রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশই হলো প্লাজমা।
রক্ত সংবহনের জন্য বিভিন্ন অঙ্গের 'পারস্পরিক সহযোগিতায় যে অঙ্গতন্ত্র গড়ে ওঠে তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে। রক্ত, রক্তবাহিকা ও হৃৎপিণ্ড নিয়ে এ তন্ত্র গঠিত হয়। এ তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত সমস্ত দেহে পরিবাহিত হয়।
উদ্দীপকের ছকটিতে A চিহ্নিত অংশটি হলো রক্তরস। মানবদেহে এর নানাবিধ কাজ রয়েছে। নিচে রক্তরসের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
রক্তরস রক্তকণিকাসমূহকে ধারণ করে এবং রক্তের তারল্য রক্ষা করে। এটি অন্ত্র থেকে খাদ্যসার ও পানি পরিবহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দেয়। রক্তরস শ্বসন গ্যাস, রেচন বর্জ্য, হরমোন, এনজাইম, অ্যান্টিবডি ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট অঙ্গসমূহে প্রেরণ করে। রক্তরসে বাইকার্বনেটরূপে দ্রবীভূত থাকে। রক্তরস অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে। এটি দেহের তাপের সাম্যতা রক্ষা ও রক্ততঞ্চনে ভূমিকা রাখে। রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো রক্তরসের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। রক্তরস যকৃত, পেশি ইত্যাদি অঙ্গে উৎপন্ন তাপশক্তিকে সমগ্র দেহে বহন করে দেহে তাপের সমতা রক্ষা করে। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানাবিধ কাজে রক্তরস ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' হলো লোহিত রক্তকণিকা। যার প্রধান কাজ দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করা। দেহে লোহিত রক্তকণিকার অভাব হলে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়। নিচে জটিলতাসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন ফুসফুস হতে অধিকাংশ অক্সিজেন দেহকোষে এবং সামান্য কার্বন ডাইঅক্সাইড কোষ হতে ফুসফুসে নিয়ে যায়। দেহে লোহিত রক্তকণিকার অভাব দেখা দিলে O₂ সংবহন ব্যাহত হবে এবং কোষীয় পর্যায়ে অক্সিজেন প্রাপ্তি কমে গিয়ে দেহের পুষ্টি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হবে ফলে দেহ দুর্বল ও ক্রমশ শুকিয়ে যেতে পারে। লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা ৫০ লক্ষের চেয়ে ২৫% কম হলে দেহে রক্তস্বল্পতা দেখা দিবে। অক্সিজেন সংবহন ছাড়াও লোহিত রক্তকণিকা দেহে অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা রক্ষা করা, রক্তের ঘনত্ব ও সান্দ্রতা রক্ষা, বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন তৈরি ইত্যাদি কাজ করে থাকে। দেহে লোহিত রক্তকণিকার অভাব দেখা দিলে শারীরবৃত্তীয় এসব কার্যক্রম ব্যহত হবে।
Related Question
View Allকোষঝিল্লিতে যে সকল এনজাইম উপস্থিত থাকে সেগুলোই মেমব্রেন এনজাইম।
নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ফেনলিক, স্টেরয়েড বা প্রোটিনধর্মী পদার্থ হলো হরমোন। হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হতে অল্প পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে রক্ত বা কলারস দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি দেহের দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে এনজাইম নালিযুক্ত গ্রন্থি বা বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এটি প্রোটিনধর্মী এবং এর কার্যপদ্ধতি দ্রুত ও ফল তাৎক্ষণিক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত টিস্যুটি হলো রক্ত। রক্তের তৃতীয় উপাদানটি হলো অণুচক্রিকা। অণুচক্রিকার কাজ রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ততঞ্চন ঘটানো। মানবদেহের কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তপাত হতে থাকে। রক্তপাত বন্ধ করার জন্য উক্ত স্থানে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধা প্রয়োজন। রক্তরসে অবস্থিত ১৩টি ফ্যাক্টর রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ততঞ্চনে অংশ নেয়। এদের ধারাবাহিক কার্যকারিতার ফলে রক্তজমাট বাঁধে। রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা-করা হলো-
