ভালোবাসার মৃত্যু।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীর ভূমিকার ব্যাখ্যা করা হলো বর্তমানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাজীবন এমন একটা সময়, এ সময় শিক্ষার্থী জীবনের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, বা উদ্দেশ্য ঠিক করে এবং নিজেকে সুন্দর দিকনির্দেশনা দানের মধ্য দিয়ে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। এ বয়সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের বাধা ও প্রলোভন আসে, যা তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে; এর ফলে ব্যক্তির মনে আসতে পারে অশান্তি। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিষয়গুলো মূলত নির্ভর করে তা হচ্ছে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা যদি নিজেদের মধ্যে প্রকৃত মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারি তবে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি বিরাজ করবে।
মূলকথা: শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা।
উদ্দীপকের'?' চিহ্নিত স্থানে শান্তি' শব্দটি হবে। এর ব্যাখ্যা হলো-
শান্তি হচ্ছে উৎকণ্ঠাহীনতা তথা একটা মানসিক প্রশান্তিপূর্ণ অবস্থা। সমাজের মানুষের মানসিক শান্তি চারিদিকে বিস্তৃত হয়, আবার শান্তি হচ্ছে এমন একটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা যেখানে সর্বদা বিরাজ করে একতা; অর্থাৎ বলা যায়, শান্তি হচ্ছে অরাজকতা, যুদ্ধ, হিংসা, ক্রোধ, কলহ, অপরাধবোধ ইত্যাদি না থাকার অনুভূতি। এসবের পরিবর্তে শান্তি হচ্ছে এমন অবস্থা, যেখানে আছে একতা, গভীর নীরবতা, যা মানুষকে তার প্রকৃত সত্তা বা অস্তিত্ব বুঝতে বা জানতে শেখায়, নাগরিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে, সেবার মনোভাব গড়ে ওঠে, ন্যায়পরায়ণতা বিরাজ করে এবং বন্ধুত্বের মনোভাব গড়ে ওঠে। তাই বলা যায়, শান্তি হচ্ছে মনুষ্যত্ব বিকাশের একটি উত্তম বা সর্বোকৃষ্ট মাধ্যম। প্রভু যীশুখ্রিষ্ট হলেন শান্তিরাজ। তিনি এ জগতে মানুষের মাঝে শান্তি দিতে এসেছেন। তাইতো তিনি তাঁর পুনরুত্থানের পর তোমাদের শান্তি হোক' বলে শিষ্যদের উপর তার শান্তি ছড়িয়ে দিয়েছেন। খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলে ও তাঁর দেওয়া শান্তি গ্রহণ করে আমরা শান্তির মানুষ হয়ে উঠতে পারি।
শান্তি সবাই চায়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শান্তি চায় বা শান্তিতে জীবনযাপন করতে চায়। একটু শান্তির পরশ পাওয়ার জন্য মানুষ কত কি না করে। সমাজ ও দেশের কিছুসংখ্যক মানুষের উপর কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয়ে থাকে। যেমন: শিক্ষাকাজে নিয়োজিত শিক্ষক, দেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসরকারি কর্মকর্তা ও অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শান্তির জন্য কাজ করে থাকেন। পৃথিবীতে আবার এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা শান্তির জন্য তাদের নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন। পোপ দ্বিতীয় জন পল সহিংসতা বন্ধের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন; তিনি বিশ্বশান্তি দিবসের মূলভাব হিসেবে সহিংসতা নয়, শান্তি চাই' স্লোগানের মধ্য দিয়ে সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন করেছিলেন। শান্তি হচ্ছে, সব সুখের মূল; আর এ শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মূলকথা: শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবার এগিয়ে আসা একান্ত কর্তব্য।
উদ্দীপকের তথ্যগুলো সহিংসতা প্রতিরোধে পুরোপুরি সমর্থ বলে আমি মনে করি। এর বিশ্লেষণ হলো-
সময়ানুবর্তিতা: শান্তি প্রতিষ্ঠায় সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয় তবে ভবিষ্যৎ জীবনকে তারা সঠিক ও সুন্দরভাবে গোছাতে পারবে; এর ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং সহিংসতা রোধ হবে।
সৎ বিবেক: ঈশ্বর মানুষকে বিবেক দিয়েছেন, একটি সত্যময় বিবেক হলো ঈশ্বরের নীরব কণ্ঠস্বর; সৎ বিবেকবান ব্যক্তি সুস্থ ও পবিত্র এবং তিনি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। সৎ বিবেকবান ব্যক্তি ভালো ও মঙ্গলজনক কাজ করেন, শান্তি কামনা করেন ও সহিংসতা থেকে মুক্ত থাকেন।
