মংলা বন্দর পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।
বন্দর গঠন ও এর উন্নতিতে পশ্চাদভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। বন্দরের মাধ্যমে যে অঞ্চলের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানি করা হয় তাকে ঐ বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে।
পশ্চাদভূমি কোনো পণ্যের স্থানীয় চাহিদা মিটাতে সক্ষম হলে তাকে উদ্বৃত্ত অঞ্চল বলে। এতে করে রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় আর ঘাটতি অঞ্চল হলে আমদানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চাদভূমি যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হয় তাহলে বন্দরের উন্নতি হয়। সুতরাং বন্দর গড়ে ওঠার পিছনে পশ্চাদভূমির ভূমিকা অপরিসীম।
নদীর তীরবর্তী বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো, নদীবন্দর নামে পরিচিত। চিত্রে 'A' স্থানটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু নদীবন্দরকে (বরগুনা, বরিশাল, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আরিচা নদীবন্দর) দেখানো হয়েছে। যেগুলো গড়ে উঠার পিছনে বিভিন্ন ভৌগোলিক নিয়ামকের অবদান রয়েছে।
চিত্রে উল্লিখিত নদীবন্দরগুলো গড়ে ওঠার জন্য নদীতে পানির পর্যাপ্ততা, বালুচর ও কর্দমমুক্ত খাত, সরল প্রকৃতির নদীখাত, পশ্চাদভূমির উপস্থিতি প্রভৃতি অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি থাকার কারণে নদীবন্দরগুলো গড়ে উঠেছে। এ কারণে নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার নদীতে চলাচল করে সহজে পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া করা যায়। নদীখাত বালুচর ও কর্দমমুক্ত হলে লঞ্চ, স্টিমার, নৌকা প্রভৃতি সহজেই পণ্যসামগ্রী নিয়ে বন্দর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবাহিত করতে পারে। তাছাড়া উক্ত নদীগুলো সরল প্রকৃতির বলে সহজে পণ্যসামগ্রী আমদানি, রপ্তানি করার জন্য এ অঞ্চলে নদীবন্দর গড়ে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, এদেশের নদীবন্দরের আশেপাশে ব্যাপক সমভূমি রয়েছে যেখানে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করে বন্দরে নিয়ে আসা যায়। আরও উল্লেখ্য যে, এদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীবন্দরগুলোর পাশে দীর্ঘ পশ্চাদভূমি রয়েছে। যে কারণে এ অঞ্চল থেকে পণ্যসামগ্রীগুলো নদীবন্দরে নিয়ে আসা সহজ হয়।
সুতরাং বলা যায়, আলোচিত নিয়ামকের কারণে চিত্রে উল্লিখিত স্থানগুলোতে নদীবন্দর গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'B' স্থানটি হচ্ছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে উক্ত সমুদ্রবন্দরের ভূমিকা তাপর্যপূর্ণ।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর। বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্য তথা অভ্যন্তরীণ শিল্পকারখানা, কৃষির উন্নয়ন, গোটা অর্থনীতিতেই চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের -আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শতকরা ৮০ ভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। এ বন্দরের মাধ্যমে প্রধান প্রধান পণ্যসামগ্রী আমদানি ও রপ্তানি 'করা হয় বলে এ বন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমদানি ও রপ্তানিজাত পণ্যসম্ভার সুষ্ঠুভাবে পরিবহন ও সরবরাহের জন্য এ বন্দর রেল, সড়ক ও জলপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। বর্তমানে এ বন্দরে ২৪টির মতো জাহাজ ভিড়তে পারে। তেলবাহী ট্যাঙ্কার ভিড়ার জন্য বন্দরে কতকগুলো, পৃথক নোঙর ঘাট রয়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক, চাঁ, চামড়া প্রভৃতি এবং আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রীর: মধ্যে খাদ্যশস্য, পেট্রোলিয়াম, শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি করা হয়।
সুতরাং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথা অর্থনীতিতে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের একটি নদী বন্দরের নাম হলো গোয়ালন্দ নদী বন্দর।
