিযোগ (alteration/addition of charge) উত্থাপন করা আবশ্যক। অভিযোগ সংশোধনের পর অভিযুক্তকে নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। উচ্চ আদালত বারবার এই নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হননি, সেই অপরাধের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে এবং এতে অভিযুক্তের প্রতি অবিচার হতে পারে।

তবে, যদি অভিযোগপত্রে ১০ ধারার অধীনে অভিযোগ করা হলেও ঘটনার বিবরণ এমনভাবে দেওয়া হয় যে, ৯(৪)(খ) ধারার সমস্ত উপাদান (যেমন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য) সেই বিবরণের মধ্যে অন্তর্নিহিত থাকে এবং আদালত নিশ্চিত হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা ৯(৪)(খ) ধারার অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তার আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হননি, তাহলে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আদালত এমন দণ্ড প্রদান বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু এটি একটি বিরল পরিস্থিতি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এড়াতে অভিযোগ সংশোধন করাই শ্রেয়। মূলত, ১০ ধারার অভিযোগের ভিত্তিতে ৯(৪)(খ) ধারায় সরাসরি সাজা দেওয়া বিচারিক নীতি ও উচ্চ আদালতের প্রতিষ্ঠিত নজিরের পরিপন্থী।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
97

Related Question

View All
101
(খ)

প্রাপ্ত বয়স্ক এর নেতৃত্বে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়স্ক X, Y ও Z বংশাল মোড়ে ভিকটিম V এর গতি রোধ করেন এবং T এর হাতে থাকা পিস্তল প্রদর্শন করে V এর নিকট থেকে ৫০,০০০ টাকা ছিনতাই করেন। V এর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ T, X, Y ও Z. কে হাতেনাতে ধৃত করেন। পুলিশ সকল আসামীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখেন। পরের দিন একটি এজাহার রুজুক্রমে পুলিশ সকল আসামীকে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সকল আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণকরতঃ (শিশু আসামীদের নিরাপদ হেফাজতে রাখতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে সকল আসামীর বিরুদ্ধে একত্রে (চার্জশীট দাখিল করলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তা গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু আদালতে প্রেরণ করেন। এই ঘটনার বিভিন্ন স্তরে শিশু আইন, ২০১৩ এর যে সকল বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে তা আইনের সুনির্দিষ্ট বরাতসহ চিহ্নিত করুন। 

Add Explanation
95
96
108
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews