একজন ব্যক্তি তার গুণাবলির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা দলকে লক্ষ্য অর্জনের দিকে পরিচালিত করার জন্য যে কৌশল বা পদ্ধতি প্রয়োগ করে তাই নেতৃত্ব।
অভাব অসীম। একটি অভাব পূরণের পর অন্য একটি অভাব পূরণের জন্য মানুষ ধাবিত হয়। আর এ অভাব ও অভাব পূরণের প্রচেষ্টা চক্রাকারে চলতে থাকার প্রক্রিয়াই হলো প্রেষণাচক্র।
একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রয়োজন ও অভিপ্রায় সম্বন্ধে সঠিকভাবে বুঝে সে অনুসারে কাজ করার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা সৃষ্টি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কাজ আদায় করে লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করা পর্যন্ত যে প্রক্রিয়া বা চক্র অবলম্বন করা হয়, তাকে প্রেষণা প্রক্রিয়া বা চক্র বলে। মানুষ অভাবের মধ্যে বাস করে। একটি অভাব পূরণ হলে নতুন আরেকটি অভাবের জন্ম হয়। এভাবে অভাব ও অভাব পূরণের প্রচেষ্টা চক্রাকারে চলতে থাকে বলে একে প্রেষণাচক্র বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রের P, Q, R ও S চিহ্নিত স্থানের চাহিদাগুলোর নাম যথাক্রমে নিরাপত্তা চাহিদা, সামাজিক চাহিদা, মানমর্যাদার চাহিদা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা।
চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুসারে অভাব বা চাহিদাগুলো পর্যায়ক্রমে মানুষের জীবনে আসে। একটি চাহিদা পূরণের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করা হয়।
প্রেষণার উল্লেখযোগ্য তত্ত্বগুলোর মধ্যে মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অন্যতম যেটি উদ্দীপকের চিত্রে পরিলক্ষিত হয়। তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে অনুভূত মানুষের চাহিদাগুলোকে কতকগুলো পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন। যথা- জৈবিক চাহিদা, নিরাপত্তার চাহিদা, সামাজিক চাহিদা, আত্মমর্যাদার চাহিদা ও আত্মপ্রকাশের চাহিদা। চিত্রে যেহেতু T চিহ্নিত স্থানে জৈবিক চাহিদা দেখানো হয়েছে। তাই মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী P, Q, R ও S চিহ্নিত স্থানের চাহিদাগুলোর নাম যথাক্রমে নিরাপত্তা চাহিদা, সামাজিক চাহিদা, মানমর্যাদার চাহিদা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা।
উদ্দীপকের চিত্রে (↑) চিহ্ন দ্বারা বোঝানো হয়েছে মানুষের চাহিদাগুলো পর্যায়ক্রমে অনুভূত হয়। অর্থাৎ একটি চাহিদা পূরণের পর অন্য চাহিদা দেখা দেয়।
চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুসারে উল্লিখিত অভাব বা চাহিদাগুলো পর্যায়ক্রমে মানুষের জীবনে আসে। একটি চাহিদা পূরণের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চাহিদাগুলো মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী পাঁচটি চাহিদার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে।
মানুষের সকল মৌলিক প্রয়োজন জৈবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। যেমন: খাদ্য, পানীয়, বাসস্থান, বস্ত্র ইত্যাদি। এ চাহিদা সব শ্রেণির মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক। জৈবিক চাহিদা পূরণের পর কর্মীরা নিরাপত্তার চাহিদা অনুভব করে। নিরাপত্তা চাহিদার অন্তর্ভুক্ত হলো শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা। কর্মীরা চায় বিভিন্ন রকম অনিশ্চয়তার নিরাপত্তা। যেমন: চাকরির স্থায়িত্ব, জীবন বিমা, ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা ইত্যাদি। সামাজিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত হলো ভালোবাসা, স্নেহ- মমতা, সহানুভূতি ইত্যাদি পাওয়া। নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের পর এ ধরনের চাহিদার উদ্ভব হয়।
উপরের তিনটি চাহিদা পূরণের পর মানুষ আত্ম-মর্যাদা বা আত্ম- সম্মানের চাহিদা অনুভব করে। কর্মীকে পদমর্যাদা, কাজের স্বীকৃতি ও বিভিন্ন উপাধি দান করে পরিতৃপ্তি প্রদান করা যায়। আত্মমর্যাদার চাহিদা পূরণের পর মানুষ নিজেকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে চায়। নিজেকে প্রতিষ্ঠার জন্য সে তার সুপ্ত প্রতিভাকে বিকাশ করতে চায়। রাজনীতি করা, সাহিত্যচর্চা, ছবি অঙ্কন ইত্যাদি কাজ করে নিজের সৃজনশীলতা ও বিশেষ উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটিয়ে মানুষ এ ধরনের চাহিদা পূরণ করতে সচেষ্ট হয় এবং পরিতৃপ্তি লাভ করে।
সুতরাং বলা যায়, চিত্রে (↑) চিহ্ন দ্বারা বোঝানো হয়েছে মানুষের চাহিদাগুলো পর্যায়ক্রমে অনুভূত হয়।
Related Question
View Allন্যূনতম বাঁচার বা জীবনধারণের প্রয়োজনকে জৈবিক চাহিদা বলে।