ভগ্ন উপকূল বন্দর স্থাপনে সহায়ক।
ভগ্ন উপকূলে বহু গভীর প্রশস্ত খাঁড়ি দেখা যায়। এরূপ অবস্থায় অধিকসংখ্যক জাহাজ এক সাথে পোতাশ্রয়ে অবস্থান করতে পারে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ভগ্ন উপকূলীয় এলাকাগুলো সামুদ্রিক ঝড়, প্রবল স্রোত প্রভৃতি দুর্যোগমুক্ত থাকে। তাই বন্দর স্থাপনের জন্য ভগ্ন উপকূল গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ক', 'খ' হলো যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও ঢাকা যেখানে ব্যবহৃত পরিবহন মাধ্যমটি হলো সড়কপথ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম হলো সড়কপথ। কৃষিকাজের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, বীজ এবং উৎপাদিত পচনশীল কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল প্রভৃতি জরুরি ভিত্তিতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহনের জন্য সড়কপথ অন্যতম মাধ্যম।
উদ্দীপকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতের জন্য উত্তম মাধ্যম হলো সড়কপথ। ঢাকা হলো বাংলাদেশের রাজধানী। আর চট্টগ্রাম হলো বাণিজ্যিক নগর। তাই এ দুই অঞ্চলের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপনে সড়কপথ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সড়কপথের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। অগণিত কৃষি ও শিল্প পণ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম অথবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পৌছানোর জন্য সড়কপথই একমাত্র গুরুতত্বপূর্ণ পথ। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এ পথে যাতায়াত করে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে এ পথ বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে 'ক' 'খ' হলো সড়কপথ এবং 'খ'-'গ' হলো বিমানপথ। নিচে সড়কপথ ও বিমানপথের ধরন বিশ্লেষণ করা হলো।" বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করার জন্য উন্নত রাস্তা/সড়ক অপরিহার্য। তবে সব অঞ্চলে যোগাযোগের জন্য ভালো সড়কপথ নেই। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে এক একটি অঞ্চলে সড়ক ব্যবস্থার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। গ্রাম, উন্নয়ন, পৌরসভা, শহর, নগর প্রভৃতির অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে জাতীয় জনপথ, জেলা বোর্ড সড়কপথ, উপজেলা সড়কপথ, ইউনিয়ন পরিষদ সড়কপথ রয়েছে।
অন্যদিকে আধুনিক যুগে বিমানে যাতায়াতের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমান সার্ভিসে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। বিমানপথ বাংলাদেশের পরিবহনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অভ্যন্তরীণ সার্ভিস ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম থেকে যশোর, কক্সবাজার, সিলেট প্রভৃতি স্থানে যাওয়া যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। তন্মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। এটি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এর পরেই চট্টগ্রাম শাহ আমানত এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানমন্দর রয়েছে
মংলা বন্দর পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।
কোনো একটি বন্দরে যে অঞ্চলের বহির্দ্ধায়ের কাজ করে সেই অঞ্চলকে উক্ত বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে।
অন্যভাবে বলা যায় যেসব স্থানের রপ্তানি দ্রব্যসমূহ কোনো বন্দরের মধ্যদিয়ে বিদেশে প্রেরণ করা হয় এবং ঐসব অঞ্চলের আমদানি দ্রব্যসমূহ ঐ বন্দরের মধ্য দিয়ে বিদেশ হতে আনয়ন করা হয়। সে অঞ্চলটি হলো উক্ত বন্দরের পশ্চাদভূমি। তাই বন্দরের উন্নতি বহুলাংশে এর পশ্চাদভূমির বিস্তার ও সমৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। পশ্চাদভূমি যত বেশি বিস্তৃত, জনবহুল, শিল্পপ্রধান ও সম্পদশালী হবে বন্দর তত বেশি অগ্রগতি লাভ করবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