দায়িত্ববোধ: আমরা আমাদের প্রতিটি আচরণের জন্য দায়বদ্ধ, আমাদের প্রতিটি হ্যাঁ বা না হলে দায়িত্বশীল হ্যাঁ বা না। সঠিক সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্ত মানুষ হয়ে উঠি। দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব মানুষ নিজের ভুলগুলোও সহজেই স্বীকার ও গ্রহণ করতে পারে বা এগুলোকে জীবনের অংশ বলে মনে করতে পারে এবং নিজের দায়িত্বপালন সম্পর্কে সচেতন থাকে।
আত্মবিশ্বাস: আত্মবিশ্বাসের অর্থ হচ্ছে নিজেকে ও নিজের সামর্থ্যকে বিশ্বাস করা; মানবচরিত্র সমৃদ্ধকরণে এর অবদান অতুলনীয়। নিজের প্রতি যে যেমন আত্মবিশ্বাসী হয়, অন্যের প্রতিও তার ঠিক তেমনি হওয়া উচিত। তাই এ সময়টা আত্মবিশ্বাস সৃষ্টির উত্তম সময়।
ন্যায্যতা: যার যা পাওনা তাকে তা দান করাই হচ্ছে ন্যায্যতা; ন্যায্যতা মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করে। তাই ন্যায্যতা শিক্ষার মধ্য দিয়ে এ সময় শিক্ষার্থীরা ন্যায্যতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হলে শান্তি আসবে এবং সহিংসতা থাকবে না।
বন্ধুত্ব: বন্ধুত্ব হচ্ছে দুজন ব্যক্তির ভালোবাসাপূর্ণ অঙ্গীকার বা গৃহীত দায়িত্ব এবং এটি পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্নেহ-ভালোবাসার ওপর নির্ভরশীল। বন্ধুত্ব আমাদের একতা সৃষ্টিতে সহায়তা করে যা শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়।
আলোচ্য বিষয়গুলো হচ্ছে এক একটি গুণ, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যম, এ মাধ্যমগুলো অনুশীলন ও চর্চার মধ্য দিয়ে সহিংসতা প্রতিরোধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
মূলকথা: শান্তি হচ্ছে সব সুখের মূল।
Related Question
View Allশান্তি হচ্ছে মনুষ্যত্ব বিকাশের একটি উত্তম বা মাধ্যম।
যার যা পাওনা তাকে তা দান করাই মরা সর্বোৎকৃষ্ট মাথা মতা মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় হলো ন্যায্যতা। তাই ন্যায্যতা শিক্ষার মধ্য দিয়ে সহিংসতা দূর করা সম্ভব, যা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।
মূলকথা: যার যা পাওনা তাকে তা দান করাই ন্যায্যতা?
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সহিংসতা হবে। কারণ দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হিংসা-বিদ্বেষ, দলাদলি, মারামারি, কাটাকাটি, যুদ্ধবিগ্রহ, ভাংচুর, ধ্বংস, জ্বালাও-পোড়াও- এসব প্রতিহিংসামূলক চিত্রই প্রগতিশীল, কল্যাণকামী পৃথিবীর বিপরীতরূপ, যাকে এককথায় বলা যায় সহিংসতা। সহিংসতা বিষয়টি অনেক ভয়াবহ। সাধারণভাবে যা কিছু বৈধ নয় বা বৈধভাবে করা যায় না, তাকে সহিংসতা বলে। বলপূর্বক, শক্তি বা ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে জানমালের ক্ষতি সাধন হয়। সহিংসতা হলো বর্বরতামূলক কোনো কাজ, যেখানে জড়িত থাকে অমানবিকতা, অনৈতিকতা, ঘৃণা, ছলচাতুরী, ভণ্ডামি, অসাধুতা, অন্যায়, অবিচার ইত্যাদি। এর ফলে মানুষ। তার মনুষ্যত্ববোধ বিসর্জন দিয়ে আইনবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে মানুষের মধ্যে ধৈর্য ও সহনশীলতার অভাব লক্ষণীয়।
মূলকথা: '?' চিহ্নিত স্থানে সহিংসতা হবে।
পৃথিবীজুড়ে আজ সহিংসতার চিত্র বিরাজমান। এ সহিংসতা পরিবার, সমাজ, দেশ সর্বত্র ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। সহিংসতা হলো ভালোবাসার মৃত্যু। কেননা যখনই ভালোবাসার মৃত্যু হয়, তখন অমানবিক স্বভাব মানুষকে প্রভাবিত করে। মানুষ সৃষ্টিকর্তার রূপকে ঘৃণা করে ও অমানবিকরূপটি উন্মোচিত করে। সহিংসতার বিপরীত দিক হলো ভালোবাসা। যদি আমরা ভালোবাসায় বিশ্বাস করি, তাহলে আমরা আমাদের শত্রুকেও ভালোবাসব। এ কারণে প্রভু যীশুখ্রিষ্ট বলেছেন, তোমরা তোমাদের শত্রুকেও ভালোবাসবে।
এ কথা তিনি শুধু মুখেই বলেননি, তাঁর নিজ জীবনে শত্রুদের প্রতি ভালোবেসে দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সব দানের মহৎ দান হলো ভালোবাসা।
এ ভালোবাসা মানুষকে সাহসী ও উদ্যমী করে তোলে। একমাত্র ভালোবাসাই সহিংসতা দূর করতে পারে এবং সহিংসতার কুফল থেকে পরিবার, সমাজ বা দেশ রক্ষা করতে পারে। সুতরাং বলা যায়, সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র অবলম্বন হলো ভালোবাসা।
মূলকথা: ভালোবাসার মূত্যই হলো সহিংসতা।
আধ্যাত্মিক অর্থে সহিংসতা হলো ভালোবাসার মৃত্যু।
যার যা পাওনা তাকে তা দান করাই হচ্ছে ন্যায্যতা। ন্যায্যতা মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় হলো ন্যায্যতা। তাই ন্যায্যতা শিক্ষার মধ্য দিয়ে সহিংসতা দূর করা সম্ভব, যা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।
মূলকথা: যার যা পাওনা তাকে তা দান করাই ন্যায্যতা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!