দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
অবকাঠামো প্রস্তুতি বলতে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রমকে বোঝায়।
অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম, যেমন-বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। অবকাঠামোগত প্রস্তুতি খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই অনেক গরিব দেশের পক্ষে এর বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হয় না।
দুর্যোগ এমন একটি অবস্থা বা ঘটনা যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্ম প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং যা জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। দুর্যোগ মূলত একটি অস্বাভাবিক অবস্থা, যা মানুষের জীবন, সমাজ ও সম্পদের ক্ষতিসাধন করে। অন্যদিকে দূষণও পরিবেশের অস্বাভাবিক অবস্থা। দূষণ ও দুর্যোগ পরস্পর সম্পর্কিত।
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ হচ্ছে- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি, নদীভাঙন প্রভৃতি। দূষণ সৃষ্টির প্রক্রিয়া ও এর প্রভাব অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনা সৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করে। যেমন- বায়ুদূষণের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটেছে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে। আবার দুর্যোগের ফলে দূষণ ঘটে। যেমন- অগ্ন্যুৎপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও অন্যান্য গ্যাস নির্গত হয়; যা পরিবেশ দূষিত করে।
তাই বলা যায়, দুর্যোগের সাথে দূষণের ওতপ্রোতভাবে সম্পর্ক রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ প্রক্রিয়ার মুখ্য উপাদান। দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর মূল কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পর পরই এর প্রক্রিয়ার অন্যান্য কার্যকমের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম, যেমন- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।
আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা। দুর্যোগের পর পরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর পর পরই দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের বিপুল ক্ষতিসাধন করে। একে মোকাবিলা করে আমাদের জীবন ও সম্পদকে রক্ষা করতে হবে এবং একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
Related Question
View Allবায়ুদূষণের একটি অন্যতম উৎস হলো শিল্পকারখানার ধোঁয়া।
দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
অর্থনৈতিক দূষণের প্রত্যক্ষ ফল হলো দরিদ্রতা। যেকোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন কারণে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয় অর্থাৎ দূষণের সম্মুখীন হয় তখন উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায় আর উন্নয়ন থমকে দাঁড়ালে একটি দেশে দরিদ্রতা নেমে আসে। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণ হয়। তাই বলা যায়, দরিদ্রতা অর্থনৈতিক দূষণের ফল।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস যার ভৌগোলিক অবস্থান নিচে দেখানো হলো।
বাংলাদেশের আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রসমূহ দেশের উত্তর-পূর্বাংশ, পূর্ব বাংলা এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সিলেট, ছাতক, রশিদপুর, তিতাস, কৈলাসটিলা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, সেমুতাং, বেগমগঞ্জ, কুতুবদিয়া, বিয়ানীবাজার, ফেনী, কামতা, ফেঞ্চুগঞ্জ, জালালাবাদ, বেলাবো, মেঘনা, শাহবাজপুর, সাঙ্গু, বিবিয়ানা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল ও বাঙ্গুরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এদের মধ্যে সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, যা ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির সারমর্ম হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে তেমনি কালো ধোঁয়ার হাত থেকে বায়ুদূষণ রোধ হয়।বাংলাদেশে ব্যাপক হারে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শিল্প ক্ষেত্রে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ফলে জ্বালানির কাজে ব্যবহৃত কাঠের বিকল্প হিসেবে গ্যাস অধিক গ্রহণযোগ্য। এর ফলে কাঠের ব্যবহার হ্রাস পায় যার ফলে বনজসম্পদ রক্ষা পায়। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, কয়লার ব্যবহার অধিক হারে বায়ুদূষণ করে। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো কালো ধোঁয়া নেই। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিক ব্যবহারের ফলে যেহেতু কাঠের ব্যবহার কম হয় তাই একদিকে যেমন বনজসম্পদ রক্ষা পায় অন্যদিকে কালো ধোঁয়া না থাকায় বায়ুদূষণ রোধ হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি সঠিক।
দুর্যোগ হলো এখন কোনো ঘটনা বা অবস্থা যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা যদি পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে তা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। কারণ পৃথিবীর সবকিছুই পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন পরিকল্পনা টিকে থাকে না। তাই উন্নয়নকে চিরস্থায়ী করতে অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
