জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যদ্রব্য জারক রসের সহায়তায় ভেঙে সহজ, সরল, শোষণোপযোগী অণুতে পরিণত হয় তাকে পরিপাক বলে।
পরিপাক প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি অঙ্গের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। দাঁত দিয়ে চিবানোর মাধ্যমে খাদ্যবস্তু ছোট ও নরম হয়। পরিপাক নালির মাধ্যমে এই চর্বিত খাদ্যবস্তুগুলো পাকস্থলিতে আসে এবং পরিপাক ক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটে। পাকস্থলিতে খাদ্যবস্তু সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না। এ অবস্থায় অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে। এখানেই প্রধান পরিপাক কাজ চলে। এরপর বৃহদন্ত্রে খাদ্যবস্তুগুলো প্রবেশ করে এবং পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে।
চিত্রে 'B' দ্বারা ক্ষুদ্রান্ত্রকে বোঝাচ্ছে। ক্ষুদ্রান্ত্র পাইলোরিক স্পিংটারের পর থেকে শুরু হয়ে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রায় ১৭ ফুট দীর্ঘ একটি নল। ক্ষুদ্রান্ত্র খাদ্য পরিপাকে মূল ভূমিকা রাখে।
ক্ষুদ্রান্ত্রকে তিনটি অংশে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশ গ্রহণী, দ্বিতীয় অংশ মধ্য ক্ষুদ্রান্ত্র, শেষ অংশ নিম্ন ক্ষুদ্রান্ত্র। পিত্তনালি ও অগ্নাশয় থেকে একটি করে নালি একত্রে মিলিত হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের গ্রন্থিতে মুক্ত হয়। এই নালিপথে ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যে পিত্ত, অগ্ন্যাশয় রস ডিওডেনামে আসে। এছাড়া ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রন্থিগুলো আন্ত্রিক রস নিঃসরণ করে। এসব রসের মধ্যে খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম থাকে। ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে অসংখ্য আঙুলের মতো ভিলাই রয়েছে। ভিলাই শোষণে অংশগ্রহণ করে। ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রধান কাজ হলো খাদ্য পরিপাককারী পাচকরস নিঃসৃত করা। খাদ্য পরিপাক ও খাদ্যের সার অংশ শোষণ করা।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত অংশটি হচ্ছে যকৃত। যকৃত পেটের উপরিভাগে ডান দিকে অবস্থিত। এটি ডান ও বাম দুই লোবে বিভক্ত থাকে।
যকৃত শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি, যা অসংখ্য রাসায়নিক কাজ সম্পন্ন করে। এটি মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলির ডান দিকে অবস্থিত গাঢ় বাদামি বর্ণের অনেকটা ত্রিকোণাকার অঙ্গ। যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃত নালির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়। পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে। যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে।
যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজকে চর্বিতে পরিণত করে সঞ্চিত রাখে। যকৃত কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে। যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। যকৃত ভিটামিন A, D, E, K সঞ্চয় করে। ফলিক এসিডও সঞ্চয় করে। যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে। পরিশেষে বলা যায়, যকৃতের মাধ্যমে অসংখ্য রাসায়নিক কাজ সম্পন্ন হয় বলে একে রাসায়নিক কারখানার সাথে তুলনা করা যায়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allদেহ গ্লুকোজ শোষণ করে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে।
লালারস হচ্ছে লালাগ্রন্থি থেকে বের হওয়া এক ধরনের রস।
লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। এছাড়া লালারস খাদ্যকে পিচ্ছিল করে ও গলাধঃকরণে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো পরিপাকক্রিয়া। পরিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে গ্লুকোজ, প্রোটিন ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাট ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
পরিপাকক্রিয়ার সাথে জড়িত অঙ্গগুলো হলো- i. মুখবিবর, ii. গলবিল, iii. অন্ননালি, iv. পাকস্থলি, v. ক্ষুদ্রান্ত্র ও vi. বৃহদন্ত্র। শরীরের এ অঙ্গগুলো পৌষ্টিকনালি নামে পরিচিত। মুখবিবরে দাঁত দিয়ে চর্বণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তু ছোট ও নরম হয়। নরম খাদ্যবস্তু অন্ননালি হয়ে পাকস্থলিতে আসে। পাকস্থলিতে সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না। অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে। এখানে প্রধান পরিপাক কাজ চলে। এরপর খাদ্য বৃহদন্ত্রে আসে এবং পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়াও পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করতে পৌষ্টিকগ্রন্থির কার্যকারিতা রয়েছে। পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলোর মধ্যে লালাগ্রন্থি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন পাচক রস পরিপাকে সাহায্য করে।
খাদ্যকে দেহের গ্রহণ উপযোগী অবস্থায় পরিণত করতে পরিপাক ক্রিয়ার প্রয়োজন। সুমনের এ মন্তব্যটি যথার্থ।
খাদ্য হিসেবে আমরা যা গ্রহণ করি সেগুলোর অধিকাংশই বৃহৎ অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। অধিকাংশ খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার পর তা শরীরের কাজে আসে।
সাধারণত ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ভাতের প্রধান পুষ্টি উপাদান স্টার্চ শরীরের কোনো কাজে আসবে না। কারণ স্টার্চ অনেকগুলো গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই খাওয়ার পর স্টার্চ ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হলে দেহ গ্লুকোজ শোষণ করে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে। তেমনি প্রোটিন ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং খাদ্যের ফ্যাট ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হওয়ার পর দেহের কাজে লাগে। খাদ্যবস্তুকে শরীরে কাজে লাগাবার জন্যে খাদ্যের বড় বড় অণুগুলো ভেঙে ছোট ছোট সরল অণুতে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।
সুতরাং বলা যায়, সুমনের মন্তব্যটি যথাযথ ও সঠিক।
লালাগ্রন্থি থেকে যে রস বের হয় তাকে লালারস বলে।
ইমালসিফিকেশন বলতে পিত্তলবণ চর্বিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করাকে বোঝায়।
পিত্তলবণ অগ্ন্যাশয়ে তৈরি চর্বি হজমকারী লাইপেজ এনজাইমকে সক্রিয় করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!