i. ক্ষতস্থানের কলা ও অণুচক্রিকার বাতাসের সংস্পর্শে ভাঙ্গনের ফলে প্রম্বোপ্লাস্টিন নামক এনজাইম নিঃসরণ হয়।
ii. থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তে বিদ্যমান হেপারিনকে অকেজো করে দেয় এবং রক্তরসে অবস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে প্রোপ্তম্বিন ও অন্যান্য কিছু উপাদানের সাথে ক্রিয়া করে গ্লম্বিন উৎপন্ন করে।
iii. এরপরেই গ্রন্থিন রক্তে অবস্থিত ফাইব্রিনোজেন নামক প্রোটিনের সাথে মিলে ফাইব্রিন নামক সূক্ষ্ম তন্তুর সৃষ্টি করে।
iv. ফাইব্রিন মনোমার থেকে যে ফাইব্রিন পলিমার সৃষ্টি হয় তা ক্ষতস্থানে জালের আকার ধারণ করে।
v. এরূপ ফাইব্রিন জালকে রক্তকণিকাগুলো আটকে গিয়ে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধে।
নাদিমের রক্তচাপ পরীক্ষার আগে বেড়ে গিয়ে পরীক্ষা শুরুর পর তা পুনরায় স্বাভাবিক হয়। তার রক্তচাপ পরিবর্তিত হাওয়ার মূলে রয়েছে ব্যারোরিসেপ্টর। নিচে এর কার্যকৌশল বিশ্লেষণ করা হলো-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যারোরিসেপ্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যারোটিড সাইনাস ও অ্যাওর্টিক আর্চের প্রাচীর গাত্রে উচ্চচাপ ব্যারোরিসেপ্টর অবস্থান করে। হৃৎপিণ্ডে রক্তচাপের পরিবর্তন ঘটলে এই পরিবর্তন রক্তনালির প্রাচীরে সঞ্চালিত হয় ফলে সেন্সর তথা ব্যরোরিসেপ্টরগুলো উদ্দীপ্ত হয়। ব্যারোরিসেপ্টর রক্তনালির গাত্রে রক্তচাপের স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতা অনুধাবন করে এবং তা স্নায়ুর 'মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে, ফলে হৃদস্পন্দনের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। দেহে রক্তচাপ কমে গেলে ব্যারোরিসেপ্টরেরও সংকেত মাত্রা কমে যায়। এ তথ্য স্নায়ুর মাধ্যমে হৃদপেশির দেহের আর্টারিওল ও শিরায় প্রেরণ করে। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়। আবার রক্তের আয়তন কমে গেলে আয়তন রিসেপ্টর মস্তিষ্কে বার্তা প্রেরণ করে। ফলে পিটুইটারি গ্রন্থি কর্তৃক ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায়। উক্ত হরমোন রক্তের আয়তন বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্তচাপ বাড়ায়।
অপরদিকে রক্তের আয়তন কমে গেলে বৃক্কের অন্তর্বাহী ধমনির জাক্সটা গ্লোমেরুলার কোষ থেকে রেনিন এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তের আয়তন বাড়িয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
এভাবে ব্যারোরিসেপ্টর নাদিমের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক অবস্থায় পরিবর্তিত করে।
হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাই রক্তচাপ।
হৃৎপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে প্রকোষ্ঠ সমূহের ক্রমাগত সংকোচন প্রসারণ যে চক্রাকারে পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সংঘটিত হয়। নিচে ধাপগুলোর নাম দেওয়া হলো-
i. অলিন্দের ডায়াস্টোল
ii. অলিন্দের সিস্টোল
iii. নিলয়ের সিস্টোল
iv. নিলয়ের ডায়াস্টোল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
