উপরের ছক বা চিত্রে আইনের উৎসগুলো দেখানো হয়েছে।
আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের মতে, 'আইন হলো
মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।
আইন কেন মেনে চলা হয়- এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।
হবস, বেন্থাম, অস্টিন প্রমুখ চিন্তাবিদ মনে করেন যে, 'মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।' তাঁদের মতে, আইন না মেনে চললে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। তাছাড়া মানুষ আইন মেনে চলে, কেননা তা রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত ও প্রযুক্ত। মার্কসবাদীরা মনে করেন যে, পুঁজিবাদী সমাজে শাসক তার শ্রেণিস্বার্থে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনগণকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করে।
অপরদিকে রুশো, টি.এইচ গ্রিন প্রমুখ মনে করে যে, আইন ব্যক্তিস্বাধীনতাকে রক্ষা করে এবং এর পেছনে জনমতের সমর্থন রয়েছে বলেই মানুষ আইন মেনে চলতে আগ্রহী হয়।
উপরের মতবাদগুলোর সমন্বয় করে স্যার হেনরি মেইন বলেছেন যে, শাস্তির ভয় এবং আইন মেনে চলার উপকারিতা বা যৌক্তিকতার উপলব্ধি এ উভয় কারণেই মানুষ আইন মেনে চলে। লর্ড ব্রাইস মনে করে যে, নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তির ভয় এবং উপকারিতা বা যৌক্তিকতার উপলব্ধি এসব কারণে মানুষ আইন মেনে চলে।
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক কতটা নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ তা বোঝাতেই জন লক উক্তিটি করেছেন। আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আইনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া যথার্থভাবে স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়। স্বাধীনতার প্রধান ভিত্তি ও শর্তই হলো আইন।
২. আইনের অবর্তমানে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হয়। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
৩. আইন শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করে। আইন সংযত ও নির্দিষ্ট সীমারেখার গণ্ডিতে সকলকে আবদ্ধ রাখে।
৪. স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং সকলের নিকট উপভোগ্য করে তোলাই আইনের লক্ষ্য। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতার রক্ষক।
৫. আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরিধি সম্প্রসারিত হয়। রাষ্ট্র আইনের দ্বারা এমন এক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে যেখানে সুন্দর, সভ্য জীবনযাপনের অনুকূল অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। এ প্রসঙ্গে জন লকের উপরিউক্ত বক্তব্য যথার্থ।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!