প্রখ্যাত মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক হার্জবার্গ প্রেষণার Y তত্ত্বের প্রবক্তা।
এরূপ তত্ত্বে কর্মীদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে মনে করা হয় কর্মীরা কাজ করতে পছন্দ করে এবং তারা স্বউদ্যোগেই চলতে চায়। এ কারণে কর্মীদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে তাদের স্বেচ্ছায় কাজ করতে দেওয়া হয়। এ তত্ত্ব কর্মীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই Y তত্ত্বকে ইতিবাচক বলা হয়।
উদ্দীপকের কর্মপরিবেশ অনার্থিক ইতিবাচক প্রেষণা।
অর্থ বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে প্রেষণাদানের যে সকল উপায় রয়েছে তার মাধ্যমে প্রেষণাদানকেই অনার্থিক প্রেষণা বলে। তেমনি একটি প্রেষণা হলো সুষ্ঠু কার্যপরিবেশ। কর্মী যে পারিপার্শ্বিকতায় কাজ করে তা কর্মবান্ধব হওয়াকেই সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। পর্যাপ্ত জায়গা, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সাজানো- গুছানো পরিবেশ, উপযুক্ত নিয়ম-রীতি, উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক সবমিলিয়েই প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে। কর্মী যেখানে কাজ করে সেই স্থানের পরিবেশ উন্নত হলে তা কর্মীদের মনোবল উন্নত করে। তখন কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে।
উদ্দীপকে M & M কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কর্মীদের কর্মপরিবেশ বহুলাংশে বৃদ্ধি করায় শ্রমিক-কর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছে। এর ফলে কর্মীদের মনোবল উন্নত হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে। তখন প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সহজেই অর্জন করতে পারে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ একটি অনার্থিক ইতিবাচক প্রেষণা।
অর্থ ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সাথে সম্পৃক্ত প্রণোদনামূলক ব্যবস্থাকে আর্থিক প্রেষণা বলে। এ আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতিকে বৃদ্ধি করে।
ব্যবস্থাপনার কাজ হলো অন্যের দ্বারা কাজ সম্পাদন করিয়ে নেওয়া। কিন্তু কাজের ব্যাপারটি বিশেষভাবে কর্মীদের কার্য সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কিত। আর উচ্চ কার্য সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে প্রেষণা। তন্মধ্যে আর্থিক প্রেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এবং কাজের প্রতি কর্মীদের অধিক আন্তরিক করে তোলে। ন্যায্য বেতন, মুনাফার অংশ, বোনাস, আর্থিক নিরাপত্তা, অগ্রিম, বাসস্থান ভাতা, যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পদোন্নতি, আর্থিক পুরস্কার, রেশন সুবিধা, কেন্টিন সহযোগিতা ইত্যাদি নানা প্রকার আর্থিক সুবিধা কর্মীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। ফলে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে M & M কোম্পানি বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনের জন্য প্রত্যেককে বোনাস প্রদানের ঘোষণা দেয়। এর ফলে শ্রমিক-কর্মীরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে সেই সাথে কর্মীদের কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ মানুষের জীবনে যে সীমাহীন অভাব লক্ষণীয় তার মুখ্য অংশের পূরণ অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। কর্মীরা যখন আর্থিক প্রেষণা পায় তখন তারা আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে তাদের উৎপাদন কার্য চালিয়ে যায়। এতে কর্মীরা কাজে উৎসাহিত হয় এবং গতি বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং 'আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতিকে বৃদ্ধি করে'- কথাটি যথার্থ।
সমাজের অন্যদের থেকে বা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের থেকে নিজেকে একটু উচ্চতায় এবং উপরে উঠার আগ্রহকে আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলে।
কর্মীদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে সেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে।
মনোবল মানসিক শক্তি সংশ্লিষ্ট। কর্মীদের মানসিক অবস্থা যদি প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক হয় তবে কর্মীর মনোবল উত্তম বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য উত্তম প্রেষণার ব্যবস্থা করলে কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বাড়ে যা তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে। তাই প্রেষণার সাথে কর্মী মনোবলের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!